পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৫৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কিয়ৎক্ষণ বেড়াইবার পর, ভিতর হইতে একজন চাপরাসি ছটিয়া বাহির হইয়া বলিল, “বাব জতাকা আওয়াজ মৎ কাঁজিয়ে, সাহেব গোসসা হোতা হয়। কেgপর বৈঠিয়ে।” দন্তে ওষ্ঠ দংশন করিয়া নগেন্দ্রবাব বেঞ্চে উপবেশন করিলেন। চনাপাটিগণ তাঁহাকে দেখিয়া সসম্প্রমে একটা সরিয়া বসিল। ইতিমধ্যে আরও দইজন সেলামাথী আসিয়া বেশে বসিল। নগেন্দ্রবাব, রমাল বাহির করিয়া মহমহ কপালের ঘাম মছিতে লাগিলেন। ক্ৰোধে তাঁহার কণ্ঠরোধ হইয়া আসিতে লাগিল। ব্রুমে সাহেব ছোটহাজার সারিয়া আফিস কামরায় আসিলেন। প্রথমে ডাকিয়া পাঠাইলেন—নগেন্দ্রবাবকে নয়। যাহরা নগেন্দ্রবাবর পর্বে আসিয়াছিলেন, তাঁহাদের একে একে ডাক পড়িল। যাঁহারা পরে আসিয়াছিলেন, তাঁহাঁদেরও ডাক পড়িল। শেষে নগেন্দ্রবাব একা বেচে অধিষ্ঠান করিতে লাগিলেন। - এই সময়টা তাঁহার যে কিরাপ ভাবে কাটিয়াছিল, তাহা তিনিই জানেন এবং তাঁহার ইষ্টদেবতাই জানেন। এই সময়ের মধ্যে নগেন্দ্রবাব দন্তে দন্ত দঢ়বদ্ধ করিয়া প্রতিজ্ঞা করিলেন, কম পরিত্যাগ করবেন, একমাস পরে নহে,—অদ্যই। অবশেষে নগেন্দ্রবাবর ডাক পড়িল। তিনি ক্লোধে মাতালের মত টলিতে টলিতে, সাহেবের কামরায় প্রবেশ করিলেস। অন্য দিনের মত সাহেব আজ উঠিয়া দাঁড়াইয়া তাঁহার সহিত করমদন করিলেন না। “গড়মণিং সার।” গড় মণিং বাবা।” “বাব!”—অন্য দিন হইলে সাহেব বুলিতেন-নগেন্দ্রবাব। সাহেব বিলক্ষণ জানিতেন, শুধ বাব বলিয়া সম্পভাষিত হইলে পদপথ বাঙ্গালী অপমান বোধ করে। নগেন্দ্ৰবাব ইহাও লক্ষ্য করিলেন। কিন্তু তাঁহার মন কত্তাব স্থির করিয়া লইয়াছিল, এই আঘাতে নতন কোন বেদনা অনুভব করিল না। সাহেব চরট মুখে করিয়া বলিলেন, “সহরে এখন স্বদেশীর অবস্থা কিরুপ ?” নগেন্দ্ৰবাব বলিলেন, "ভালই।” “শনিয়া সখী হইলাম। ইহা বিসিঙ্কট-মোকদ্দমার কঠিন শাস্তির সফল।” নগেন্দ্রবাববাব মনে মনে একটা হাসিলেন। বলিলেন, “আপনি বোধ হয় আমার কথাটা ভুল বুঝিলেন। ভালই—অথাৎ স্বদেশীর পক্ষে ভালই, গভর্ণমেণ্টের পক্ষে নয়। সেই মোকদ্দমার পর হইতে লোকের সবদেশীপণ দঢ়তর হইয়াছে।” সাহেব যেন একটা আশ্চষ্য হইয়া নগেন্দ্রবাবর মুখপানে চাহিলেন। বলিলেন, “তবে ভালই কেন বলিলেন ? আপনি কি একজন সবদেশী নাকি ?” নগেন্দুবাব গর্বিতভাবে বলিলেন, “স্বদেশী আন্দোলন হইয়া অবধি, এক পয়সার বিলাতী দ্রব্য আমার গহে আসে নাই।” সাহেবের মুখ ও কণ ক্লোধে লাল হইয়া উঠিল। তিনি জানিতেন যে, অনেক সরকারী কমচারী লুকাইয়া লুকাইয়া সবদেশীয়তা রক্ষা করে, কিন্তু সাহেবের সাক্ষাতে এমন করিয়া দপ ত কেহ করে না। তিনি বুঝিলেন য়ে, এই ঔদ্ধত্য প্রকাশ করিয়া নগেন্দ্রবাব সদ্যপ্রাপ্ত অপমানের প্রতিশোধ লইতেছেন। সবদ্ধি উড়ায় হেসে, এই নীতির অনুসরণ করিয়া সাহেব বলিলেন, "হাঁ, আমি শনিয়াছি, বাঙ্গালী মহিলারা সবদেশী বিষয়ে পরষগণের অপেক্ষাও দঢ়তর।”—বলিয়া সাহেব একটু হাসির ভাণ করিলেন। একট পরেই বলিলেন—“By the way—শুনিলাম নাকি আপনার সত্ৰী ঐ মোকদ্দমার আপীলে হাজার টাকা দিয়া ছেলেদের সাহায্য কবিয়াছেন ? ইহা সত্য নাকি?” “সত্য। হাইকোটে মোশন হইবে, তাহার খরচও বহন করিতে আমার স্ত্রী প্রস্তুত হইয়াছেন।” - সাহেব নিজ সৈন্থয্য আর রক্ষা করিতে পারলেন না। আবার তাঁহার মুখ রক্তবর্ণ হইয়া উঠিল। বললেন, “এটা কি গভর্ণমেটের বিরাদ্ধাচরণ নয়?" &