পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৮৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তাই। চোখের তারা কালো নয়, ফিকে বাদামী রঙের।” “না ভাই, আমি ত সেটা লক্ষ্য করিনি।” “আমি করেছি। কিন্তু যা-ই বল যতীন, অতুলবাবরে কিন্তু আশ্চষ্য ক্ষমতা।” “ব্যাপার কি, অতুলবাবকে গিয়ে একবার জিজ্ঞাসা করলে হয় না? এখন ত কোনও কাজ নেই, চল না যাওয়া যাক তার বাসায়। একটা বেড়ানও হবে।” সুরেন বলিল, “তাকে এখন কি বাসায় পাবে ? সে ত আজ চলল রাইবেরেলী। সেখানে একটা চাকরি জটিয়েছে যে। এতক্ষণ বোধ হয় সে হাওড়া স্টেশনের পথে।” তিন অবিলবে মেসের অন্যান্য লোকের মধ্যে কথাটা প্রচার হইয়া গেল। সন্ধ্যার পর সকলে আসিয়া সরেনের ঘরে জটলা আরম্ভ করিল। যোগেশবাব বললেন, “অতুলটা কি কোনও সত্রে জানতে পেরেছিল যে, কুন্দমালার মামা তোমাকে আজ দেখতে আসবেন ? জেনে শনে ঐ রকম চালাকি খেলে গেল নাকি ?” শরৎ বলিল, “আমি ত’ তার পাশেই বসে ছিলাম, কিন্তু সে সময় তার মখ-চোখ দেখে ত ওরকম আমার মনে হয়নি ভাই ! বিশেষ, সে ত নিজে কোনও কথাই তোলেন, —হঠাৎ খবরের কাগজ পড়ে শোনালে ত সতীশ —সতীশ, তুমিই পড়ে শোনালে না ?” সতীশ বলিল, “হ্যাঁ, আমিই ত পড়ে শোনালাম। কাগজখানা নিয়ে নাড়াচাড়া করছিলাম, হঠাৎ ঐ প্যারাটা আমার চোখে পড়লো তারও ফাট হওয়ার জন্যে আনন্দভোজ শনিবারেই হচ্ছে এই কথা পড়ে আমার ভারি মজা লাগলো, তাই তোমাদের সেটা পড়ে শোনলাম।” বিপিন বলিল, “হয় ওৎলোটা জানতো নয়, সত্যিই তার -একটা ক্ষমতা আছে—ওকেই ত ক্লেয়ারভয়েন্স বলে ।” - উমাপদ বলিল, “যারা সাধনার খুব উচ্চ স্তরে উঠেছে, তাদের এ রকম ক্ষমতা জন্মে তা স্বীকার করি। কিন্তু ওৎলোটা ত মহা নাস্তিক। মুসলমানের রান্না মাগী । ভক্ষণ করে, ওর ওরকম ক্ষমতা থাকা আমি ত অসম্ভব বলেই মনে করি। নিশ্চয়ই সে শরৎ বলিল, “জানতো কি না, সে সম্বন্ধে আমি কিছু বলছিনে অবশ্য, কিন্তু কোনকোনও মানষের স্বভাবতঃ ওরকম একটা আশ্চৰ্য্য ক্ষমতা থাকে, সেটা আমি জানি। আমি যখন প্রথম বছর কলকাতায় আসি, অষ্ট্ৰেলিয়া থেকে একটা সাকাসের দল এসেছিল খেলা দেখাতে। তখন বড়দিনের ছটা। গড়ের মাঠে পাণ্ডাল খাটিয়ে তারা খেলা দেখাচ্ছিল। নানা রকম খেলা হবার পর, একটা খেলা দেখালে, তা একেবারে অদ্ভুত। এক ছড়ী মম বয়স এই আঠারো উনিশ, সে এসে বললে, "দশকদের মধ্যে যে কাউকে আমি ছয়েই, তার জন্মবার বলে দেবো। যদি আমার ভুল হয়, অনুগ্রহ করে তিনি যেন বলেন। এই বলে সে প্রথম সারি, দ্বিতীয় সারি, এক এক জনকে ছোঁয়, আর এক একটা বারের নাম বলে যায়, যেমন—শনিবার, বধবার, মঙ্গলবার, শক্রবার—এই রকম। একটি লোকও বললে না যে, না ঠিক হ’ল না, তোমার ভুল হয়েছে। আমি - সারিতে বসে ছিলাম, খালি ভাবছি, আমার জন্মবার ত সোমবার, দেখি ঠিক বলে কি না। ঐ রকম বলতে বলতে তৃতীয় সারিতে এসে ছড়ী আমার দিকে চলে এল, আমাকে ছোবামাত্র বললে—সোমবার।” অনেকেই আশ্চষ্য হইয়া, বলিল, “অ্যাঁ, বল কি ? নিজে তুমি দেখেছ—” শরৎ বলিল, “নিজে নয় ত কি প্রকসিতে ?—পাঁচটি টাকা দিয়ে টিকিট কিনে আমি ঐ তামাসা দেখতে গিয়েছিলাম। আমার মনে হ’ল, আমার টাকা খরচ সার্থক হয়েছে। তার পর আরও মজা শোন। তৃতীয় সারি শেষ করে ছড়ী ফিরে গেল। তার পর বললে, প্রত্যেক লোককে ছয়ে, কার পকেটে কি আছে, আমি তা বলে দিতে পারি।" এই - も8*