পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বেধে দিই। এখনই সেরে যাবে।” চার্যশীলা স্বামীর দিকে না চাহিয়া বললেন, “থাক দরকার নেই।” ভাবগতিক দেখিয়া নগেন্দ্রবাব সরিয়া গেলেন। দাসী তাঁহার চা ও জলখাবার আনিয়া দিল। অন্যদিন গহিণী এ সময় উপস্থিত থাকিতেন, আজ তিনি অনুপস্থিত। নগেন্দ্রবাব, জলখাবার খাইতে গেলেন, কিন্তু তাহা গলা দিয়া যেন নামিতে চাহে না। বকের ভিতরটা কে যেন পাথর বোঝাই করিয়া দিয়াছে। জলখাবার ফেলিয়া রাখিয়া, কেবল চাটুকু নিঃশেষে পান করিলেন। তাহার পর অনেকক্ষণ ধরিয়া ধমপান করিলেন। শেষে উঠিয়া, অপরাধীর মত, আবার স্ত্রীর নিকট গেলেন। তিনি তখনও সেইরাপ ভাবেই বসিয়া আছেন। ধীরে ধীরে বলিলেন, "মাথাটা একটা সারল ?” চার্যশীলা সঙ্কেতে জানাইলেন সারে নাই। নগেনবাব তাঁহার হাতটি ধরিয়া বলিলেন, "এস এস, উঠে এস। আজ একটা ভাল খবর আছে, বলব মনে করে কত আমোদ করে এলাম, আর তুমি রাগ করে বসে রইলে।” স্বামীর আগ্রহাতিশয্যে চার্যশীলা উঠিয়া আসিলেন। নগেনবাব বলিলেন, “আজ সাহেব আমার পঞ্চাশ টাকা বেতন বন্ধির জন্যে কমিশনর সাহেবকে অনুরোধপত্র লিখেছেন।” একথা শুনিয়া, চার্যশীলার চক্ষযগল দিয়া প্রবলবেগে আশ্রম বহিল। 荣 বলিলেন, “ওকি, চোখের জল ফেল কেন?”—বলিয়া একহাতে সন্ত্রীর হাতটি ধরিয়া, অন্য হাতে চোখের জল মছাইতে চেন্টা করিলেন। চার্যশীলা হাত ছাড়াইয়া লইয়া বলিলেন, “ওগো আজ আমায় মাফ কর। আজ আমার কাছে এস না, কোনও কথা বোলো না ।”—বলিয়া তিনি চলিয়া গেলেন। নগেন্দ্রবাব বাহিরে বারান্দায় আসিয়া বসিলেন। আর একবার তামাকের হুকুম করলেন। ধমপান করিতে করিতে তাঁহার মানসিক অশান্তি আরও বন্ধিত হইয়া উঠিল। মনে হইল, যে দিন কম্মেম প্রবেশ করিয়াছিলেন, সেদিন কি ছিলেন, আর আজ কি হইয়াছেন। আজ চার্যশীলা তাঁহাকে কাছে আসিতে, কথা কহিতে বারণ করিয়াছে। আজ তিনি পতিত, কলঙ্কিত। পবিত্র বিচারাসনে বসিয়া, জানিয়া শুনিয়া, আজ তিনি অবিচার করিয়া আসিয়াছেন। আজই কি প্রথম ?—কিসের জন্য ? কেবল দগ্ধোদরের জন্য। বহলবষব্যাপী শিক্ষা সাধনার ফল, ধম্মবধি, বিবেক, কৰ্ত্তব্যনিষ্ঠা—শধ্যে দখোদরের জন্য ভাসাইয়া দিয়াছেন। ছি ছি! পর্বেকালে অন্ধশিক্ষিত, অশিক্ষিত ডেপটিরা ঘষে লইত। তাহাদের মাজ’না ছিল। সীশিক্ষাভিমানী নগেন্দ্রবাব গভর্ণমেন্টের নিকট হইতে পদবধিস্বরপ ঘষে লইয়া বিচারাসন কলঙ্কিত করিয়াছেন। তাঁহার কি মাজনা আছে? ডেপুটিবাক এই সকল কথা মনে মনে চিন্তা করিয়া, অনন্তাপে দগধ হইতে লাগিলেন। শেষে অস্থির হইয়া, উঠিয়া পড়িলেন। চাদর লইয়া বেড়াইতে বাহির হইলেন। অন্ধকার অন্ধকার পথ খুজিয়া সে পথগুলিতে অনেকক্ষণ বেড়াইলেন। সারারাত্র ভাল নিদ্রা হইল না। পর দিন কাছারি বন্ধ ছিল। প্রভাতে উঠিয়া ভূত্যকে বলিলেন, “আজ মফস্বল যাইব ।” —সকালে আহারাদি করিয়া প্রস্তুত হইলেন। ইহা শনিয়া চারশীলা আসিলেন। স্বামীর মুখপানে চাহিয়া তাঁহার মনের অবস্থা বঝিতে পারলেন। বঝিয়া সতীর মন কর্ণায় দ্রবীভূত হইল। কাছে আসিয়া বলিলেন, “কবে ফিরবে ?” “কাল সকালেই ফিরব।” “দেরী কোরো না।” “কেন, দেরী হলে তোমার দুঃখ কি ?” স্বামীর এই অভিমানবাক্যে চারশীলার কোমলহৃদয় ব্যথিত হইল। তিনি স্বামীর - రి33