পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৫৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মোকদ্দমা শেষ হইল। হুকুম হইল, সপ্তাহ পরে রায় বাহির হইবে। ইতিমধ্যে দেখা গেল, ডেপুটিবাব তিন দিন ধড়াচড়া বধিয়া ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবকে সলাম করিতে গেলেন। লোকে কানাকানি করিতে লাগিল। রায়ের দিন আদালতগহ লোকে লোকারণ্য। বিস্তর ইসকুলের বালক আসিয়াছে। ফরিয়া সশ্রম কারাদণ্ড এবং পঞ্চাশ টাকা করিয়া জরিমানা। রায় শনিয়া ছেলের দল বন্দেমাতরম বলিয়া চীৎকার করিয়া উঠিল। পলিস অনেক কন্টে গোল থামাইয়া বালকগণকে আদালত গহ হইতে অপসত করিয়া দিল। আসামীপক্ষের প্রধান উকীল কালীকান্তবাব রায় চাহিয়া পাঠ করিলেন । বিচারক লিখিয়াছেন, বাদীর সাক্ষীগণের উক্তিতে অনেক স্থলে অনৈক্য দেখা যায় বটে, কিন্তু সে সকল 'minor discrepancies—উহাতে বরং এই প্রমাণ হয় যে সাক্ষীরা শিখানো নহে । সত্যু বটে কোন কোনও সাক্ষী বলিয়াছে, হাঙ্গামার সময় পনেরো কুড়ি জন ছেলে ছিল, আবার কেহ কেহ বলিয়াছে পঞ্চাশ ষাট জন ছিল, কিন্তু কেহই গণনা করিয়া দেখে নাই অনমানে ভুল হওয়া আশ্চৰ্য্য নহে। বাদী বলিয়াছে, ছেলেরা চড় চাপড় মারিয়া তাহার কপালে ক্ষত করিয়াছে, কিন্তু ডাক্তার বলিতেছেন, কোন কঠিন শাণিত দ্রব্যে ঐ ক্ষত হইয়াছে, চড় চাপড়ে হইতে পারে না। ইহার উপর আসামীর উকীল বিশেষ জোর দিয়া বলিতেছেন যে, ঘটনা মিথ্যা। কিন্তু মামার বিবেচনায় ঐ সময়ে ধাদী এত ভীত ও বিমুঢ় হইয়াছিল যে, তাহাতে বালকেরা ঠিক কি প্রকারে আঘাত করিয়াছে তাহা স্মরণ রাখা তাহার পক্ষে অসম্ভব। সাফাই সাক্ষীগণের সমস্ত কথাই যে মিথ্যা তাহাতে কোনও সংশয় নাই। সকলেই তথাকথিত স্বদেশীর দল। উকীল বলিয়াছেন, ডাকবাঙ্গলার খানসামা নিরপেক্ষ সাক্ষী, উহার কথা মিথ্যা হইতে পারে না। কিন্তু জেরায় দেখা যাইতেছে, খানসামা উকীলবাবগণের বিশেষ অন্যগহীত ব্যক্তি। ষে বারো মাসের খরিদারকে চটাইয়া আসাম হইতে আগত সাহেবের পক্ষাবলম্বন করিয়া সত্য বলিতে পারে না। ইত্যাদি। করিয়া, জামিনের হুকুম লইলেন। এই সংবাদ শ্রবণমাত্র বালকগণ ভীষণ রবে বন্দে মাতরম ধৰনি করিয়া উঠিল। কোথা টানিয়া সহরময় ঘুরিয়া বেড়াইল এবং সমস্বরে গাহিতে লাগিল— ওদের বাঁধন যতই শক্ত হবে, মোদের বাঁধন ততই টাটবে। बष्ठै शृद्भिटग्छ् সেদিন ডেপুটিবাব ক্ষুন্ন মনে গহে প্রত্যাবৰ্ত্তন করলেন। চোর যেন চরি করিয়া ফিরিলা খনী যেন খন করিয়া আসিয়াছে। ডেপুটিবাবর চক্ষ অবনত, মুখ কালিমাময়। গহে আসিয়া দেখিলেন, চার্যশীলা মুখখানি বিমষ করিয়া চপ করিয়া বারান্দার কোণে বসিয়া আছেন। ডেপুটিবাব বুঝিলেন এ বিমষতার কারণ কি। বস্ত্র পরিবত্তন করিয়া, সত্রীর নিকট অগ্রসর হইয়া, জিজ্ঞাসা করিলেন, “কি গো, অমন করে বসে কেন ?” চার্যশীলা নিরক্তের। “কি হয়েছে ?” “মাথাটা ধরেছে।” “মাথা ধরেছে ? কখন ধরল এস দেখি, রমালে একট, ওডিকলোন ভিজিয়ে মাথায় צגס