পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“আনন্দ-মঠ।”। মনে আছে আমার বয়স তখন একাদশ বষ মাত্র। সেই বৎসর নতন “আনন্দ-মঠ” বাহির হইয়াছে। আমার মেজদাদা মহাশয় কলিকাতায় কলেজে পড়িতেন, পজার ছটিতে বাড়ী আসিবার সময় বহিখানি আনয়ন করেন। তিনি আসিয়া হঠাৎ প্রচার করিয়া দিলেন যে তিনি একজন সন্তান, চিরদিন অবিবাহিত থাকিয়া দেশের জন্য জীবন উৎসগা করিবেন। গ্রামস্থ অন্যান্য নব্য যবেকগণের সহিত মিলিত হইয়া গোপনে অনেক পরামর্শ করিতে লাগিলেন। আমি জিজ্ঞাসা করিলে আমায় কিছুই বলিতেন না, —আশা দিতেন, বড় হইলে আমায় দীক্ষিত করিবেন। অত্যন্ত কুতহেলী হইয়া “আনন্দমঠ”খানি অনুসন্ধান করিলাম, কিন্তু মেজদাদা সেখানি কোথায় যে লুকাইয়া রাখিয়াছিলেন, কিছতেই পাইলাম না। হতাশ হইয়া অবশেষে তাঁহাদের মন্ত্রণাসভায় আড়ি পাতিলাম। যে ঘরে তাঁহাদের সভা বসিত, পর্বে হইতে একদিন সেই ঘরে চৌকীর নীচে লুকাইয়া রহিলাম। যাহা শুনিলাম, তাহা আর এক্ষণে প্রকাশ করিব না, কারণ দাদা মহাশয় এখন পর্বেবঙ্গের একজন ডেপটি ম্যাজিস্ট্রেট। সম্প্রতি একটি স্বদেশী মোকদ্দমায় কয়েকজন বিদ্যালয়ের বালককে জেলে দিয়া তাঁহার পদোন্নতির সম্ভাবনাও হইয়াছে। অনেকক্ষণ ঠান্ডা মেজেতে উপড় হইয়া পড়িয়া থাকার জন্যই হউক, অথবা অত্যধিক পরিমাণে কাঁচা তেতুল খাইয়াই হউক, ইহার একদিন পরেই আমি জনরে পড়িলাম। জর ছাড়িলেও কয়েক দিন অবধি আমার সাবধান পিতামাতা আমাকে সাগর বালি ভিন্ন কিছই খাইতে দিলেন না। পেটের জবালায় অস্থির হইয়া খাদ্যান্বেষণ করিতে করিতে হঠাৎ “আনন্দ-মঠ”খানি একদিন হাতে পড়িল। সেইদিনই সমস্ত বহিখানি পাঠ করিয়া ফেলিলাম। স্মরণ আছে, দভিক্ষপীড়িতগণ ইন্দর পোড়াইয়া খাইতেছে পড়িয়া আমারও মনে হইয়াছিল, আমিও এ সময় দই একটা পোড়া ইন্দর পাইলে খাইয়া ফেলি। তাহার পর হইতে যতই বয়স বাড়িতে লাগিল, বাঙ্গালা ইংরাজি বহু উপন্যাস গলাধঃকরণ করিতে লাগিলাম। নিজের দৈনন্দিন গদ্যময় জীবনটার উপর বড়ই অশ্রদ্ধা জন্মিতে লাগিল। অভিভাবকগণের নিবন্ধাতিশয় সত্ত্বেও বিবাহ করিলাম না; পর্বেরাগবজিত, অ্যাডভেঞ্চর-লেশ-হীন বিবাহ করিতে কিছতেই মন উঠিল না। উপন্যাসের নায়ক হইবার পক্ষে আমার একটা বিশেষ ব্যাঘাতও ছিল, তাহা আমার বাহ্যাবয়ব। চেহারাটি আমার মোটেই উপন্যাসের নায়কের মত নহে। কিন্তু বিধাতা যে কি উপায়ে কোন উদ্দেশ্য সিদ্ধ করেন, বকা কঠিন। এই অনায়- , কোচিত মত্তিই একদিন আমাকে উপন্যাসের সবগুনরাজ্যে অবতীর্ণ করিয়া দিল। বন্ধগণের প্ররোচনায় ডাক্তারি ব্যবসায় করিব বলিয়াই কৃতসংকল্প হইয়াছিলাম। গ্রামে বসিয়াই ডাক্তারি করিব-বিষয় সম্পত্তিও দেখিতে শনিতে পারিব। ঔষধ, আলমারি প্রভৃতি কিনিবার জন্য কলিকাতা যাত্রা করিলাম। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ - তখন বর্ষাকাল। কলিকাতায় প্রায়ই বটি হইতেছে। পবে যে মেসের বাসায় থাকিয়া পড়িতাম, সেইখানেই গিয়া উঠিলাম। সপ্তাহখানেক থাকিয়া, দেখিয়া শনিয়া, আসবাবপত্র কিনিব ইচ্ছা ছিল। প্রাতে উঠিয়াই প্রত্যহ গঙ্গাস্নান করিতে যাইতাম— এটি আমার বহুদিনের অভ্যাস। একখানি শতক বসন্ত্র ও গামছা কন্ধে করিয়া নগনপদে সাতটার পর্বেই সমানে বাহির হইতাম। গঙ্গানানের জন্য একযোড়া স্বতন্ত্র বসন্ত্র ছিল, কারণ সে সময় গঙ্গার জল অত্যন্ত ঘোলা, কাপড় ময়লা হইয়া যাইত। তিন চারিদিন কলিকাতায় অতিবাহিত হইলে, একদিন সনান করিয়া যেই মাত্র ঘাটে উঠিয়াছি. সিক্ত বসত্ৰখানি পরিবত্তন করিয়া প্রত্যাবত্তনের উদ্যোগ করিতেছি, এমন সময় ললি এট বা ন ন কয় ? আসিয়া, ইতস্ততঃ দটিপাত করিতে