পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


থাকবে ।” বলা বাহুল্য এ কথা আমি কাণে তুলিলাম না; কিন্তু একদিন আরও অত্যন্ত ভয়ঙ্কর অশ্রাব্য কথা শুনিলাম। সে দিন আমার সহনাতীত হইল। তাহার পর গরদেব দশন দিলেন। তিনি আমার স্বামীগৃহত্যাগের কথা শুনিয়াছিলেন। বলিলেন—“মা, তুমি যে জীবন নির্বাচন করিলে, তাহা একান্ত কঠিন। এ সমদ্রে যখন ডাব দিলে, তখন গভীরতর গভীরতম প্রদেশে নামিতে হইবে, নহলে রত্ন মিলিবে না। শুধ শিকারাথী হাঙ্গর-কুম্ভীরের দংশনে প্রাণান্ত হইবে। প্রথম অবস্থায় পদে পদে বিপদ।” তিনি আমাদের বাড়ীতে রহিলেন, এবং স্বয়ং আমাকে শিখাইবার ভার লইলেন। বলিতে ভুলিয়াছি, কিছু কিছু সংস্কৃত শিখিয়া ফেলিয়াছিলাম। সমস্ত দিন এত পরিশ্রম করিয়া পড়াশনা আরম্ভ করিয়া দিলাম যে কলেজের আসন্ন-পরীক্ষা-ভীত ছেলেরাও তত পারে না। গরদেব আমাকে অধ্যাপনা করিতে করিতে আমার তীক্ষাবন্ধি দেখিয়া আশ্চৰ্য্য হইয়া যাইতেন । দাদার কাছে আমার প্রশংসা আর তাঁহার ফরাইত না। কিন্তু ছোটবউ আমার উপর বড় উৎপীড়ন আরম্ভ করিলেন। আমার অদষ্টট বড় মন্দ বলিয়া মনে হইতে লাগিল। কি কুক্ষণেই জন্মিয়ছিলাম, যেখানেই যাইব, সেইখানেই পরিবারে ঘোর অশান্তির ঝড় বহিবে । দাদা ভালমানষে, বধর সঙ্গে পারিয়া উঠিতেন না। বধ তাঁহাকে কি মন্ত্রে কি ঔষধিতে বশীভূত করিয়াছিল বলিতে পারি ন-যেন তাঁহার বিষদাঁত ভাঙ্গিয়া দিয়াছিল। দাদার আচরণ দেখিয়া মনে মনে ভারি ঘুণা হইত; তাঁহার উপর সেই পবেকার ভক্তি আমি কিছতেই রক্ষা করিতে পারিলাম না। ক্ৰমে ক্ৰমে আমার পড়াশনা পজাচ্চনার বিশেষ ব্যাঘাত হইতে লাগিল । কাঁদিতে কাঁদিতে দিবারারি প্রার্থনা করিতে লাগিলাম—“বিপদের কাড়ারী হরি, তামার কি দই কল যাইবে ।” একদিন গরদেব আমাকে নিজনে বলিলেন—“দেখ, এখানে তোমার সাধন ভজনাদির বড়ই বিঘ্য হইতেছে। এ অবস্থায় সংসারাশ্রমে থাকাও ঠিক নয়। আমি বলি কি, আমার সঙ্গে আমার আশ্রমে চল। জব্বলপুরের নিকট পাহাড়ে নামদা নদীর তীরে আমার কুটীর আছে। সেখানে তোমাকে কন্যাবৎ পালন করিব, শিক্ষা দীক্ষার পরম সযোগ হইবে।” আমি সম্মত হইলাম। একদিন গভীর রাত্রে, ঋষিতুলা পিতৃতুল্য গরে দেবের হস্তধারণ করিয়া গহ ত্যাগ করিয়া গেলাম। কাহাকেও জিজ্ঞাসা করি নাই, গর দেবের নিষেপ ছিল। গরদেব স্বহস্তে পত্র লিখিয়া সব কথা জানাইয়া শ্বস্যার উপর রাখিয়া গেলেন। অনেক পথ চলিয়া রাত্রি শেষ হইয়া আসিল । সে একটা প্রকান্ড মাঠ। চতুর্শিকে হদের পর্যন্ত মনুষ্যবাস দন্ট হইল না। একটা বিপলেদেহ বটবৃক্ষ ছিল, তাহার মলে বসিয়া দুইজনে শ্রান্তি দরে করিতে লাগিলাম। গরদেব তাঁহার পেটিলা হইতে সপ্ল্যাসীর উপযোগী গৈরিক বস্ত্রাদি বাহির করিলেন। আমাকে বললেন--"বাছা, তুমি এইগুলি পরিধান করিয়া সন্ন্যাসীবেশ ধারণ কর, নহিলে পথে বিপদ ঘটিতে পারে।” বলিয়া তিনি আড়ালে সরিয়া গেলেন। আমি বেশ পরিবত্তন করিয়া সন্ন্যাসী-পুরুষ গাড়িলাম। পথে পদাপণ করিয়াই এই ছলনা! মনটা যেন বিমৰ্ষ হইল; কিন্তু গীয়দেব যখন বলিয়াছেন, তখন আর কথা কি ? গরদেব শাককাঠ সংগ্ৰহ করিয়া একটা অগ্নিকুণ্ড প্রস্তুত করিলেন। তাহাতে, আমার পরিত্যক্ত বস্ত্রাদি ভস্মীভূত করিলেন। তাঁহার অভিপ্রায় অনুসারে কাঁচি দিয়া আমার চলগলি কাটিয়া ফেলিলাম। গায়ে মাথায় বিভূতি মাখিলাম। সেই বেশ, অন্যের থাথা দরে থাকুক, আমার মা যদি আসিয়া আমাকে দেখিতেন তাহা হইলে তিনিও চিনিতে (\రి