পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৭১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রোগী ধীরে ধীরে একটি শীর্ণ হসন্ত তুলিয়া ক্ষীণ স্বরে বলিলেন, “না—না—কেউ স্বেও না। থাকে ৷” উকিলবাব আবার বসিলেন। রোগী তখন কন্যার মুখ পানে চাহিয়া বলিলেন, “জল।” সষমা তাড়াতাড়ি জল আনিয়া ফাঁডিং কাপের সাহায্যে পিতাকে পান করাইয়া #मृद्गन । জলপান করিয়া, রোগী ধীরে ধীরে বলিতে লাগিলেন, “গিরীন, ভাই, আমার সৃষীকে আমি তোমার জন্মায় দিয়ে যেতে চাই। ওর ভার তুমি নিতে পারবে ভাই ?” লাহিড়ী বলিলেন, “নিশ্চয়! ও যেমন তোমার মেয়ে, তেমনি আমারও মেয়ে। আমার ত কোনও সন্তানাদি নেই, আমি ওকে নিজের মেয়ের মতন করেই পালন করবো, তার জন্যে তুমি কিচ্ছ ভেল না ভাই।” - রোগী বলিলেন, “তুমিই নাও। ও যেমন লেখাপড়া শিখছে, তেমনি শিখতে থাকুক। ওর মার পনেরো হাজার টাকা ছিল, সেই টাকাটা ওর জন্যে রেখে যাচ্চি। তাই থেকে ওর খরচপত্র চালিও। একটি ভাল পার দেখে ওর আবার বিয়ে দিও তাই। ষোল বছর বয়সে বিধবা হয়েছে--পরো দটি বছরও স্বামীর ঘর করতে পায়নি। ওর জীবনের কোনও সাধ আহাদই ত মেটেনি। সেইজন্যেই ওকে আমি তোমার হাতেই দিয়ে যেতে চাই। ওর মামারা বড়লোক হলেও, গোঁড়া হিন্দ—তারা ওর বিয়ে দেবে না। ওর ভাসর দেওররা, তাদের ত কথাই নেই। তুমিই আমার মেয়েটিকে নিয়ে ষেও ভাই, —নিয়ে গিয়ে, যাতে ওর ভাল হয়, যাতে ও সুখে থাকে, তাই কোরে—তা হলে পরলোকে তামি শান্তি পাের।” - কথাগুলি শেষ করিয়া, সরেশবাব অত্যন্ত ক্লান্ত হইয়া পড়িলেন এবং হাঁফাইতে লাগিলেন। একটা সামলাইয়া উঠিলে সৃষমা কহিল, “বাবা, একটু বেদানার রস খাবেন ?” ইঙ্গিতে সরেশবাব সম্মতি জানাইলেন। দুই-চামচ বেদানার রস পান করিয়া আবার তিনি ঘুমাইয়া পড়িলেন। এই সময় সংবাদ আসিল, বাগবাজার হইতে সষমার মামারা আসিয়াছেন। মহেনরিবাব ইহাদের আনিতে তাড়াতাড়ি নামিয়া গেলেন। সাষমার দুই মামা ও তিন মামী উপরে উঠিয়া আসিলেন। সিড়িতে উহাদের পদশবদ পাইয়া, ডাক্তারবাব প্রভৃতিকে লইয়া লাহিড়ী সাহেব পাশববত্তী কক্ষে প্রবেশ করিলেন। - কিয়ৎক্ষণ পরে সষমার বড়মামা অবিনাশবাব, সেই কক্ষে অসিয়া বলিলেন, “হাঁহে গিরীন, সুরেশের এ রকম অসুখটা হয়েছিল, আগে আমাদের খবর দিতে নেই ?” লাহিড়ী বলিলেন, “আগে কি আমরাই জানতে পেরেছিলাম ; পরশও ত আমি দেখে গেছি, তখনও কোন ভয়ের কারণ উপস্থিত হয়নি।” কিয়ৎক্ষণ কথাবাত্তার পর, কল্য প্রাতেই আবার আসিবেন বলিয়া লাহিড়ী সাহেব বিদায় গ্রহণ করিলেন। অবিনাশবাবরা সকলেই রাত্রে এখানে থাকিবেন। - ভোর রাত্রে সরেশবাবর আত্মা, দেহপিঞ্জর ভেদ করিয়া অনন্তর পথে উধাও হইল। লাহিড়ী সাহেব বেলা ৮টার সময় আসিয়া দেখলেন, “বল হরি হরিবোল” শব্দে শবাধার সিড়ি বাহিয়া নামান হইতেছে। তিন সষমার বয়স যখন ১১ বছর, সেই সময় তাহার মাতৃবিয়োগ হয়। সরেশবাবর বয়স তখন ৩৫ বৎসর মাত্র। বন্ধ বান্ধব সকলেই তখন পনরায় বিবাহ করিতে তাঁহাকে পরামর্শ দয়ছিলেন। কয়েকজন “ডাগর” মেয়ের পিতাও তাঁহাকে এজন্য বিলক্ষণ পীড়াপীড়ি করিয়াছিলেন। কিন্তু সরেশবাব সম্মত হন -ই। ইতিপবে মেয়েকে তিনি বাড়ীতেই লেখাপড়া শিখাইতেন। চাকর বামন লইয়া বাসা—তিনি আদালতে চলিয়া গেলে দীর্ঘ - ৩২৮