পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৯৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তাতে তুমি মনঃক্ষণ হয়েছিলে, নয় ?” “সেটা ত খুব স্বাভাবিক।” “না ভাই, তুমি মনঃক্ষরশ্ন হয়ে না, আমার উপর রাগ কোরো না, তোমার বোনকেই আমি বিয়ে করবো।” “কেন, কি হ’ল ? সশোভনা সম্বন্ধে হরিশঙ্করবাব অমত করলেন ? তবে তোমার মখে এমন হাসি হাসি কেন ? তুমি যে একটি প্রহেলিকা হয়ে দাঁড়ালে হে!” “তোমায় বুঝিয়ে বলছি। হরিশপ্তকরবাব একটা বাধা সম্বন্ধে বিবেচনা করে আজ আমার প্রস্তাবের উত্তর দেবেন বলেছিলেন, জান ত ?” “কাল রাতে তুমি আমায় বলে গিয়েছিলে।” "ণ্ঠর বাধাটা কি শোন। শোভনা ওঁর ঔরস-কন্যা নয়, ওঁর পালিতা-কন্যা, একরকম কুড়িয়ে পাওয়া। ও কি জাতের মেয়ে, তা-ও তিনি জানেন না। আমরা পাকা হিন্দ, হয়ত সব কথা জানলে আমাদের আপত্তি হতে পারে, তাই ছিল ওঁর বাধা । চৌদ্দ বছর পবে, তিন বছর বয়সের সন্দেরী মেয়েটিকে কোথায় কি অবস্থায় তিনি পেয়েছিলেন, . সমস্ত আমায় আজ বললেন ।” “কোথায় পেয়েছিলেন ?” “লক্ষেীয়ে।” শনিবামাত্র অমরেন্দ্রনাথ চমকিয়া উঠিল। বলিল, “লক্ষেীয়ে ?” সকুমার বলিল, “হ্যাঁ, লক্ষেীয়ে। ষে বদমাইসরা লক্ষেীয়ে তোমার বোনকে চরি করে নিয়ে যায়, তারা ওকে তিনশো টাকায় এক পতিতা সন্ত্রীলোকের কাছে বিক্ৰী করেছিল। হরিশপ্তকরবাব তার কিছুদিন পরেই সন্ত্রীক লক্ষেীয়ে গিয়েছিলেন। লক্ষেীবাসী ওঁর এক মসলমান বন্ধর কাছে মেয়েটির কথা শোনেন,—আর শোনেন যে, বদমাইসরা বলেছিল, ওটি বাঙ্গালীর মেয়ে। উনি সেই পতিতা স্ত্রীলোককে পলিসের ভয় দেখিয়ে, তাঁর উপর পাঁচশো টাকা দিয়ে, মেয়েটি কিনে নেন। তার পর থেকে নিজের সময়ের মত পালন করেছেন। তোমার বোন হারানোর সমস্ত ইতিহাসই আমি তোমার কাছে, তোমার বাবার কাছে, তোমার মা'র কাছে শুনেছিলাম ত ! স্থান, কাল, সমস্তই দেখ মিলে যাচ্চে। সুশোভনাই যে তোমার সেই হারানো বোন তাতে আমার মনে ত কোন সন্দেহই নেই।” - অমরেন্দ্র বলিল, “তুমি এ কথা হরিশঙ্করবাবকে বলেছ ?” “ভাই, তুমি একবার গিয়ে তাঁকে আমার কাছে ডেকে নিয়ে এস, আমি নিজে তাঁকে সব কথা জিজ্ঞাসা করি।” হরিশঙ্করবাব আসিলেন। বোন হারানোর সময় অমরেন্দ্রনাথ বারো বৎসরের বালক । সকল কথাই তার সমরণ ছিল। হরিশপ্তকরবাবর প্রদত্ত বিবরণ সমস্তই ঠিক ঠিক মিলিয়া গেল । অমরেন্দ্র বলিল, “হ্যাঁ, একটা কথা জিজ্ঞাসা করি। সুশোভনার বাঁ-কনময়ের উপরটায় একটা জড়ল আছে কি ? আমার নিজের অবশ্য সেটা ঠিক সমরণ নেই, কিন্তু মা'র কাছে আমি শনেতাম যে, আমার সে বোনের হাতে ঐ চিহ্ন ছিল।” হরিশপ্তকরবাব বললেন, “হ্যাঁ, ঠিক সেইখানে জড়ল আছে।” স্থির হইল, এখন শোভনাকে এসব কথা জানাইবার কোনই প্রয়োজন নাই; কারণ, হরিশঙ্করবাব তাহার জন্মদাতা পিতা নহেন শুনিলে বালিকার হাদয়ে আঘাত লাগিতে কথা জানাইবে। లి(t -