পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গাড়ী নক্ষত্ৰবেগে ছটিল-—বাড়ীতে পেপছিলে, গাড়ী হইতে লাফাইয়া পড়িয়া মহেন্দু বাবা বলিলেন, “কই ? কোথায় ?” এমন সময় নলিনী কক্ষ হইতে বাহির হইয়া বারান্দায় আসিয়া দাঁড়াইল। গহস্বামীকে অভিবাদন করিয়া বলিল, “আপনিই মহেন্দুবাব ? আপনার কাছে আমার একটা ক্ষমা প্রার্থনা করবার আছে।” নলিনীর ভাবভঙ্গী ও কথাবাৰ্ত্তীয় মহেন্দ্রবাব একটা থতমত খাইয়া গেলেন। বাড়ী পৌঁছিয়াই যেরপে প্ৰহারের বন্দোবস্ত করবেন ভাবিয়াছিলেন, তাহাতে বাধা পড়িয়া গেল। মহেন্দুবাব জিজ্ঞাসা করিলেন, “কে আপনি ?” “আমার নাম নলিনীকান্ত মুখোপাধ্যায়। আমি মহেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের জামাতা। মহেন্দ্ৰবাব উকীলের বাড়ী গাড়োয়ানকে বলেছিলাম, সে আমাকে এখানে এনে ফেলেছে। . আমি আমার ভুল এই অলপক্ষণ মাত্র জানতে পেরেছি। এতক্ষণ চলে যেতাম। আপনাকে আনতে লোক গিয়েছে—আপনার কাছে ক্ষমাপ্রাথনা করে তবে যাব, এইজন্যে অপেক্ষা করছি।” এই কথা শুনিয়া মহেন্দ্র ঘোষের রাগ জল হইয়া গেল। তিনি নলিনীর হাত দুখানি নিজ হস্তে ধারণ করিয়া হো-হো শব্দে অনেকক্ষণ হাস্য করিলেন। শেষে বলিলেন, “মহিনের জামাই তুমি ? বেশ বেশ। দেখ, এখানে দুজন মহেন্দু বাব উকীল থাকাতে, মক্কেল নিয়ে মাঝে মাঝে গোলমাল হয় বটে। হয়ত মফঃস্বল থেকে কোনও উকীল, আমার কাছে এক মোকদ্দমা পাঠিয়ে দিলে, মক্কেল কাগজপত্র নিয়ে গিয়ে উপস্থিত হল তোমার বশরবাড়ীতে। কিন্তু জামাই নিয়ে গোলমাল এই প্রথম !”—বলিয়া মহেন্দ্র ঘোষ অপরিমিত হাস্য করিতে লাগিলেন। তাহার পর নলিনীকে লইয়া বৈঠকখানায় বসাইলেন। কিঞ্চিৎ গল্পগুজবের পর, নলিনীর জন্য একটি ভাড়াটিয়া গাড়ী আসিয়া উপস্থিত হইল। নলিনী তখন বিদায় গ্রহণ করিয়া নিজ বশরালয় অভিমুখে যাত্রা করিল। ll Ĝ Il এদিকে কেদারবাব উকীলের বাড়ীতে, সে অপরাহে পাশা খেলা আর ভাল জমিল না। মহেন্দ্র ঘোষ প্রস্থান করিলে, সেই সভায় অনেকে অনেক আশ্চৰ্য্য জয়াচরির গল্প করিলেন। অনেক পাগলের গল্পও হইল। ক্লমে সভাভঙ্গ হইল। উকীলগণ একে একে নিজ আলয়ে ফিরিয়া গেলেন। - মহেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ী শাগঞ্জ মহল্লায় । তিনি বাড়ী ফিরিয়া, চা ও তাওয়াদার তামাক হকুম করিলেন। আপিস কক্ষে ঈজিচেয়ারে বসিয়া, চা-পান করিতে লাগিলেন। ভূত্য একটি বহদাকার ছিলিম আলবোলায় চড়াইয়া, গর্লের আগমনে মদ মদ পাখার বাতাস করিতে লাগিল। চা-পান শেষ হইলে, মহেন্দ্ৰবাব আলবোলার নলটি মুখে করিয়া আরামে চক্ষ মুদ্রিত করিলেন। কিয়ৎক্ষণ এইরুপে কাটিলে পর, একটি ভাড়াটিয়া গাড়ী কম্পাউণ্ডের মধ্যে প্রবেশ করিল। উকীলের বাড়ী, কত লোক আসে যায়, মহেন্দুবাব কিছুই ব্যস্ত হইলেন না, কিন্তু চক্ষ উন্মীলন করিয়া বুহিলেন। বাহির হইতে শব্দ শুনিলেন, একটি অপরিচিত কণ্ঠস্বর বলিতেছে, “এই মহেন্দুবাবর বাড়ী?” “হাঁ বাব!” 4- দাও, יין খবর বল বার ੋਂ २४१