পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


- তৃতীয় পরিচ্ছেদ এইরূপে অভাবনীয় ভাবে পাচক ব্রাহ্মণ হইয়া বাৰটির পশ্চাৎ পশ্চাৎ চলিলাম। ভাবিতে লাগিলাম, অনেক আরাধনার পর অবশেষে আমার আদস্টে এই এক অ্যাডভেঞ্চর জটিল। দেখা যাউক, ইহার মধ্য হইতে কোনও রহস্যলাভ হয় কি না। বাবটির নাম কালীকান্ত রায়। ব্রাহ্মণ। তাঁহার বাসা চোরবাগানে। প্রবেশ করিয়া দেখিলাম, ক্ষুদ্র উঠানটিতে আমের অটি, পরিত্যক্ত ভাত তরকারী ও শালপাতার রাশি স্তপোকার হইয়া রহিয়াছে। উঠানের এক কোণে একটি জলের কল, তাহার পাবে" একটি হাউজ। নলের গলায় কাপড়ের পাড় দিয়া একটি বাঁশের চোঙা বাঁধা রহিয়াছে, তাহা বহিয়া জল হাউজে পড়িতেছে। কালীকান্তবাব প্রবেশ করিয়া, উদ্ধেৰ বিতলের বারান্দার পানে চাহিয়া বলিলেন-- “গিন্নী—অ গিন্নী”— তাঁহার গলার সবর শনিয়া বারান্দায় একটি বালিকা আসিয়া দাঁড়াইল। বলিল, “বাবা চেচিও না। মা এখন ঘুমাচ্ছেন।” সেই আমাদের প্রথম চারিচক্ষে মিলন। রোমিও ও জলিয়েটের অলিন্দ-দশ্য মনে সকন্ধে গামছা, হতে ভিজা কাপড়, পাচক-ব্রাহ্মণরপী রোমিও মগধনেত্ৰে দণ্ডায়মান। জলিয়েটের বয়স চতুদশ বর্ষ ছিল, আমার জলিয়েটের বয়সও তাহাই বলিয়া অনমান করিলাম। তাহার দেহবণটি ইতালীয় জলিয়েট অপেক্ষা কিছু মলিন হইলেও, কিন্তু মুখ চক্ষর সৌন্দৰ্য্য অপরাভূত। কালীকান্তবাব বলিলেন, “প্রিয়, আয় নেমে আয় দিকেন।” প্রিয় ? প্রিয়তমা না প্রিয়ম্বদা ? প্রিয়বালাও হইতে পারে। প্রিয়তমা না হইলেই ভাল। পথিবীশদ্ধে লোকই কি ‘প্রিয়তমা বলিয়া ডাকিবে ? প্রিয়বালা নামটি মধর। কিন্তু প্রিয়ম্বদা নামটি মধর এবং কাব্যগন্ধি। প্রিয়ম্বদা শকুন্তলার, কিন্তু প্রিয়বালা আধুনিক উপন্যাসের মাত্র। পায়ের চারিগাছি মল ঝুমঝম করিয়া, বালিকা নামিয়া আসিল। আসিয়া পিতার পাশেব দাঁড়াইয়া, তাঁহার মুখের প্রতি প্রশনযুক্ত দটিপাত করিল। আমাকে দেখাইয়া কালীকান্তবাব বলিলেন, “প্রিয়, এই একজন বামনঠাকুর এনেছি। সব যোগাড়-যন্তর করে দে।” হায়, এরপে সচনা ত কোন কাব্যেই লেখে না ! বালিকা কি পরীকন্যা ও রাজকন্যাদের গলপ পাঠ করিয়া, জাগ্রতে বা নিদ্রায় স্বপন দেখে নাই যে, তাহাকে বিবাহ করিবার জন্য কোন পাপময় রাজ্য হইতে একজন রাজপত্র আসিয়া দণ্ডায়মান ? তাহার কিশোর হদয়ে কোনও পাচক ব্রাহ্মণ কি ঈপ্সিতরাপে কখনও স্থান প্রাপ্ত হইয়াছে ? আমার কবিত্বময় চিন্তাস্রোতে বাধা দিয়া বাবা বলিলেন, “আটটা বাজে। দশটায় আপিসের ভাত চাই, পারবে ?” আমি বলিলাম, "আজ্ঞে, দেখি চেন্টা করে।” “যা হয় দটো ভাতেভাত । দলটো উনান জেবলে একদিকে ভাত একদিকে ডাল চড়িয়ে দাও। আমি বাজার থেকে মাছ কিনে আনি। তরী তরকারী সব ঘরেই আছে।” প্রিয় বলিল, “সব আছে।” অতঃপর বাব একখানি গামছা লইয়া মাছ কিনিতে বাহির হইলেন। "এইদিকে এস।”—বলিয়া প্রিয়, আমাকে সঙ্গে করিয়া অন্য বারান্দায় লইয়া গেল। একটি ঘরের শিকল খলিতে খুলিতে বলিল—”এই রান্নাঘর।” প্রবেশ করিয়া দেখিলাম, তখন চল্লীতে অগ্নিসংযোগ হয় নাই। বলিলাম, “এখনও - ২৯৩” । "