পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৮৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সুশোভনা ú夺 শরৎকাল, পাজার ছটতে সহরের আফিস আদালত সবেমাত্র বন্ধ হইয়াছে। সেদিন বেলা ৯টার সময় রাইনগর স্টেশনে, কলিকাতা হইতে আগত ট্রেণের প্রথম শ্রেণীর একটি কামরা হইতে গলী, বন্দক প্রভৃতি শিকারের সরঞ্জামসহ দইজন বাংগালী যুবক অবতরণ করল। একজনের অঙ্গে ইংরাজি ধরণের শিকারীর বেশ—বয়স আন্দাজ পচিশ হইবে। সংগঠিত বলিষ্ঠ দেহ, রঙটি উজ্জল শ্যামবর্ণ। নাম অমরেন্দ্রনাথ মল্লিক। অপর যুবকটি বয়সে ইহার অপেক্ষা দই একবৎসরের ছোট, হাতে বন্দক থাকিলেও, পরিধানে ধতি ও কোট। ইহার রঙটি অপেক্ষাকৃত ফরসা দেহ-গঠনেও পারিপাট্য আছে—বিশেষ করিয়া তাহার চলগুলি ও চোখ দটি বড় সন্দর । ইহার নাম সুকুমার মজুমদার। সঙ্গে সঙ্গে তৃতীয় শ্রেণীর এক কামরা হইতে খানসামার উদি-পর। এক মুসলমান ভূত্য নামিল । তাহার সঙ্গে নামিল আমকাঠের এক সিন্দক এবং একটা বড় বালতী। ঐ বালম্ভীর ভিতর একটা বিলাতী চলা (টেভি) ও অন্যান্য জিনিষ ভত্তি ছিল । যুবকবয় ধীরপদে অগ্রসর হইয়া স্টেশনের ওয়েটিং-রামে গিয়া যখন প্রবেশ করিল, তখন গাড়ী ছাড়িবার ঘণ্টা বাজিয়াছে। কুলীর মাথায় আমকাঠের সিন্দক ও হাতে বালতী দিয়া খানসামাও আসিয়া ওয়েটিং-রমে প্রবেশ করিল এবং কুলীকে পশ্চাতের বারান্দায় লইয়া গিয়া জিনিষপত্র নামাইয়া, টেভি জালিয়া চায়ের জল চড়াইয়া দিল। বখশিস লইয়া কুলীটা প্রস্থান করিতেছিল, অমরেন্দ্র তাহাকে ডাকিয়া বলিল, “কি রে, তোর নাম কি ?” . “আজ্ঞে, আমার নাম হরিদাস, আমরা কৈবত্ত।” "এইখানেই বাড়ী ?” “আজ্ঞে না, এখান থেকে কোশ-তিনেক হবে।” “আচ্ছা, কুমীরদীঘি কোথায় জানিস ?” “তা আর জানিনে হজের ? আমাদের গা থেকে কোশখানেক পথ বইত নয় ” “এখান থেকে কত দর, সেই দীঘি ?” “এখান থেকে কোশ-দই-আড়াই হবে।” “কুমীরদীঘিতে কি সত্যি সত্যি কুমীর আছে ?” “অজ্ঞে ছিল, খুবই ছিল। কলকাতা থেকে সাহেবরা এসে মেরে মেরে তাদের বংশনাশ করে দিয়েছে। তবে এখনও কুমীর যে একেবায়ে নেই, তা বলতে পারলাম না, হজর!” অমরেন্দ্র ইংরাজিতে সকুমারকে বলিল, “আমাকে বন্দক-টনদক, টিফিন-বাক্স বইবার জন্যে একটা লোক ত দরকার, একেই নিযুক্ত করা যাক না।” সুকুমার বলিল, “সেই ভাল। সেই জায়গারই লোক, চেনে শোনে।” অমরেন্দ্র হরিদাসের মজারী সিথর করিয়া, সারিদিনের জন্য তাহাকে নিযুক্ত করিল। হরিদাস বলিল, “কখন বেরতে হবে, হজের " “এই, আধ ঘণ্টা পরেই।” “আজ্ঞে হজের, তবে আমি বাসা থেকে ঘুরে আসি।”—বলিয়া সে প্রথান করিল। চায়ের জল তৈয়ারি হইলে, খানসাম্য টেবিল "লাগাইয়া” টিফিন-বাক্স হইতে লাচি, সালভাজা, বেগনভাজা, ফলকপি-ভাজা ইত্যাদি বাহির করিয়া মনিব ও তাঁহার বন্ধকে "ব্রেকফাস্ট” খাওয়াইল। জলের পরিবত্তে চা দিল । 密密四