পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


• मिष्ठा !” পরদিন প্রাতে জাগিয়া প্রতিজ্ঞা করিলাম, এবার অবধি মনকে দঢ় করিব। এমন করিয়া সংসারের স্নেহ-প্রেমে আকৃত্ট হইলে চলিবে না। যতটুকু নহিলে নয়, ততটুকু সংসারকে দিব। বাকী সব শাসোর ও দেবতার। তার পর হইতে সবামী ডাকিতে আসিলে আর অমন গলিয়া যাইতাম না। প্রায়ই দৃঢ়ভাবে তাঁহাকে ফিরাইয়া দিতাম। কতদিন নিঃশ্বাস ফেলিয়া তিনি উঠিয়া গিয়াছেন, আর আমি গীতার গঢ়াৰ্থ বঝিতে প্রাণপাত করিয়াছি। ক্লমে ক্লমে তিনি ক্লান্ত হইয়া পড়িলেন। আমায় কিন্তু একটি দিনও একটি উচ্চ কথা বলেন নাই। আমার জন্য বন্ধসমাজেও তাঁহাকে বিদপ সহিতে হইত কি কম ? কেহ বলিত—“ওহে, স্ত্রীকে গরম করে মতোর নাও " কেহ বলিত—“তোমার ভাবনা কিহে! রোজ একটু একটা করে দীর চরণামত খেও~শরীর নীরোগ হবে।" কেহ —“ওহে, আফিসে বেরবার সময় তোমার পণ্যবতী সীকে প্রণাম করে বেরিও, কাযে ভুলচক হবে না। চাই কি হঠাৎ পাঁচজনকে ডিগিয়ে প্রোমোশনও পেয়ে যেতে পার।” ছয় মাস আমি বশরবাড়ীতে রহিলাম, ছয় মাসে শ্বাশুড়ীকে ও স্বামীকে তিক্ত বিরক্ত করিয়া তুলিলাম। ইদানীং স্বামী দারুণ অভিমানে আর আমার সঙ্গে ভাল করিয়া কথা কহিতেন না। লোকে আমার বাশুড়ীকে বলিতে লাগিল, “ও বউকে বাপের বাড়ী পাঠিয়ে দাও, সেখানে গিয়ে ও আপনার পুজো অচ্চনা কর্ক, তুমি ছেলের আবার বিয়ে দাও।” মা প্রথম প্রথম সে কথা কাণে তুলিতেম না। কিন্তু আমি পাড়ায় যাহাকে তাহাকে বলিতে লাগিলাম, আমার স্বামী স্বচ্ছন্দে পানবরার বিবাহ করন, আমার তাহাতে কিছমাত্র আপত্তি নাই। যথাকলে তাহারা এ কথা আমার বাশড়ীর কাণে তুলিল । তিনি তাঁহার ছেলের শুকমুখ দেখিয়া, পরামশীদায়িনীদের মতে মত দিলেন। মধ্যে মধ্যে মাতা পরে নিজনে কথাবাত্ত হইতে লাগিল দেখিলাম। সব বুঝিতে পারিলাম, কিন্তু কিছই দুঃখ হইল না। স্বামীকে আমার সাধনার বিঘাসবরাপ মনে হইত। তিনি যেন আমার মাত্তিমান প্রলোভন—আমাকে সবগচ্যুত করিবার জন্য সংসার সখের নিষিদ্ধ ফল হাতে করিয়া আহবান করিতেছেন। ভাবিলাম, করন না বিবাহ, করিয়া সখী হউন, আমি উহার পথের কণ্টক, উনিও আমার বিঘা। আমি দাদার কাছে চলিয়া যাইব । চিরজীবন দুই ভাই বোনে আপনাদের সাধন ভজন লইয়া থাকিব। একদিন রবিবারে ও ঘরে বসিয়া মাতাপত্রে কথাবাত্ত হইতেছিল, আমি বাহির দিয়া যাইতেছিলাম। হঠাৎ আমার কাণে গেল—আমার স্বামী বলিতেছেন—“শেযকালে যদি ও আবার খোরপোষের দাবী করে—আমার এই ত অবস্থা, কোথা থেকে দ্য দটো সত্রীকে প্রতিপালন করব ?" বলিয়া সবামী চপ করিলেন, বাশড়ীও নীরব হইলেন। এ কথা কি কথাবাত্তার উপসংহার তাহা আমি বুঝিলাম। একটা যেন আনন্দ হইল। ভাবিলাম চলামীর যাহা বাধা তাহা আমি স্বহস্তে ছিন্ন করিব। রীতিমত দলিল লেখাপড়া করিয়া দিল যে, আমি সবামী চাহি না, বতঃ কিংবা পরতঃ কখনও তাঁহার নিকট ভরণপোষণের গণ" করিব না। স্বামীতে তামার সমস্ত অধিকার আমি স্বেচ্ছায় পরিত্যাগ করিলাম। তিমি পনবার বিবাহ করিয়া সংসারী হউন। কালামুখী আমি—আনন্দে গবে হৃদয় মফীত হইয়া উঠিল। পাথ যখন কুরুক্ষেত্রে বিজয়লাভ করিয়াছিলেন, তখন তাঁহার যেরপে আনন্দ হইয়াছিল অনমান করা বাইতে পারে, আমার সেইরাপ আনন্দ হইল। আমি যেন মোহ-প্রলোভনাদির বিরুদ্ধে মানসিক পাঙ্গে প্রসন্ন হাস্যমুখে চাহিয়া রহিয়াছেন। &