পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৬০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আইনের গল্প आऊर्श७शनौब्र काङ्निौ হইয়াছিল বলিয়া, এলোকেশীর সবামী তাহাকে খন করিয়াছিল। সেই ব্যাপার লইয়া একদিন বাঙ্গালা দেশে মহা হলস্থল পড়িয়া গিয়াছিল। সে সম্পবন্ধে কত ছড়া কত গান উঠিয়াছিল, গ্রামে গ্রামে ভিখারীরা সেই গান গাহিয়া ভিক্ষা করিত। এলোকেশীর মত না হউক, মাতঙ্গিনীর ব্যাপারেও এক সময় বাঙ্গালা-দেশকে অত্যন্ত চঞ্চল করিয়া হত্যা করিয়াছিল। তাহার জার পলাইয়াছিল—পলিস তাহাকে ধরিতে পারে নাই । মাতঙ্গিনীর যাবতজীবন দ্বীপান্তরের হকুম হয়। এই ঘটনাটি, বিখ্যাত সাহিত্যিক কৃষ্ণনগরনিবাসী রায় শ্রীযুক্ত দীননাথ সানাল বাহাদরের মাথে যেমন শনিয়াছি, নিম্নে তাহাই বর্ণনা করিলাম। মাতঙ্গিনীর স্বামীর ( নামটি শনি নাই ) বাস ছিল নদীয়া জেলার কোনও এক পল্লীগ্রামে। সংসারে কেবল স্বামী, সন্ত্রী ও একটি শিশুপত্র। স্বামী বড় গরীব, কিছ ইংরাজি লেখাপড়া শিখিয়াছিল, নানাস্থানে চাকরির জন্য দরখাস্ত পাঠাইত। ক্রমে তাহার চাকরি একটি জটিল, উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের কোন এক সহরে। কিন্তু বেতন এত অলপ যে, সে ব্যক্তি সন্ত্রী-পরকে নিজ সঙ্গে লইয়া যাইতে সাহস করিল না। প্রতিবেশীরা অহাকে অভয় দিলেন, “তোমার চিন্তা কি বাবা ? আমরা সব রয়েছি, আমরা সর্বদা দেখবো শনবো, তোমার সন্ত্রী-পত্রের জন্যে কোনও চিন্তা তুমি কোরো না। যাও গিয়ে কমে' ভত্তি হও, মন দিয়ে কাজকম করলে নিশ্চয়ই তোমার উন্নতি হবে, মাইনে বাড়বে, তখন এসে তোমার সত্ৰী-পত্রকে সেখানে নিয়ে যেও।” যুবক, প্রতিবেশীদের তত্ত্বাবধানে সী ও দই বৎসর বয়স্ক পত্রকে রাখিয়া কমস্থানে গমন করিল। সেখানে গিয়া কঠোর পরিশ্রমে সে আপন কাৰ্য্য করিতে লাগিল । মনিব খসী হইয়া মাঝে মাঝে কিছু কিছু করিয়া তাহার বেতন বধি করিয়া দিতেন। মাতঙ্গিনী, তখনকার দিনেও লেখাপড়া জানিত। সবামীর সহিত নিয়মিতভাবে সে পত্র-বিনিময় করিত। সবামী তাহাকে মাসে মাসে খরচের টাকা মনিঅৰ্ডারে পাঠাইয়া দিত। স্বতন্ত্র বাসা ভাড়া করিয়া, স্ত্রী-পত্ৰ আনিয়া বাস করিবার উপযোগী বেতন যখন তাহার হইল, তখন তাহার চাকরি প্রায় তিন বৎসর পর্ণ হইয়াছে। স্বামী তখন এক মাসের ছটির দরখাস্ত করিল-ছাটি মঞ্জরও হইল। সে তখন সীকে পত্র লিখিল, “ভগবান এতদিনে মাখ তুলিয়া চাহিয়াছেন। এতদিনে আমার এমন ক্ষমতা হইয়াছে যে, বাসা ভাড়া করিয়া তোমাদের আনিয়া নিজের কাছে রাখি । এক মাসের ছটি পাইয়াছি। অমুক দিন হইতে আমার ছটি আরম্ভ। অমুক তারিখে বাড়ী পেপছিব, এক মাস বাড়ীতে থাকিয়া, বাড়ী তালা বন্ধ করিয়া, তোমাদের লইয়া এখানে চলিয়া আসিব।” মাতঙ্গিনী ছিল, অত্যন্ত রূপসী। স্বামীর বিদেশগমনের বছরখানেকের মধ্যেই, তাহার অধঃপতন ঘটিয়াছিল। ক্ৰমে প্রতিবেশীরা সকল কথা জানিতেও পারিয়াছিল, কিন্তু কেহই তাহার স্বামীকে এ অপ্রিয় সংবাদ প্রেরণ করে নাই। পত্র আসিবার পর, মাতঙ্গিনী ও তাহার জার, মহা ভাবনায় পড়িয়া গেল। “তাই ত! এক মাস পরে লইয়া যাইবে, আর দেখাশনা হইবে না।” এই জাতীয় চিন্তাই বোধ হয়। ర్పి Q