পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৮৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ব্রেকফাস্ট খাইতে খাইতে অমরেন্দু দেখিল, কয়েকজন লোক বারের বাহিরে দড়িাইয়া, হাঁ করিয়া তামাসা দেখিতেছে। অমরেন্দ্র খানসামাকে বলিল, “পদাটা টেনে দে।” খানসামা ছটিয়া গিয়া, তাহাদিগকে ধমক দিয়া তাড়াইয়া, বারের পদদর্শ টানিয়া দিল। প্রাতরাশ সমাধা করিয়া দই বন্ধ সিগারেট সেবন করিতেছিল, হরিদাস আসিয়া পেপছিল। অমরেন্দ্র তাহাকে জিজ্ঞাসা করিল, “হ্যাঁ রে, মৃগী পাওয়া যায় এখানে ?” হরিদাস অঙ্গুলি নিদ্দেশে মক্ত বাতায়ন-পথে দেখাইল, “হাজার, ঐ যে দেখছেন সাঠের পারে আমগাছগলো, ঐখানে মোমিনপুর গেরাম। ওখানে অনেক চাষী মুসলমানের বাস। তাদের কাছে তালাস করলে মৃগী, এড়িা সবই পাওয়া যাবে।” অমরেন্দ্র নিজ ভৃত্যকে বলিল, “আমরা বেরিয়ে গেলেই ঐ মোমিনপরে গিয়ে গোটা দচ্চার মগী আর ভূজন-খানেক ডিম কিনে আনবি। রাত্রের জন্যে একটা মগীর রোস্ট আর একটা মগীর কারি বানিয়ে রাখবি। আমরা ফিরে এলে, তার পর ভাত বানাবি– ‘युलि ?” খানসামা বলিল, “জী হজের।” g বিধাতাপর্ষ কিন্তু অদশ্যে থাকিয়া এই ভোজনের আয়োজন শনিয়া হাসিলেন, ੇ এখন কিছুকাল এই দুই যুবকের অন্ন তিনি পথানান্তরে “মাপাইয়া” রাখিয়া I - খানসামা, প্রভুর আদেশ অনুসারে, তাহার আমকাঠের সিন্দকে হইতে, বরফজলপরিপণ দাইটি বড় বড় থাম্মের্ণফ্ল্যাক বাহির করিয়া, টিফিন-বাক্স সাজাইতে বসিল। হরিদাস সন্দিগধনেত্রে টিফিন-বাক্সের পানে চাহিয়া বলিল, “হাজার, এই বাক্সে রান্না মগেীটগাঁও যাচ্ছে নাকি ?” অমরেন্দ্র হাসিয়া বলিল, “না রে না। ঐ দেখ না, কচুরি, সিঙ্গাড়া, সন্দেশ-টন্দেশ ছাড়া আর কিছু নেই। ও কচরি-সিওগাড়াও আমার বাড়ীর বামন-ঠাকুরের ভাজা । তোর কোনও ভয় নেই।” টিফিন-বাক্স, বন্দকের বাক্স প্রভৃতি হরিদাসের মাথায় চাপাইয়া দই বন্ধ শিকারে কিন্তু কলির প্রাবল্যে সে কথা তাহদের সমরণ ছিল না। দ্বাই এইখানে এই যবেকদ্বয়ের একট, সংক্ষিপ্ত পরিচয় প্রদান আবশ্যক। কলিকাতা বাদড়বাগানে উভয়েরই বাস, উভয়েই বৈদ্যবংশসম্ভুত। অমরেন্দ্রনাথ “মুখে রপোর চামচ" লইয়াই জন্মগ্রহণ করিয়াছিল—তার পিতা অত্যন্ত ধনী ছিলেন, কলিকাতায় তাঁহার বিস্তৃত কারবার। নিজ বসত-বাটী ছাড়া এখানে ওখানে তাঁহার পাঁচখানি বাড়ী ভাড়া খাটে। তিনি এখন সবগগত, তাঁহার একমাত্র পর অমরেন্দ্রনাথই তাঁহার পরিত্যক্ত ব্যবসায় ও তাবৎ ভূসম্পত্তির মালিক। তিন বৎসর পাবে অমরেন্দ্রনাথের বিবাহ হইয়াছিল, গত বৎসর তাহার একটি পত্রসন্তান জমিয়াছে। সন্ত্রী সভাষিণী রপে-গণে অমরেন্দ্রনাথের মনোমত সহধৰ্ম্মিণী, তাহার সহিত অমরেন্দ্রনাথের প্রণয় . এখনও উন্দাম। অমরেন্দ্রনাথের জননী, সধবা অবস্থাতেই সবগারোহণ করিয়াছিলেন। সন্ত্রী ছাড়া, গহে তাহার একটি অবিবাহিতা ভগিনী আছে, তার নাম সান্ত্বনা, এবং এক বন্ধা জ্যেঠাইমা আছেন, তিনি বধর হাতে সংসারের ভার তুলিয়া দিয়া এখন হরিনাম জপ, এবং লোকজনকে তজন-গজন ও এ-কালের সব বিষয়ের নিন্দা করিয়া কাল-যাপন করেন। অপর যবেক সুকুমার মজুমদার দরিদ্রের সন্তান। তার পিতা অলপবেতনে কেরাণীগিরি করিতেন, দুইটি কন্যার বিবাহ দিয়া সব বান্ত হইয়া ইহলোক হইতে বিদায় গ্রহণ করেন। স্কুমারও কেরাণীগিরি করিয়া জীবন-যাপন করিতেছেন। গহে বিধবা জননী ©88 --