পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৬৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রেমপত্র। চিঠিতে তারিখ দেখিল, তার বিবাহের পবের তারিখ। রচনায় ভাষার ভুল নাই, বানান ভুল নাই—কোনও শিক্ষিতা মেয়ের হস্তাক্ষর। তবে, বিবাহের পর্বে স্বামী কি অন্য কাহারও সঙ্গে প্রেমে পড়িয়াছিলেন ? উঃ—কি সব্বনাশ! - পত্র শেষ করিয়া মণিকার মাথা ঝিম্ ঝিম করিতে লাগিল। আর একখানি খলিয়া পাঠ আরম্ভ করিল। পরস্পরের অটট অনাবিল গভীর প্রেমের পরিচায়ক। মনোরমার পিতা-মাতা কিন্তু এ বিবাহে সম্মতি দিবেন কি না, সে বিষয়ে আকুল আশঙ্কা। পড়িয়া মণিকার কান্না আসিতে লাগিল। - - তৃতীয় পরে, পিতা-মাতা মত করিলেন না ইহাই প্রকাশ। আজীবন উভয়ের কৌমাৰ্য্য ব্রত অবলম্বনে, জন্মান্তরে মিলন প্রতীক্ষায় এ জীবন যাপনের প্রস্তাব। মণিকার চক্ষ হইতে ঝর ঝর ধারায় আশ্ন বহিল। - ঝি আসিয়া বলিল, “মা, ১১টা যে বাজতে চলল,—চান করবে না ?” মণিকা চক্ষ মাছিয়া ধরা গলায় বলিল, “না সনান করবো না, শরীরটে আজ ভাল বোধ হচ্চে না।” “তা হলে, বামন ঠাকুরকে ভাত বাড়তে বৃলি ?” "না, খেতেও ইচ্ছে নেই।” ঝি,কাছে আসিয়া হাতের উপর হাত রাখিয়া বলিল, “গা যে গরম হয়েছে দেখছি। ওমা, জবর করবে নাকি ? বাবও যে বাড়ী নেই! কি হবে গো মা !” . আর কোনও পত্র পড়িতে মণিকার প্রবত্তি হইল না। সবগলি গছাইয়া বধিয়া মণিকা এখন বেশ স্পষ্টই বঝিতে পারিল, ঝির কথা মিথ্যা নয়, জবরই আসিতেছে বটে। মণিকা তখন চিঠির বাণ্ডিল আলমারিতে তুলিয়া রাখিয়া শয্যায় উঠিয়া শয়ন করিল। দেখিতে দেখিতে খুব কাপ দিয়াই জ্বর আসিল। ম্যালেরিয়া। রঙ্গপরে আসিয়া আর একবার সে এইরুপ জনরে পড়িয়াছিল। - ইনপেক্টরবাবর দী কল্যাণী বেলা দুইটার সময় বেড়াইতে আসিয়া দেখেন, এই ব্যাপার। মণিকা তখন বেহঃস। তিনি তখনই বামন ঠাকুরকে কাছারিতে পাঠাইয়া নিজ স্বামীকে ডাকাইয়া আনিলেন। ইনস্পেক্টরবাব আসিয়া, সল্লীর নিকট সাব-ডেপুটিগহিণীর অবস্থার কথা শুনিয়া, নিজেই ডাক্তার ডাকিতে ছটিলেন। ডাক্তার আসিলেন, ঔষধ দিলেন, বলিলেন, “কোনও ভয় নেই, ম্যালেরিয়া জহর। সহরে জরটা আজিকাল খবই হচ্ছে।” - পরদিন বেলা ২টার সময় সাব-ডেপুটিবাবও ফিরিলেন। ऊिन ' এক সপ্তাহ অবিশ্রান্ত শুশ্ৰষার পর গতকল্য হইতে মণিকার জরটা ছাড়িয়াছে। আজ সে দখানা সজির রাটি খাইবে। বলা বাহুল্য সে অত্যন্ত কুশ ও দ্রব্বল হইয়া পড়িয়াছে। সরেনবাব তাহার মাখধোয়ানো শেষ করিয়া ঔষধ পান করাইয়া দিয়াছেন। খোলা জানালার কাছে সোফা টানিয়া, দই তিনটা কুশনে ঠেস দিয়া তাহকে বসাইয়াছেন। ঘক অবধি একটা পাৎলা শাল চাপা। সরেনবাব পাবে একটা চেয়ার টানিয়া বসিয়া দীর সঙ্গে কথাবাত্ত কহিতেছেন। § বেলা ৯টা বাজিলে মণিকা গভীরভাবে বলিল, “তুমি আর কতদিন আফিস কামাই করবে ?” সরেনবাব বললেন, “আমি যে তিন মাসের ছটি নিয়েছি।” "তিন মাসের! তুমি কি মনে করেছিলে আমার এদিক ওদিক যা হোক একটা কিছ: ৰতে তিন মাস লেগে যাবে?"; . "এদিক-অাবার ওদিক কেন?”—বলিয়া সরেনবাব শাসিত স্বরপ পত্নীর গাল টিপিয়া দিলেন। তার পর বলিলেন, “রঙ্গপরে থাকবার আর ইচ্ছে নেই। যে లిల