পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


লোকটির সনানের বেশ ছিল না, কামিজের উপর চাদর লম্বমান ছিল। বয়স to: বৎসর। লোকটির চেহারা শাক, অনেক দিন ক্ষৌরকায না হওয়াতে মুখখানা দেখিতে বিস্ত্রী হইয়াছে,–যেন তাঁহাকে দেখিবার, যত্ন করিবার কেহ নাই বলিয়া, বোধ হইল। তিনি আসিয়া নানকারী ব্যক্তিগণের মধ্যে ব্যস্তভাবে যেন কাহাকে অন্বেষণ করিতে লাগিলেন। হঠাৎ আমার কাছে আসিয়া আমার প্রতি তীক্ষা দষ্টিপাত করিয়া বলিলেন, “বামন ঠাকুর ?” আমি ব্রাহ্মণ তাহাতে কোন সন্দেহ নাই—কিন্তু বামন ঠাকুর পদবীলাভ ইতিপবে কখনও ঘটে নাই। ভাবিলাম, বোধ হয় লোকটি আমাকে অন্য কোনও নিদিষ্ট ব্যক্তি বলিয়া ভ্ৰম করিতেছেন। আমাকে নিরক্তর দেখিয়া বাবটি অধীর হইয়া বলিলেন, “কি বিপদ! উত্তর দাও কেন ? কি বামন ঠাকুর ?” না হায়! ੋ ਜਾਂਦੇ বঝিলাম, বাবটি একজন রধিনি অন্বেষণ করিতেছেন। মস্তকে কি খেয়াল চাপিল, বলিলাম, “আজ্ঞে হ্যাঁ ।” “কোথাও চাকরি কর ?” “আজ্ঞে না।” “করবে ?” “পেলে ত করি।” “রাঁধতে জান ?” “আজ্ঞে জাতব্যবসা-ওটা আর জানিনে ?” “বাড়ী কোথা ?” “ফশোর।” ཨཱ་ཝཱ་ལཱ་ “শ্ৰীহারাধন মুখোপাধ্যায়।” “কলকেতায় কতদিন এসেছ ?” “এই চার পচিদিন হবে।” “আজ্ঞে তা নইলে কি থিয়েটার দেখতে এসেছি ?” বাবটি চটিয়া গেলেন। বলিলেন, “দেখ হ্যা, তোমার মুখটা ভাল নয়। তুমি বড় অসভ্য। ভদ্রলোকের সঙ্গে এই রকম করে কথা কইতে হয় ?” মনে মনে বড় আমোদ অনুভব করিলাম। ইহার রধিনিগিরি দিন দই করিয়া দেখিলে ক্ষতি কি ? এই এক অ্যাডভেঞ্চরের সযোগ জটিয়া গিয়াছে। সতরাং বিনীত হইয়া বলিলাম, “আজ্ঞে পাড়াগোঁয়ে মানুষ, কিছ জানি শুনিনে। তা, অপরাধ নেবেন না কত্তা।” বাবটি নরম হইয়া বললেন, “হঃ।” একটা চিন্তা করিয়া বললেন, “সত্যি বামন ? না বামন সেজেছ ? গলায় একগাছা পৈতে দিয়ে অনেক ব্যাটা হাড়ি মচি কলকেতায় এসে বামন হয় ।” হায় হায়, আমার মাত্তিটি কি তবে হাড়ি মচির বলিয়াও ভ্রম হওয়ার সম্ভাবনা ? বাবটির "সভ্যতা"র আমি বিশেষ প্রশংসা করিতে পারলাম না। প্রকাশ্যে, একটু বিনীত হাস্য করিয়া বললাম, “আজ্ঞে ও সব জাল জয়াচরির ধার দিয়েও যাইনে।” বাবটি আবার আমায় জেরা করিতে প্রবত্ত হইলেন— “আচ্ছা, কেমন বামন, গায়ন্ত্রী বল দেখি ?” আমি গায়ত্রী আবত্তি করিলাম। এই ভণ্ডামি করিবার সময় সাপবিত্র গায়ত্রী মন্ত্র উচ্চারণ করিয়া, মনে সাপরাধ ళ్యాణా হইল।