পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কমে তাহদের পরামর্শ হইল, সে অসিক, রাতারাতি তাহাকে হত্যা করিয়া, লাসে পাথর বাঁধিয়া নদীর জলে ফেলিয়া দিলেই হইবে। কেহ জানিবে না শুনিবে না। পরদিন প্রচার করিয়া দিলেই হইবে যে, ভোরে উঠিয়া সে কলিকাতা চলিয়া গিয়াছে। নিদিষ্ট দিনে হতভাগ্য স্বামী বাড়ী আসিয়া পেশছিল। প্রবাস-যাপনকালে নিজেকে সকল রকম সখে-সবিধা হইতে বঞ্চিত করিয়া অতি কটে তাহার স্বল্প বেতন হইতে কিছ কিছু সঞ্চয় করিত। আসিবার সময় এই সঞ্চিত অর্থে, স্ত্রীর জন্য একযোড়া সোণার বালা সে গড়াইয়া আনিয়াছিল—তাহা স্ত্রীকে উপহার দিল। পথশ্রমে ক্লান্ত ছিল—একট: সকালেই নৈশ-ভোজন শেষ করিয়া পত্রসহ সে শয্যায় আশ্রয় লইল। ছেলেটি তখন তাহার পাঁচ বৎসরের হইয়াছে। তারপর কি ঘটিল, নদীয়া জজ আদালতে সেই পাঁচ বৎসরের ছেলের মুখে শনন। “একদিন একব্যক্তি আমাদের বাড়ী আসিল, মাকে জিজ্ঞাসা করায় সে বলিল, “তোর বাবা।” আমি বললাম, "আমার একটা বাবা ত রহিয়াছে।” মা বলিল, “এও তোর বাবা, সে বাবার কথা এ বাবাকে কিছ বলিস না।” মতন বাবা আমাকে কাছে লইয়া রাত্রে শয়ন করিলেন। আমায় কত চমো খাইলেন, কত আদর করিলেন। আমি ঘুমাইয়া পড়িলাম। অনেক রাত্রে আমার ঘুম ভাঙ্গিয়া গেলে দেখিলাম, আমার মা ও পরাতন বাবা, ঘরের মাঝখানে দড়িাইয়া আছে, আমার নতন বাবা যে সেদিন আসিয়াছিল, তার গলা কাটা, রক্তে বিছানা ভাসিয়া যাইতেছে। দেখিয়া আমি কাঁদিয়া উঠিলাম। বাবা আমায় ধমক দিয়া বলিল, “চুপ কর পাজি! চোঁচাবি ত তোরও গলা এমনি করে কেটে দেবো।” ভয়ে আমি চক্ষ মদিলাম এবং ঘুমাইয়া পড়িলাম।” গ্রামের একৃজন ডোম এ মোকদ্দমায় একটা প্রধান সাক্ষী ছিল, তাহার উক্তি হইতে প্রকাশ– খনের পর মাতঙ্গিনী তাহার জারকে বলিতে লাগিল, “চল, এবার দুজনে লাসটা সে ব্যক্তি বলিল, “দাঁড়াও, একটা সিথর হয়ে নিই। রক্ত দেখে আমার মাথাটা কেমন ঘরছে। ভয় কি ? একটা সবর কর—সব ঠিক করে দিচ্ছি।” কিছুক্ষণের পর সে ব্যক্তি বলিল, "একবার চট করে বাইরে থেকে আসি”—বলিয়া সে বাহির হইয়া, রাত্রির অন্ধকারে কোথায় গেল, পলিস তাহার কোনও সন্ধান করিতে পারে নাই। মাতঙ্গিনী বসিয়া তাহার জন্য অপেক্ষা করিতে লাগিল। দশ মিনিট-পনেরো মিনিট --আধ ঘণ্টা হইয়া গেল, তখন সে বঝিতে পারিল, তাহার পেয়ারের লোকটি—এই অবস্থায় তাহাকে ফেলিয়া--পলায়ন করিয়াছে। x م- و মাতঙ্গিনী তখন বাড়ীতে তালা বন্ধ করিয়া, সেই অন্ধকারে বাহির হইল। গ্রামের ডোমপাড়ায় গিয়া, তাহার বিশ্ববত একজন ডোমকে জাগাইল। তাহার নিকট আমলে সমস্ত ঘটনা প্রকাশ করিয়া বলিল, “তুমি আমার বাবা, তুমি আমার প্রাণ বাঁচাও। এখন মাত্র দপর রাত, রাতারাতি লাসটা নদীতে দাও। তোমার পরস্কার, আমার হাতের এই নুতন বালযোড়াটা। একটা তোমায় আমি এখনি দিয়ে যাচ্চি—আগাম। আর একটা, কাজ শেষ হয়ে গেলেই তুমি পাব।”—বলিয়া মাতঙ্গিনী এক হাতের বালা খলিয়া ডোমকে लि । - সমস্ত শনিয়া বালা লইয়া ডোম বলিল, “আচ্ছা মাঠকরণ, যা করবার আমি সব করছি। তামাকটা খেয়ে নিই, খেয়ে, আমার এক বন্ধ ডোমকেও ডাকি। তাকেও সঙ্গে নেওয়া দরকার, একলা ত আমি পারবো না। অন্য বালাটা বরঞ্চ তাকেই দেবেন, সেও や > ザ