পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দিন মেয়েকে দেখে কে, তাই সমমাকে তিনি বেথন স্কুলে ভত্তি করিয়া দিলেন। তিন বৎসর পরে, গরীব গহস্থ ঘরের একটি শিক্ষিত সচ্চরিত্র সদশন যবোকে পাইয়া, তাহার হতে কন্যা সমপণ করিয়াছিলেন । মেয়েকে তখন অবশ্য স্কুল হইতে ছাড়াইয়া লইতে ষোল বৎসর বয়সে সষমার কপাল পড়িল। মেয়েকে সরেশবাব শবশরালয় ত লইয়া আসিলেন। আবার তাহাকে স্কুলে ভক্তি করিয়া দিলেন। সুষমা এখনও বিদ্যালয়েরই ছাত্রী, আগামী বৎসর তার ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিবার কথা। বিধবা হইয়া, থান কাপড় পরিয়া, রিক্ত প্রকোঠেই সর্ষমা শবশরালয় হইতে ফিরিয়াকিন্তু মেয়ের সে বেশ দেখিয়া বাপের বকে বড় বাজিল, তাই পিতাকে সান্ত্বনা র জন্য সৃষমা সরপাড় ধতি, গলায় একটি সরু গোট হার এবং দই হাতে দইগাছি করিয়া চারিগাছি সোণার চড়ি পরিল। হিন্দ বিধবার নির্ব একাদশী পিতা তাহাকে করিতে দিলেন না;—বলিলেন, “তুই যদি মা নিরব উপবাস করিস, তবে আমিই বা কোন লকজায় খাব ?” পিতা পত্রী উভয়েই একাদশীর দিন ফল ও মিষ্টান্ন মাত্র গ্রহণ করিতেন। মাছ খাওয়াইবার জন্য কন্যাকে তিনি পীড়াপীড়ি করেন নাই, বিপত্নীক হইবার পর হইতে নিজে তিনি মাছ মাংস ছাড়িয়া দিয়াছিলেন। কিন্তু ছতমাগের পথিক তিনি ছিলেন না। দই তিনমাস পাবেও তিনি লাহিড়ী-গহিণী কর্তৃক নিমন্তিত হইয়া কন্যা সন্তু তাঁহার টেবিলে বসিয়া নিরামিষ আহার করিয়া আসিয়াছিলেন। মামা মামীরা উপস্থিত থাকিয়া, বৌবাজারের বাসাতেই সৃষমাকে দিয়া তাহার পিতৃশ্ৰান্ধ সম্পন্ন করাইলেন। সম্মা লাহিড়ী সাহেবের তত্ত্বাবধানে তাঁহারই পরিবারভুক্ত হইয়া অতঃপর বাস করিবে, একথা উইলেই পল্টাক্ষরে লিখিত ছিল। ইহা অবগত হইয়া মামারা কিন্তু বড়ই বিরক্ত হইলেন। একে ত ভাগিনেয়ীর কপালদোষে ইহকালটি তাহার নস্ট হইয়াই গিয়াছে, তদুপরি ম্লেচ্ছাচার-সম্পন্ন বিলাতফেরত লাহিড়ী সাহেবের গহে অবস্থান করিয়া এবং সম্ভবতঃ পুনরায় বিবাহ (তাঁহারা বলিয়াছিলেন নিকা) করিয়া পরকালটিও নন্ট হইয়া যায় ইহা তাঁহাদের অসহ্য বোধ হইল। কিন্তু তাঁহাদের গহিণীরা একবাক্যে বললেন, “সেই ভাল, সেই ভাল। নিকুনে পড়ানে গাইয়ে বাজিয়ে ঐ আগ্রনের খাপরা কড়ে রাঁড়িকে আগলে থাকা কি সোজা কথা ? ও দায় যে আমাদের }ঘাড় থেকে নেমেছে সে ভাগিাই বলতে হবে।” শ্ৰাদ্ধশান্তি হইয়া গেলে, লাহিড়ী সাহেব উদ্যোগী হইয়া মত বন্ধর জিনিষপত্র বিক্লয় করিয়া, দেনা-পাওনা মিটাইয়া, সম্মাকে মিজগহে লইয়া গেলেন। মিসেস লাহিড়ী স্নেহ ও সমাদরে তাহাকে বকের মধ্যে গ্রহণ করিলেন। 5ाब्र এক বৎসর কাটিয়া গিয়াছে। সৰমা বেথুন স্কুলে পড়িতেছে. স্কুলের গাড়ীতে যাতায়াত করে। তবে এখন পাজার ছটি—সারাদিন সে বাড়ীতেই থাকে। তার বড়মামা অবিনাশবাব, মাঝে একদিন মাত্র আসিয়া তাহার সহিত সাক্ষাৎ করিয়া গিয়াছিলেন। লাহিড়ী সাহেব সক্ষমার সমস্ত টাকা ব্যাকে জমা করিয়া তাহারই নামে হিসাব খোলাইয়া দিয়াছেন। তবে চেক-বহিখানি তিনি নিজের কাছে রাখেন। তাহার খরচপরের হিসাবে প্রতিমাসে একখানি করিয়া চেক- তিনি তাহাকে দিয়া সহি করাইয়া লন। সষমা ষে পনেরো হাজার টাকার মালিক, ইহা হাইকোর্ট বার লাইব্রেরী ও উকীল লাইব্রেরীতে প্রচার হইতে দেরী লাগে নাই। সৰ্ষমার পনরায় বিবাহ দিবার জন্যই যে তাহার পিতা মৃত্যুকালে কন্যাকে লাহিড়ী সাহেবের জিমা করিয়া দিয়া গিয়াছেন, তাহাও লাহিড়ী সাহেবের গহে যাতায়াত আরম্ভ করিয়াছে কিন্তু সৰমার নিকট তাহারা কেহই আমল পায় না। লাহিড়ী সাহেব তাহদের মনোভ অভিপ্রায় বিলক্ষণ বুঝিতে পারেন, কিন্তু তিনিও উহাদিগকে উৎসাহ দেন o কারণ তিনি জানেন এই যুবকগণের অবস্থা ૭ ૨૭