পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


—তবে না হয়—বিবাহই করব।” “সেই ভাল কথা। এই আশিবন মাস সমখে। পজোর ছটি হলে, পশ্চিম বেড়াতে যাব। মধ্যপরে কি দেওঘর ঐ রকম কোথাও গিয়ে, পরতে ডেকে, বিয়ে দেব।” “আজ্ঞে, আবার অতদর নিয়ে যাবেন? এখানে হয় না ?” “এখানে ? রধিনি বামনের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিলে সমাজে আর মুখ দেখাতে পারব ? না না—সে হবে না। সেখানে বিয়ে হলে কেউ জানবে শনবে না, চাপ চাপ। এখানে এসে প্রচার করে দিলেই হবে যে একটি ভাল পাত্র পেয়ে বিয়ে দিয়ে এসেছি।” . ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ পজার ছটি হইল। বাব সপরিবারে দেওঘর যাত্রা করিলেন;—আমাকেও সঙ্গে লইলেন। এ পয্যন্ত প্রিয়ম্বদা এ সকল বিষয় কিছই শোনে নাই। তাহার পিতামাতা গোপনে পরামর্শ করিয়া, সব ঠিকঠাক করিয়াছেন। আমার একটি উকীল বন্ধ সেবার ছটিতে মধপর যাইতেছিলেন। তাঁহাকে বলিয়াছিলাম, আমার জন্য একখানি ভাল বাড়ী যেন ভাড়া করিয়া রাখেন। . শুভদিনে দেওঘরে আমাদের বিবাহ হইল। নববধকে লইয়া যাত্রা করিলাম। বশরমহাশয় অনুগ্রহ করিয়া নিজবায়ে আমাদিগকে যশোরের দইখানি তৃতীয় শ্রেণীর টিকিট কিনিয়া দিলেন। - যাত্রা করিলাম। তখন প্রিয়ম্বদা জানে আমরা যশোরেই যাইতেছি। - মধ্যপরে গাড়ী থামিলে, স্মীলোকের কামরা হইতে প্রিয়ম্বদাকে নামাইলাম। , প্রিয় বলিল “এখানে যে ?” আমি বলিলাম, “এখানে দিনকতক থেকে তারপর য়াওয়া যাবে।” যে বাড়ী ঠিক করা ছিল, সেইখানে গিয়া উঠিলাম। প্রিয় বলিল, “এ বাড়ী কার?” "এখন আমাদের। আমরা ভাড়া নিয়েছি। এইখানেই আমরা মাসখানেক থাকব দুজনে।” অপরাহুকাল। দুইজনে নিভৃতসখে বসিয়াছিলাম। এইবার প্রিয়ম্বদাকে সমস্তই বলিলাম। ভাবিয়াছিলাম, প্রিয় খাব আশ্চৰ্য্যান্বিত হইবে। কিন্তু প্রিয় বলিল, “আমি তা জানি।” “তুমি জান ? কেমন করে জানলে ?” "কেন, সেই যে তুমি আমাকে অসখের সময় একবার রবীন্দ্রবাবর কাব্য-গ্রন্থাবলী পড়তে এনে দিয়েছিলে, মনে পড়ে ?” “পড়ে।” "তার মধ্যে একখানি চিঠি ছিল। বোধ হয় তোমার কোনও বন্ধর চিঠি।” আশচয্য হইয়া বলিলাম, “বন্ধর চিঠি ? কার চিঠি বল দেখি ? কি লেখা ছিল তাতে ?” “নাম ত মনে নেই। তাতে লেখা ছিল, একি পাগলামি তোমার! জমিদারের ছেলে হয়ে, নিজে ডাক্তারি পাস করে, শেষে করছ রাঁধ নিগিরি? আরও সব লেখা ছিল।” তখন আমার স্মরণ হইল। এই উকীল-বন্ধ যিনি বাড়ী ভাড়া করিয়া দিয়াছেন, তিনিই সেই পত্র লিখিয়াছিলেন। তিনি আমার বিশেষ অন্তরঙ্গ বন্ধ। তাঁহাকে আমি পশ্যাবধি সব কথাই জানাইয়াছিলাম। তাঁহার চিঠিতে ওকথা লেখা ছিল,—আরও লেখা ছিল, যদি আমি "প্রভু”-কন্যার প্রেমেই আবদ্ধ হইয়া থাকি, তবে সত্বর নিজের পরিচয় দিয়া বিবাহ করিলেই ত পারি। প্রত্যহ হাঁড়িঠেলার ভিতর কি কবিত্ব আছে তাহা তিনি কলি না পায় আনা লিনা নি। wෂ ෆ