পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করিবার অভিপ্রায়ে বলিলাম, “আমি যে নতুন, কিছ জানিনে, তা শনলে তোমার বাবা আমায় রাখবেন কি ?—তাড়িয়ে দেবেন হয়ত।” আমাকে সান্ত্বনা দিয়া বালিকা বলিল—“আচ্ছা আমি কাউকে বলব না। আমি সব তোমায় দেখিয়ে শুনিয়ে দেব এখন, তুমি দুদিনে সব শিখে ফেলবে।” "তোমার মা জানতে পারবেন না ?" “মা কি কখনও রান্নাঘরে আসেন ? তিনি উপরেই থাকেন।” “তাঁর নাকি অসুখ করেছে শুনলাম ?” “কি অসুখ ?” "এই কোন দিন মাথা ধরে, কোন দিন কিছ। তাঁর জন্যে কোন ভয় নেই। তিনি খব বকেন বটে, কিন্তু উপর থেকেই বকেন। সিড়ি নামাওঠা করলে হাঁপিয়ে পড়েন।” “খবে বকেন নাকি? তাই বুঝি ঝি বামন সব পালায় ?” বালিকা এ কথায় যেন একট লজিত হইল। কথা ফিরাইবার জন্য জিজ্ঞাসা করিলাম, “তোমার নাম কি ?” “প্রিয়ম্বদা।” “প্রিয়বদা ? বেশ নামটি ত!” মেয়েটি লজ্জায় মাখ নত করিল। আবার জিজ্ঞাসা করিলাম—“তোমার ভাই বোন २ाiिं ?” - “আমার আপনার একটি ভাই।" “আরও যে দ্য তিনটি ছোট ছোট ছেলেমেয়ে দেখলাম?” "ওরাও আমার ভাই বোন। আমার এ মায়ের ছেলেপিলে।” তখন বঝিলাম, গহিণী প্রিয়ম্বদার বিমাতা। ঝি কেন আর রাখা হইবে না, তাহও বঝিতে পারিলাম। এই কোমলা বালিকার জন্য সহানুভূতিতে আমার হদয় ভরিয়া গেল । এই সময় বাব মাছ আনিয়া উপস্থিত করিলেন। বাহিরে দাঁড়াইয়া বলিলেন, “কত দর " “যা হয় চটপটু—বকলে ? বেশী বাহুল্য কোরো না। আমি আপিসে বেরিয়ে গেলে তার পর বাকী সব কোরো এখন "—বলিয়া তিনি উপরে উঠিয়া গেলেন। চতুর্থ পরিচ্ছেদ প্রথমে মনে করিয়াছিলোম, দিন দই রাঁধ নিগিরির আসবাদ গ্রহণ করিয়া আমার মাননীয় পবেবৰ্ত্তিগণের পন্থানসেরণ করিব-অর্থাৎ পলায়ন করিব। কিন্তু আজ একমাস যাবৎ পিথরনিশ্চলভাবে চাকরি করিতেছি। বলা বাহুল্য, প্রিয়মবদার সন্দের মুখখানি আমার স্বণশঙ্খলরাপ হইয়াছে। অথচ প্রিয়ম্বদা আমাকে এখনও রাঁধনি বামন বলিয়াই জানে। তবে তাহার ব্যবহারে বঝিতে পারি, আমাকে সাধারণ বামনঠাকুর হইতে একটা স্বতন্ত্র বলিয়াই সে মনে করে। প্রিয়ম্বদা মোটামুটি রকম বাঙ্গালা লেখাপড়া জানিত; আমি রান্নাঘরে বসিয়াই গহকায্যের অবসরে, তাহাকে পড়াইতে আরম্ভ করিয়াছি। এই একমাসের মধ্যে দই তিনখানি ভাল ভাল বাঙ্গালা বহি সে অধ্যয়ন করিয়া ফেলিয়াছে। একদিন আমায় সে বলিয়াছিল, "তুমি রাধনি বামন না হয়ে ইস্কুলের পণ্ডিত হলে না কেন ?” আমি বলিয়াছিলাম, “তাই করব মনে করেছি। তোমার বিয়ে হয়ে গেলে আমিও চাকরি ছেড়ে চলে যাব।” বিবাহের প্রসঙ্গে বালিকার গাল দটি রক্তাভ হইয়া উঠিল। পরে জানিয়াছি, প্রিয়-বদার ২৯৫