পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৬২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ত পুরস্কারের আশা করবে। আপনি বাড়ী যান, আমি আধ ঘণ্টার ভিতরই তাকে নিয়ে, তাসছি।” মাতঙ্গিনী বাড়ী চলিয়া গেল। ডোম, তামাক শেষ করিয়া, অন্য কোনও ডোমকে জাগাইতে গেল না—সে গেল থানায়। দারোগাকে জাগাইয়া মাতঙ্গিনী যাহা যাহা তাহাকে বলিয়াছিল, সমস্তই দারোগাকে জানাইল, এবং বালাটিও দারোগাকে দিল। দারোগা সেই রাত্রেই গিয়া মাতঙ্গিনীকে গ্রেপ্তার করিলেন। অবশেষে, সেসন জজের আদালতে মাতঙ্গিনীর বিচার হইল। কে যে হত্যা করিয়াছিল,—মাতঙ্গিনীই গলা কাটিয়াছিল, অথবা তাহার জারই ও-কাৰ্য্য' করিয়াছিল—তাহা নিণীত হইল না। চাক্ষষ সাক্ষী কেবলমাত্র সেই পাঁচ বৎসরের বালক। কিন্তু আইন এই যে, যদি দই বা তদধিক ব্যক্তি একমত হইয়া কোনও দীকাষ্য করে, তবে প্রত্যেকেই সমভাবে অপরাধী ( পীনাল কোড, ৩৪ ধারা ) । স্বেচ্ছাকৃত নরহত্যার ধারাতেই জজ মাতঙ্গিনীকে অপরাধী সাব্যস্ত করলেন, কিন্তু সীলোক বলিয়া দয়া করিয়া চরম-দণ্ড ( ফাঁসি ) না দিয়া যাবজীবন দ্বীপান্তরের আদেশ দিলেন। জজ আদালত হইতে মাতঙ্গিনীকে কয়েদী গাড়ীতে (prison van) যখন জেলে লইয়া যাইত, সেই সময় পথের দুই ধারে কৃষ্ণনগরের লোক সারি দিয়া দাঁড়াইয়া থাকত। গাড়ী দটিগোচর হইবামার, তাহারাঁ অকথ্য ভাষায় মাতঙ্গিনীকে গালাগালি দিত—কেহ গাড়ীর কাছে যাইয়া তাহাতে থথ ফেলিত, ছোড়াজতো প্রভৃতি, এমন কি কাগজে মোড়া বিষ্ঠা পৰ্য্যন্ত গাড়ীতে ছ:ড়িয়া মারিত। জনসাধারণের ক্লোধ (public indignation). এই ভাবে আত্মপ্রকাশ করিত। তারকেশবরের মোহান্তের বেলায়ও এইরুপ ঘাঁটয়াছিল। মোহান্তের চার বৎসর জেল হয়—হগলি জেলে সে আবদ্ধ হইয়াছিল। গজব রটিয়াছিল, মোহান্তকে ঘানি টানাইতেছে। সহরে জেলের উৎপন্ন দ্রব্য বিক্ৰয়ের একটা দোকান (jail depot) ছিল। মোহান্তের নিকাশিত সর্ষপ তৈল সে দোকানে একটকা সেরে বিক্রয় হইয়াছিল। (তখনকার দিনে এক সের সষপ তৈলের মল্যে দই আনা দশ পয়সা মাত্র ছিল—আমিই চল্লিশ বৎসর পর্বে চারি অনা সের সষপ তৈল কিনিয়াছি )। সানাল-মহাশয় ছিলেন একজন সরকারী ডাক্তার-অ্যাসিসট্যান্ট সাজন। ( ক্ৰমে । তিনি সিভিল সাতজন পদে উন্নীত হইয়াছিলেন। এখন পেন্সন ভোগ করিতেছেন)। এক সময় পোর্ট ব্লেয়ারের মেডিক্যাল অফিসারস্বরূপ গভর্ণমেণ্ট তাঁহাকে বদলি করে । তিনি মন্ত্রী-পত্রাদি লইয়া পাঁচ বৎসর কাল পোর্ট ব্লেয়ারে সরকারী কাযে নিযুক্ত ছিলেন। তিনি আমাকে বলিয়াছেন— "পোট ব্লেয়ারে পৌছানর অলপ দিনের মধ্যে আমি জানিতে পারি যে, মাতঙ্গিনী তথায় রহিয়াছে। একজন বাঙ্গালী অফিসার আসিয়াছেন শুনিয়া, মাতঙ্গিনী আমাদের বাসায় আসিল, আমার সন্ত্ৰণীর সহিত আলাপ করিয়া গেল। তারপর হইতে মাঝে মাঝে সে আসিত, আমার স্ত্রীর সহিত গণ্ডপ-গজব করিয়া চলিয়া যাইত। তখন সে বন্ধ, সমস্ত চলে তার পাকিয়া গিয়াছে। কিন্তু তাহাকে দেখিয়া মনে হইত, যৌবনে সে খব সন্দেরীই ছিল। একদিন নিজন পথে মাতগিনীর সহিত আমার সাক্ষাৎ হইল। আমি তাহার,সহিত কথাবাত্ত কাঁহতে লাগিলাম। অন্যান্য কথার পর বলিলাম, “মাতঙ্গিনী, তোমার মত, আমিও নদীয়া জেলার লোক, কৃষ্ণনগরে আমার বাড়ী, ইহা আমার সন্ত্রীর কাছে তুমি শনিয়া আকিবে। সেসন আদালতে যখন তোমার মোকদ্দমা হয়, তখন আমি বালক, স্কুলে পড়ি। সে সময় লোকে বলাবলি করিত, খনটা কে করিল, তুমিই করিলে, অথবা তোমার সেই লোকই করিল, তাহা কিছুই জানা গেল না। এ বিষয়ে, অন্য সকলের মত, অামার రిఫి