পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৫৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বক্ষে মাখ লাকাইয়া নীরবে অশ্রপাত করিতে লাগিলেন। নগেন্দুবাব বললেন, “ওকি-ওকি ? শান্ত হও। এখনি কেউ এসে পড়বে।” কিন্তু চারশীলার দুঃখ বিগণ বধিত হইল। নগেন্দ্রবাব বললেন, “তোমার এ দুঃখ আমি আর দেখতে পারিনে। যা হবার তা হয়ে গেছে! এখন কি করলে তুমি সখী হও বল।” চার্যশীলা বামিবক্ষ হইতে মুখ অপসত করিয়া বলিলেন, “আমায় একটি ভিক্ষা দেবে?” “কি বল।” "এ চাকার ছাড়। যে চাকরি বজায় রাখবার জন্যে অধম করতে হয়, সে চাকরিতে কাজ কি ? আমি তোমার তিনশো টাকা চাইনে। আমি এ ধনদৌলত, সোণা রপো চাইনে। তুমি যদি মাস্টারি করেও আমায় মাসে পঞ্চাশ টাকা এনে দাও আমি তাতেই সংসার চালিয়ে নেব।” এ কথা শুনিয়া ডেপুটিবাব, একমহত্তে মাত্র ভাবিয়া বলিলেন, “তাই হবে।” বাহিরে গাড়ী আসিয়া দাঁড়াইয়া ছিল। ট্রেণের সময় সন্নিকট। ডেপুটিবাব বললেন, “তই হবে। তুমি কে’দ না।”—বলিয়া পত্নীকে সস্নেহে চাবন করিয়া বাহিরে আসিলেন। পরদিন প্রভাতে চাপরাসি ডাক লইয়া আসিল। ডেপুটিবাব তখনও মফস্বল হইতে ফেরেন নাই। চারশীলা দেখিলেন কয়েকখানি চিঠির সঙ্গে, এক বোঝা সংবাদপত্র। এত সংবাদপত্র কোনও দিন আসে না। একখানি খলিয়া দেখিলেন, "সন্ধ্যা” পত্রিকা। “ফরিদসিংহে ঘাঁটরামলীলা” নামক একটি প্রবন্ধ রহিয়াছে—তাহার চারি পাশেব লাল কালীর রেখাঙ্কিত। ছাত্রদের মোকদ্দমার উল্লেখ করিয়া “সন্ধ্যা” তাহার নিজস্ব অপভাষায় নগেন্দুবাবকে ভয়ঙ্কর গালি দিয়াছে। সমস্ত প্রবন্ধ পাঠ করিবার ধৈর্য্য চার্যশীলার রহিল না। অপর একখানি পত্রিকা খলিয়া দেখিলেন, তাহাও ঐ তারিখের “সন্ধ্যা”—ঐ প্রবন্ধ লাল পেন্সিল বারা রেখাঙ্কিত। এইরুপ গণিয়া দেখিলেন, ভিন্ন ভিন্ন প্যাকেটে ভিন্ন ভিন্ন পাঠাইয়া দিয়াছে। পাছে স্বামীর দটিপথে পতিত হয় এই আশশুকায় সমস্ত “সন্ধ্যা” গলি চারুশীলা লইয়া জলন্ত চল্লীমধ্যে নিক্ষেপ করিলেন। বেলা ১টার সময় ডেপুটিৰাব ফিরিলেন এবং তাড়াতাড়ি আহারাদি করিয়া কাছারি গেলেন। চার্যশীলা পত্রকে বলিলেন, “আজ ইস্কুলে গেলিনে ?" "না, আজ যাব না।” ”কেন, ছয়টি আছে নাকি ?” an " "তবে ? ইস্কুলে গেলে ছেলেরা আমায়—” বলিয়া আর বলিতে পারিল না। তার চক্ষ দিয়া টস টস করিয়া জল পড়িতে লাগিল। ইতিমধ্যেই পথে ঘাটে অন্যান্য বালকেরা তাহাকে অপমান করিয়াছে। চার্যশীলা বঝিলেন। বললেন, “আচ্ছ তবে থাক। আমারও একট কাজ আছে।” দ্বিপ্রহরে গাড়ী ডাকিয়া, পত্রকে সঙ্গে লইয়া তিনি বাহির হইলেন। কালীকান্ত বাবা উকীলের বাড়ী গিয়া তাঁহার সন্ত্রীর সহিত সাক্ষাৎ করিলেন। সেদিন সেখানে আরও দই তিনটি উকীলের সী সমবেত হইয়াছিলেন। চারশীলাকে দেখিয়া অন্যান্য মহিলারা কোনও কথা বলিলেন না, মখ ভার করিয়া রহিলেন। কালীকাস্তবাবার স্মী তাঁহাকে অভ্যর্থনা করিয়া বসাইলেন। কিন্তু সে অভ্যর্থনা পাব পরব বারের মত সাদূর নহে। চারশীলা বসিয়া, অন্যান্য কথার পর, ছেলেদের মোকদ্দমার কথা তুলিলেন। একটি মহিলা ; "ওটা বড়ই দুঃখের বিষয় হয়েছে।” কালীকান্তবাবার স্ত্রী বললেন, “আপলে বোধ হয় টিকবে না, ওঁরা বলছিলেন।” একজন বলিলেন, “তবে যদি স্বদেশী মোকদ্দমা বলে সাহেবেরা অবিচার করে।” চার্যশীলা জিজ্ঞাসা করিলেন, “আপলের দিন কবে হয়েছে জানেন ?” “কবে ঠিক বলতে পারিনে। শীঘ্রই হবে।” "ছেলের কলকাতা থেকে কোনও ভাল ব্যারিস্টার নিয়ে আসকে।” 四为四