পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“সে অনেক টাকা খরচ 1 ছেলেরা কোথায় পাবে ? এরাই করবেন এখন।” চার্যশীলা অবনত মস্তকে বলিলেন—“টাকা আমি দেব।” এ কথায় সকলে একটা বিস্মিত হইলেন। কালীকান্তবাবর সন্ত্রী বললেন, “আপনি দেবেন কেন ?” চারুশীলার মনে যাহা ছিল, মুখে তাহা ব্যক্ত করিলেন না। করিলে তাহা পাতনিন্দার মত শনায়। কিন্তু তাঁহার চক্ষ দইটি জলপণে হইয়া আসিল। বলিলেন, “আপনারা এই মোকদ্দমায় ছেলেদের সাহায্যের জন্যে কত টাকা ব্যয়, কত ত্যাগস্বীকার করছেন । আমি কি এর জন্যে কিছু ত্যাগস্বীকার করবার অধিকারী নই ? আমি এই একষোড়া বালা আর একযোড়া অনন্ত এনেছি। এ বেচলে হাজার টাকার উপর হবে। এই টাকা দিয়ে কলকাতা থেকে ছেলেদের আপলের দিন কোন ভাল ব্যারিস্টার আনাবার বন্দোবত করন । আমার মনে একটা শান্তি যাতে পাই, তার উপায় করন।”—ইহা বলিতে বলিতে চার্যশীলার গণ্ড বহিয়া অশ্র; ঝরিল। কালীকান্তবাবার স্ত্রী গহনাগলি লইলেন। বলিলেন, "আচ্ছা, উনি বাড়ী আসন, ওঁকে বলবো।” 叱 - এই ঘটনায় অন্যান্য মহিলাগণের মনও দ্রবীভূত হইল। তাঁহারা তখন চার্যশীলার সঙ্গে হাসিমথে আলাপ করিতে লাগিলেন। সপ্তম পরিচ্ছেদ . ছেলেদের আপীল শেষ হইয়া গিয়াছে। কলিকাতা হইতে বড় ব্যারিস্টার আনা হইয়াছিল, কিন্তু কিছ হইল না। জজ সাহেব আপীল ডিসমিস করিলেন। ছেলেরা জেলে গিয়াছে। হাইকোটে মোশনের বন্দোবসত হইতেছে। এ দিকে নগেন্দ্রবাবর সত্ৰী যে গহনা বিক্রয় করিয়া ছেলেদের সাহায্য করিয়াছেন, তাহা সহরময় রাষ্ট্র হইয়া গিয়াছে। ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের কাণেও এ কথা উঠিয়াছে। শনিয়া অবধি তিনি নগেন্দ্রবাবরে উপর বড় কঠোর আচরণ করিতেছেন। ইতিমধ্যে একদিন কাৰ্যোপলক্ষে সাহেব খাস-কামরায় নগেন্দ্রবাবকে তলব করিয়াছিলেন। পর্বে পর্কে বারের মত তাঁহাকে বসিতে অনুরোধ করেন নাই। আমলার মত দাঁড়াইয়া থাকিয়া এবার সাহেবকে কাজ বুঝাইতে হইয়াছিল। কয়েক দিন পরে নগেন্দ্রবাবর একটা রায়, জজ সাহেব উলটাইয়া দিলেন। এই উপলক্ষে, নগেন্দ্রবাবর দোষ না থাকিলেও কাযে ভুল ধরিয়া আমলাগণের সমক্ষেই নগেন্দ্রবাবকে সাহেব অভদ্রভাবে কটক্তি করিলেন। নগেন্দ্ৰবাব কমত্যাগ করিবার জন্য প্রস্তুতই হইয়াছেন। কলিকাতায় গিয়া আইন পরীক্ষা দিয়া, ওকালতী কারবেন। মাঝে মাঝে স্বামী সন্ত্রীতে এ বিষয়ে জলপনা কল্পনা হইয়া থাকে। মাসখানেকের মধ্যেই কমত্যাগ করবেন ইহাই আপাততঃ স্থির হইয়াছে। জজ সাহেব কর্তৃক ছেলেদের আপীল ডিসমিসের দই এক দিন পরে, ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব তাঁহাকে কুঠিতে ডাকাইয়া পাঠাইলেন। পবে স্বতঃপ্রবত্ত হইয়া মাঝে মাঝে তিনি ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবকে সেলাম করিতে যাইতেন, ইদানীং আর যান নাই। সেদিন প্রভাতে পোষাক পরিয়া, গাড়ী করিয়া নগেন্দ্রবাব সাহেবের কুঠিতে উপস্থিত হইলেন। নিজ কাড পাঠাইয়া দিলেন। ম্যাজিষ্ট্রেট সাহেবের রীতি ছিল, হাকিম কিবা বড় জমিদার আসিলে আফিস কামরায় তাঁহাদিগকে অপেক্ষা করাইতেন; চনাপটি দরের লোক আসিলে তাহাদিগকে বারান্দায় বেচে বসিয়া থাকিতে হইত। আজ চাপরাসি ফিরিয়া তাঁহাকে আফিস কামরায় না লইয়া গিয়া, সেই বেঞ্চিতে বসিতে অনুরোধ করিল। সেখানে কয়েকজন চনাপটি পাব হইতেই বসিয়াছিল। তাহাদের সহিত একাসনে না বসিয়া, নগেন্দ্ৰবাব পায়চারি করিয়া বেড়াইতে লাগিলেন। বঝিলেন, সাহেব তাঁহাকে ইচ্ছা করিয়া অপমান করিতেছে। - り38