পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পারবে না। ডাক্তার সাহেব সপ্তাহে একবার করিয়া আসিয়া রোগীকে দেখিয়া যাইবেন সিথর হইল। অমরেন্দ্রনাথের সন্ত্রী ও ভগিনী উভয়েই এখানে রহিয়া গেলেন। সকুমারও রহিল } হরিশপ্তকরবাব ও তাঁহার কন্যার যত্ন ও সৌজন্যে সকলেই আপ্যায়িত। ' 瓦丽 এক মাস কাটিয়া গিয়াছে—এখনও অমরেন্দ্রনাথের বন্ধাবসথা। প্রথমে ডাক্তার সাহেক তিন সপ্তাহের কথা বলিলেও, গত সপ্তাহে তিনি রোগীর ভাগ পায়ের এক্সরে ফটো তুলিয়া লইয়া গিয়াছিলেন, এ সপ্তাহে সেই ছবি আনিলেন এবং সকলকে উহা দেখাইলেন যে, হাড় বেমালমভাবে যোড়া লাগিয়া. গিয়াছে। বলিলেন, তথাপি নিশ্চয়কে নিশ্চয়তর করিবার জন্য আরও দুই সপ্তাহ রোগীর বাঁধন খলিবেন না। বাঁধন খলিলেও রোগী ধাড়াঁ যাইতে পাইবে না, এক সপ্তাহ বিছানায় পড়িয়া থাকিয়া পায়ে মালিস করাইতে হইবে, কারণ, এই দীঘকালের অ-সঞ্চালনে পা অসাড় হইয়া গিয়াছে, আরও যাইবে। অমরেন্দ্রনাথের সন্ত্রী সভাষিণী ও ভগিনী সান্ত্বনা দুজনেই এখানে। প্রথম চারি পাঁচ দিনের পর যখন দেখা গেল যে, রোগীর কোনও প্রকার দৈহিক যন্ত্ৰণা আর নাই, অধিক শাশ্রষারও আবশ্যক হয় না, তখন ইহারা নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করিয়াছিলেন যে, সান্ত্বনাকে লইয়া সভাষিণী ফিরিয়া যাউন, গহস্থের যথেষ্ট আশ্রমপীড়া ঘটানো হইতেছে, তাহার যতটুকু লাঘব করা যায়। স্কুমারের অপিস খলিলে একদিনমাত্র গিয়া সে এক মাসের ছটা লইয়া আসিয়া এখানে থাকুক। কিন্তু হরিশংকরবাব কিছুতেই এ প্রস্তাবে রাজি হন নাই—বিনীতভাবে উত্থাপিত আশ্রমপীড়ার কথা তিনি হাসিয়াই উড়াইয়া দিয়াছিলেন, বলিয়াছিলেন, “আমরা এতগুলি লোক যদি দুবেলা দমটো খেতে পাই, তবে তোমাদেরও দমটো খাওয়াতে আমার কাট হবে না। এই সঙ্কটের দিনে স্ত্রী, ভগিনী কাছে থাকলে, আর কিছ না হোক, মনটাও ভাল থাকবে, তাই কি কম লাভ ? না না, ও সব ছেলেমানষেী খেয়াল তোমরা ছেড়ে দাও 1" ও দিকে আবার এক বিষম বিভ্রাটি বাধিয়া গিয়াছে। সভাষিণী, সান্ত্বনা রোগীর পরিচযৰ্যার জন্য রহিয়া গেল, সুকুমারের থার্কিবার বিশেষ কিছু আবশ্যকতা ছিল না, কিন্তু সে-ও আছে। আপিস খলিবার দিন অপিসে গিয়া সে দই সপ্তাহের ছুটী লইয়া আসিয়াছে—এবং তাহার থাকিবার কারণ যে নিছক বন্ধ্যপ্রীতি, এ কথাও জোর করিয়া বলা চলে না। আসল কথা এই যে, এ বাড়ীর মেয়ে সুশোভনকে তাহার বড়ই মিণ্ট লাগিয়াছে। সান্ত্বনা, সভাষিণী প্রায় সারাদিনই রোগীর নিকট থাকে, স্কুমার আসিলে সভাষিণী একটা সঙ্কুচিতা হয়, সান্ত্বনা ”ৰ্মখ হাঁড়ি” করে-সুতরাং রোগীর পাশেব বসিয়া থাকার তাহার প্রয়োজনও হয় না এবং উহা প্রীতিকরও নয়। সুতরাং সে প্রায় সারাদিন সুশোভনার আশে-পাশেই থাকে এবং এটাও সে বুঝিতে পারিয়াছে যে, সুশোভনা তাহাতে বিরক্ত ত নয়ই, বরং তাঁহার উলটা। সুশোভনা ও সান্ত্বনাকে যখনই সে একত্র দেখে, তখনই তাহার মনের কপাস-কাঁটা সান্তুনার প্রতি বিমুখ হইয়া, সংশোভনার প্রতি বেগে ধাবিত হয়। মেয়েরা স্নান করিতে গেলে, সুকুমার, আসিয়া বন্ধর শষ্যাপার্শ্বেব বসে। বন্ধকে সব কথাই সে বলিয়াছে। কবে এবং কি অবস্থায় ইহাদের দুজনের মন জনাজানি হইয়াছিল, তাহ আমরা ঠিক জানি না; কিন্তু সশোভনার কলেজ খলিবার-দই দিন পবে, অপরাহ্লে বাগানের আমগাছের ছায়ায় লোহার বেঞ্চে বসিয়া দইজনে এইরুপ কথোপকথন হইতেছিল। ' সকুমার। পরশ ত তোমার কলেজ খলছে, তুমি ত চললে! সদশোভনা। হ্যাঁ, যেতেই ত হবে। ঐ দিন তোমারও ত ছটী ফরোবে ? সক। হ্যাঁ, আমাকেও যেতে হবে। কিন্তু তার আগে, বাবার কাছে আমি কথাটা ల83 -