পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৬৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ত তুমি তাঁকে দেখে এসে বললে, অনেকটা ভাল। তা তুমি কি এখনই বেরতে চাও? ডিনার খেয়ে গেলে হত না ? তৈরী প্রায়। সেখানে গিয়ে কি অবস্থা দেখবে, ফিরতে কত রাত হবে, বলা ত যায় না।” লাহিড়ী সাহেব বলিলেন, “না, দেরী করে দরকার নেই। দেখছ না, লিখেছে, এখন-তখন অবস্থা। আমি এখনই যাই, ফিরে এসেই ডিনার খাব। তোমরা বরং খাওয়াদাওয়া সেরে আমার খাবার ঢাকা দিয়ে রেখে দিও। এই বেয়ারা—একঠো ট্যাক্সি বোলাও —জলদি।” - “বহুংখা”—বলিয়া বেয়ারা ট্যাক্সি আনিতে গেল। - মিসেস লাহিড়ী নিকটস্থ একখান চেয়ারে বসিয়া বলিলেন, “আহা সষমা ছড়ির অদষ্টটা দেখ, একবার। বিয়ের পর দুবছর যেতে না যেতেই স্বামী গেল। মা ত আগেই গিয়েছিল, বাপও চলল; কি যে দশা হবে মেয়েটার কে জানে! আত্মীয়স্বজন কে কে আছে ? “বাগবাজারে সষমার মামারা আছে। সরেশ তার শবশুরবাড়ীতে থেকেই কলেজে পড়তো কিনা। তারপর, আমি গেলাম ব্যরিটোরি পড়তে, সরেশ ল-কলেজ জয়েন করলে।” "ওর শ্বশুরবাড়ীতে ?” "বশর বাশুড়ী .ত আগে থেকেই ছিল না। দেওর ভাসর-টাসর আছে বোধ হয়। কিন্তু সে কি এখানে ? মুর্শিদাবাদ জেলায় জঙ্গিপুর গ্রামে। তাদের সংসারে গিয়ে পড়লে বউকে তারা ফেলতে পারবে না বটে। কিন্তু সুষমা লেখাপড়া গান বাজনা জানা নব্যতন্ত্রের মেয়ে, সেখানে বাস করা কি ওর পোষাবে ? বিশেষ তারা গরীব গহন্থ। ও সেখানে গিয়ে তাদের ঘরও নিকাতে পারবে না, ধানও সিদ্ধ করতে পারবে না।” মিসেস লাহিড়ী বলিলেন, “দেখ, এইগলো কিন্তু বাপ মায়েদের ভারি অন্যায়। মেয়েকে যদি কলেজে পড়িয়ে মেমই ক'রে তুললি, তা হলে সেই রকম ঘর বরে তাকে দে– গরীবের ঘরে দিস কেন ?” “গরীবের ঘরে কি আর সাধে লোকে মেয়ে দেয় ?—টাকার জোর না থাকলে কাজেই দিতে হয়। ওকালতী ব্যবসাতে কোন দিন তেমন সবিধে ত করতে পারেনি! তবে বাঙ্গালী টাইলে থাকে, খরচপত্র কম, এই যা সবিধে। নইলে অবস্থা ত সরেশের আমারই মত ! তুমি খাও ভাঁড়ে জল আমি খাই ঘাটে বইত নয়!” এই সময় ভূত্য আসিয়া জানাইল ট্যাক্সি আসিয়াছে। লাহিড়ী সাহেব বেশ-পরিবত্তন না করিয়াই, সেই পায়জামা সটের উপরেই একটা ড্রেসিং গাউন চড়াইয়া বাহির হইয়া পড়িলেন। ট্যাক্সির নিকট গিয়া দেখিলেন, পত্রবাহক ভূত্য সেখানে দাঁড়াইয়া আছে । তাহাকে দেখিয়া বলিলেন, “তুই এখনও রয়েছিস? আচ্ছা গাড়ীতে ওঠ ড্রাইভারের পাশে বোস ”—বলিয়া নিজেও আরোহণ করিয়া আদেশ দিলেন, “বৌবাজার।” ট্যাক্সি ছটিল। এই সময় লাহিড়ী সাহেবের ঘর গহস্থালীর কথা কিঞ্চিৎ বলিয়া রাখি। আজ প্রায় বিশ বছর তিনি ব্যারিস্টারি করিতেছেন। তাঁহার নিজ মাথেই প্রকাশ, তেমন সুবিধা করিয়া উঠিতে পারেন নাই। মাঝে মাঝে রিসিভার কম পান। ব্রীফও মাঝে মাঝে দই চারিটা যে না পান, এমন নহে। কিন্তু পরোদস্তুর সাহেবিয়ানার খরচ তাহাতে পোষায় না। বাড়ীখানি তাঁহার নিজের নহে,—ভাড়ার। মোটর কিনিতে পারেন নাই, ট্যাক্সিতে আদালত যান। গহে তাঁহার সন্ত্রী মাত্র। কোনও সন্তানাদি জীবিত নাই। একটা বাসনমজো জলতোলা চাকর এবং একটা বেয়ারা আছে। বিকে ঘাগরা পরাইয়া তাহাকে আয়া বানাইয়াছেন। বাবাচ্চ আছে কিন্তু রাধে সে দিনেরবেলায় ভাত, ডাল, “ছোঁচকি কারি", মাছের ঝোল-বাঙ্গালীর খাদ্য সবই রাঁধে। তবে সব ব্যঞ্জনেই পেয়াজ দেয়, মায় মাছের ঝোলে পৰ্য্যন্ত। রাত্রে লুচি ভাজে, বেগন ভাজে, কোনও দিন বা মাছের ন দি সুর কলিয়া যি কাজ কৰি মাঝে মাৰে