পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৯০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সশোভনা দরবীণ নামাইয়া বলিয়া উঠিল, “যাঃ, পড়ে গেল।” “কি দিদিমণি ?? “ঐ শিকারী।” “দরবীণটে দাও না দিদিমণি, দেখি।” : “দাঁড়া!”—বলিয়া সশোভনা দেখিতে লাগিল। সে দেখিল, অপর লোক দুইজন, সাবধানে পাড় হইতে নামিয়া সেই শিকারীর কাছে গিয়া দাঁড়াইল। শিকারীর নিকট তারা ঝ:কিয়া বসিল। একজন দীঘি হইতে জল আনিয়া শিকারীর মুখে-চোখে সেচন করিতে লাগিল। কিয়ৎক্ষণ এইরূপ করিতে করিতে, ভূপতিত ব্যক্তি উঠিয়া বসিল, তার পর আবার সে শ্যইয়া পড়িল। - সুশোভনা বলিল, “আহা, বড় বোধ হয় জখম হয়েছে!” বলিয়াই তাহার মাথায় এক বধি আসিল। আহা, এই জনশন্য তেপান্তর মাঠে, এই বিপদে, উহাদের কি হইবে ? বাইনকুলার ঝির হাতে দিয়া, সে ছটিয়া নীচে নামিয়া গিয়া ডাকিল—বাবা।” হরিশঙ্করবাবর একটু তন্দ্রা আসিয়াছিল, তিনি চমকিয়া উঠিয়া বলিলেন, “কি মা ?” সুশোভনা বলিল, “বাবা, কুমীরদীঘিতে এক বাঙ্গালী ভদ্রলোক শিকার করতে এসে, পা'ড় থেকে নীচে পড়ে ভয়ানক আঘাত পেয়েছেন। এই তেপান্তর মাঠের মধ্যে তাঁর কি উপায় হবে, বাবা?” হরিশঙ্করবাব চেয়ারে উঠিয়া বসিয়া বলিলেন, “কে.বললে তোমায় ?” “আমি ছাদ থেকে বাইনকুলার দিয়ে দেখছিলাম বাবা। তাঁকে পড়ে যেতে দেখলাম। অজ্ঞান হয়ে গেছেন বোধ হ’ল।” “কতক্ষণ ?” “এখনও পাঁচ মিনিট হয়নি বোধ হয়। বাবা, পালকী-বেয়ারা ছটিয়ে দিন, তাঁকে নিয়ে আসকে এখানে। নইলে আর ত কোনও উপায় নেই!" হরিশঙ্করবাব চেয়ার ছাড়িয়া উঠিয়া দাঁড়াইলেন। বলিলেন, "আচ্ছা, আমি নিজেই তা হলে পাকী নিয়ে যাই। তুমি ততক্ষণ এক কাজ কর, মা। তাকে এনে উপরে তোলা বোধ হয় চলবে না। নীচের ঘরে যে লোহার খাটখানা অাছে, তারই উপর ততক্ষণ বিছানা করে রাখ। আমার জামাটা জাতোটা দাও।” সংশোভনা ছটিয়া ঘরের মধ্যে গিয়া পিতার জমা ও জুতা লইয়া আসিল। পালকীবাহকগণ বাড়ীতেই থাকিত—তাহারা তখন আহারান্তে দিবানিদ্রার আয়োজন করিতেছিল। পালকীতে বিছানা বিছাইয়া হরিশপ্তকরবাব স্বয়ং উহাতে আরোহণ করিয়া কুমীরদীঘি অভিমখে যাত্রা করিলেন। - সুশোভনা ছাদে গিয়া ঝির হাত হইতে বাইনকুলার লইয়া, চোখে লাগাইয়া দেখিল, শকারীর সঙ্গে যে দুইজন লোক ছিল, তাহদের একজন কোথায় অদশ্য হইয়াছে,— অপর জন আহতের শাশ্রষায় নিযুক্ত। তার পর ঝিকে বলিল, “কিশোরীর-মা, বাবা রোগীকে আনতে পালকী নিয়ে নিজে গেছেন। নীচের ঘরে যে লোহার খাটখানা আছে, তাতে গদি পাতাই আছে, গদিটার ধলো বেশ করে ঝেড়ে, তার উপর একখানা তোষক আর একটা সাফ চাদর পেতে, রালিস-টালিস দিয়ে বিছানা পেতে রাখ গে—বাবা বলে গেছেন।” ও মা, কি আপদ হল! হে মা মধ্যসদন!”—বলিয়া ঝি প্রস্থান করিল। সুশোভনা দেখিতে লাগিল। ঐ তাহার পিতার পালকী ছটিয়াছে। এক মিনিট, দুই মিনিট, প্রায় মাঝামাঝি গিয়া পৌছিল। হঠাৎ একটা কথা তাহার স্মরণ হইল। সে নীচে নামিয়া গেল। কিশোরীর-মা তোষক ও বিছানার চাদর অন্বেষণে ব্যাপত। সুশোভনা জিজ্ঞাসা করিল, “কিশোরীর-মা, তুই চণে-হলুদ তৈরি করতে জনিস?” “হ্যাঁ দিদিমণি, তা আর জানিনে ?” . ♥8ፃ