পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“আসামী চিনিবার জন্য।” “আসামী ত চিনিয়া দিলাম।” I “আরে না না, ছেলেদের ভাল করিয়া চিনিয়া রাখিবে এস। কাল কোনও ডেপুটি বাব আসিবে; অন্যান্য ছেলেদের সঙ্গে তাহদের মিশাইয়া দাঁড় করাইয়া দিবে। তখন তোমায় আসামী চিনিয়া বাহির করিতে হইবে। না পারলে, মোকদ্দমা ফাঁসিয়া ধাইবে, চালান হইবে না। থানায় এস, ভাল করিয়া সেই তিনজনকে চিনিয়া রাখ।” “দেরী হইলে সাহেব গোসা হইবে যে ।” “যাও সাহেবের কাছে ছটি লইয়া আইস !” - চাপরাসি গিয়া সাহেবের কাছে সকল কথা বলিয়া ছটি চাহিল। সাহেব ছাঁট দিলেন: এবং মনে মনে বলিলেন—“ড্যাম নেটিভ পলিস এই রকম dishonest-ই বটে।” দারোগা তখন বাজার ও অন্যত্র হইতে আরও তিন চারিজন লোক এরং সেই সওদাগরকে সাক্ষীস্বরপ ডাকাইয়া আনিল। পলিসের শাসনে, তাহারা যাহা দেখিয়াছে তাহা, এবং যাহা দেখে নাই তাহাও সাক্ষ্য দিতে স্বীকৃত হইল। অনেক রাত্ৰি পৰ্য্যন্ত থানায় বসিয়া স্বালকত্রয়কে চিনিয়াও লইল । এই মোকদ্দমার বিচারভার পড়িল ডেপুটি নগেন্দুবাবর উপর। সন্ধ্যা উত্তীণ হইয়াছে। ডেপুটিবাব কাছারি হইতে ফিরিয়া জলযোগাদি অন্তে, অন্তঃপুরের বারান্দায় বসিয়া আরাম করিতেছেন। নগেন্দ্রবাবর গহিণী বিংশতিবষীয়া যাবতী। তাঁহার নাম চারশীলা । চার্যশীলা আসিয়া, পতির পাশেব উপবেশন করিলেন; বলিলেন, “আজ মনটা এমন ভার ভার দেখছি কেন?” । নগেন্দ্রবাবু বলিলেন,—“না—এমন কিছ নয় ।” গহিণী কিন্তু শুনিলেন না। পীড়াপীড়ি করিতে লাগিলেন। শেষে ডেপুটিবাব বলিলেন, “ছেলেদের মামলাটা, এত লোক থাকতে, আমার ঘাড়েই চাপিয়াছে।” চারুশীলা বলিলেন, “তোমার কাছে হবে ? সে ত ভালই হল । আমার বরং ভাবনা ছিল ।” “কি ভাবনা ?” - “যে, কার কাছে বা মোকদ্দমাটা পড়ে, হয়ত সাহেবদের খসী করবার জন্যে অবিচার করে ছেলে তিনটিকে জেলেই পাঠাবে। তোমার কাছে হল, আমি নিশিচন্ত হলাম।” তাঁহার স্বাধীনচিত্ততায় স্ত্রীর এই সরল বিশ্বাসে ডেপুটিবাক মনে মনে একটা হাসিলেন। বলিলেন, “যদি প্রমাণ হয়, তা হলে ত ছেলেদের সাজা দিতে হবে। আমি ত আর অবিচার করে তাদের খালাস দিতে পারব না।” চারুশীলা বলিলেন, “ছি, অবিচার কেন করবে। যদি বাসতবিক প্রমাণ হয়, ওরাআমার আপনার ছেলে হলেও আমি খালাস দিতে বলতাম না। কিন্তু আমি যে রকম শনলাম, ছেলেদের ত কিছ দোষ নেই।” “কোথায় শনলে ?” "এই সেদিন মন্সেফবাবর বাড়ীতে বউভতের নিমন্ত্রণে গিয়েছিলাম, সেখানে অনেকে বললেন ষে ছেলেরা চাপরাসিকে রাজি করে, তার কাছ থেকে বিলিতি বিস্কুটের টিন কিনে নিয়েছে; নিয়ে ভেগেছে। কেড়েও নেয় নি, মারেও নি। তা ছাড়া, যে তিনজন ছেলেকে পলিস ধরছে তারা মোটে সেখানে ছিল না, কিছুই জানে না।” - ডেপুটিবাব একটা দীঘ নিঃশ্বাস ফেলিয়া বলিলেন, “এ সব প্রমাণ হয় তবে না!" “খবে প্রমাণ হবে। কত লোকে দেখেছে, কত লোকে জানে ৷” “প্রমাণ হয় ত ভালই।” “আর যদি প্রমাণ না হয়, কিছু জরিমানা করে ছেড়ে দিও। আহা ছেলেমানুষ, না বুঝে যদি একটা অন্যায় কাজ করেই থাকে, তবে কি তাদের জেলে দেবে, যেমন অন্য میاoن