পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


"না, অন্যায় করনি মা!”—বলিয়া লাহিড়ী সাহেব পত্নীর দিকে চাহিয়া বলিলেন, “তুমি কি বল গো ?” গহিণী বলিলেন, “না নিলেই অন্যায় হত। যাও মা তুমি কাপড়চোপড় বদলাওগে —তারপর ফলেগলি, কয়েকটা ফলদানীতে জল দিয়ে বেশ করে সাজিয়ে ফেলো।” পনেরো মিনিট পরে সরোজ ড্রয়িংরমে ফিরিয়া আসিল। আর কিছুক্ষণ পরে সষমাও আসিল—তার হাতে দটি গোলাপ। একটি জ্যেঠাইমার চলে পরাইয়া দিল, একটি জোঠামহাশয়ের কোটে বটন হোল করিয়া দিতে লাগিল। লাহিড়ী সাহেব হাসিতে হাসিতে বলিলেন, “আমি বড়োমানষে আমার কি সাজে রে বেটী? সরোজের কোটে পরিয়ে দে।” সষমা কিন্তু শুনিল না, জ্যেঠামহাশয়ের কোটেই ফলটি পিন দিয়া আটকাইয়া मिळन। লাহিড়ী সাহেব উহা খলিয়া, হাসতে হাসিতে সরোজের কোটে লাগাইয়া দিলেন। ইহা দেখিয়া গহিণী নিজের গোঁপার ফলটি সষমার চলে গজিয়া দিলেন। “বাঃ—এ কি ?”—বলিয়া সষমা আর দুইটি ফল লইয়া, জোঠামহাশয় ও জ্যেঠাইমাকে অলঙ্কৃত করিল। আহারান্তে, রাত্রি ৯oটার সময় সরোজ বিদায় গ্রহণ করিল। লাহিড়ী সাহেবও রাতকাপড় পরিবার জন্য নিজ শয়নকক্ষে প্রবেশ করিলেন। সষী বলিল, “আমিও তা হলে শইগে জ্যেঠাইমা।" “হ্যাঁ মা। চল—আমিও তোর ঘরে যাচ্চি—একটা কথা আছে।” সষমার শয়নকক্ষে গিয়া, একটা চেয়ারে বসিয়া গহিণী বলিলেন, “সরোজ ত মহা বায়না নিয়েছে মা।” নিজ শয্যাপ্রান্তে বসিয়া সষমা বলিল, “কি বায়না জ্যেঠাইমা ?” “তোকে বিয়ে করবায় জন্যে ক্ষেপেছে।” কথাটা শনিবামাত্র সর্ষমা চক্ষ অবনত করিল। গহিণী দেখিলেন, তাহার মখে ক্লোধ ও বিরক্তির লক্ষণ ফটিয়া উঠিতেছে। ক্ষণপরে সযমা বলিল, “তা হলে, তিনি ক্ষাগার মত কাজই করেছেন জ্যেঠাইমা ।” "কেন ?" “কারণ, বিয়ে ত আমি করবো না।” "কেন করবে না বাছা ? তোমার এই কাঁচা বয়স; ভাল ঘর বর পেলে বিয়ে ত করাই উচিত। কেন, সরোজকে কি তোমার পছন্দ হয় না? বিবান, সচ্চরিত্র, দেখতেও ভাল, নিজে যথেষ্ট টাকা উপাজন করছে। এর চেয়ে ভাল পাত্র কোথায় পাওয়া যাবে মাঃ সক্ষমা বলিল, “সে কথা নয় জ্যেঠাইমা। কিন্তু আমি যে—বিধবা।” “কেন, বিধবা-বিবাহ কি তুমি তবে ন্যায়সঙ্গত ধৰ্ম্মসঙ্গত মনে কর না ? লেখাপড়া শেখার ফল কি হল তবে ?” - "ণকল বিধবার পক্ষে আবার বিবাহ করা অধম যা অন্যায় বলে আমিও মনে কারনে জেঠাইমা।" "তবে কেন তুমি বিয়ে করতে চাওনা বাছ ?" - সষমার মখে আসিয়াছিল, “কারণ, আমি আমার স্বামীকে ভালবাসি, আর যতদিন বেচে থাকবো, বাসবো।”--কিন্তু একথা বলিতে তাহার লজ্জা করিল। কয়েক মহত্তে’ ভাবিয়া লইয়া সে বলিল, “আপনি ত জানেন জ্যেঠাইমা, আমার মা যখন চলে গেলেন, কতলোক ত বাবাকে ফের বিয়ে করার জন্যে বলেছিলেন। বাবার তখন মাত্র ৩৫ বৎসর বয়স-পরষ মানুষের পক্ষে সেটা পণে যৌবন কাল। কিন্তু বাবা ত বিয়ে করেন নি। বাবার ঘরে, মার যে অয়েলপেটিং ছবিখানি টাংগানো থাকতো, বাবা রোজ রাত্রে Woes