পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


একজন ঝি। বলিলেন, “একটি ঝি ডেকে এনেছি। কি করতে কমাতে হবে একে সব বলে, দাও।” দইদিন পবে, যতক্ষণ প্রিয় একেবারে শয্যাগত হইয়া পড়ে নাই, ততক্ষণ অবধি ঝি দাপ্রাপ্য ছিল। আজ সেই ঝি সপ্রাপ্য হইল। দিনকতক আগে আনিলে হয় ত মেয়েটা এত অধিক পীড়িত হইয়া পড়িত না। লোকটার প্রতি ঘণায় আমার অন্তঃকরণ বিষাক্ত হইয়া উঠিল। ছি ছি, দ্বিতীয়বার বিবাহ করিলে কি আপনার সন্তানের প্রতি এতই , নিৰ্ম্মম নিষ্ঠর হইতে হয় ? একেবারে কি কসাই হইয়াই উঠিতে হয় ? ডাক্তার নাই, ঔষধ নাই, পথ্যও নাই। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করিলাম, আজ আমি উপরে গিয়া প্রিয়বদাকে দেখিবই দেখিব; তাহার ঔষধ পথ্যের ব্যবস্থা করিব। আমি য়ে নিজে ডাক্তার সেজন্য আমি নিজেকে এই প্রথম অভিনন্দন করিলাম। যথাসময়ে বাব আপিসে বাহির হইয়া গেলেন। ছেলেরা (সন্ধীর ছাড়া) ইস্কুলে গেল । গহিণীর ভাত উপরে দিয়া আসিলাম। সব্বকমান্তে যখন অবসর হইল তখন সন্ধীরকে বলিলাম, “চল, তোমার দিদিকে দেখি।" সধীরের সহিত উপরে গিয়া প্রিয়ম্বদার কক্ষে প্রবেশ করিলাম । একটি মলিন ছিন্ন বিছানা মেঝের উপর পড়িয়া আছে। তাহাতে শুইয়া বালিকা ছটফট করিতেছে। আমি কাছে গিয়া শানের উপর বসিলাম। তাহার হাতখানি লইয়া বাঁললাম, ”প্রিয়, কেমন আছ ?” প্রিয় চক্ষু মেলিল। আমাকে দেখিয়া বলিল, “বামনঠাকুর ? আমার মাথা যে যায় ! কি করি ?” দেখিলাম প্রবল সন্দিজিম্বর। বলিলাম, “তোমার মাথা কামড়াচ্ছে ? আচ্ছা, এখনি আমি ভাল করে দিচ্ছি।” বলিয়া রান্নাঘরে গিয়া খানিকটা সরিষার তৈল গরম করিলাম। একটা সরায় করিয়া খানিকটা আগন লইলাম। উপরে গিয়া, প্রিয়মবদার পায়ের নীচে সেই গরম তৈল দশ মিনিট ধরিয়া জোরে মালিস করিলাম। তাহার পর জিজ্ঞাসা করিলাম “এখন মাথাটা কেমন আছে ?” প্রিয় বলিল, “অনেক ভাল। আর কষ্ট নেই।” তখন আবার প্রিয়মবদার নিকট গিয়া বসিলাম। ভাল করিয়া পরীক্ষা করিয়া, জিজ্ঞাসাবাদ করিয়া, একখানি প্রোকৃপসন লিখিলাম। বলিলাম, “প্রিয়, তুমি একটা শায়ে থাক । আমি একঘণ্টার মধ্যে তোমার জন্যে ওষুধ আনছি।” বলিয়া বাহির হইয়া, গাড়ী ভাড়া করিয়া, একটি প্রথম শ্রেণীর ঔষধালয় হইতে ঔষধ প্রস্তুত করাইয়া আনিলাম। > * সেদিন বৈকালের মধ্যে প্রিয় অনেকটা সস্থতা লাভ করিল। ཨ་ཏི་ཤྲཱི་མ་ আমি তিন চারিদিন চিকিৎসা চালাইলাম। প্রথম দিন মনে করিয়াছিলাম; ঔষধ পথ্যাদির ব্যবস্থা নিজ ব্যয়ে করিতেছি দেখিলে বাবা মহাশয় খাপা * দেখিলাম, তাহা কিছুই হইল না। অনুরাগও নাই, বিরাগও : অবহেলার। যায় যাক, থাকে থাক। আমি মনে মনে আশা করিতে লাগিলাম, আমি যখন বাবর নিকট তাঁহার জামাতৃপদপ্রাথী হইয়া উপস্থিত হইব, তখনও যেন এই অবহেলা ভরেই আমার হতে কন্যা সমপণ করিয়া দেন। কিন্তু শীঘ্রই এমন একটি ঘটনা ঘটিল, যাহাতে আমাকে আর আত্মপ্রকাশ করিয়া প্রাথী হইতে হইল না। পঞ্চম পরিচ্ছেদ প্রিয়ম্বদা দিন দিন আরোগ্যলাভ করিতে লাগিল। আমিও কাহারও বিনা আপত্তিতে Rఫెb*