পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৯৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কাছে ঘে’সবে " উকীলবাব বললেন, “দেখ হে আমি বলে দিচ্চি—তুমি শীগগিরই পসার করে তুলতে পারবে। তুমিই বারের উপযন্ত লোক।” এইরূপে পরাতন চাপকন ও শামলা সংগহীত হইল। নিজ নবীনত্ব ভাল করিয়া ঢাকিবার প্রয়াসে, সবোধচন্দ্র কবিরাজী দোকান হইতে এক শিশি পাকতৈল কিনিয়া অনিয়াছিলেন, ইচ্ছা ছিল মাথায় মাখিয়া সম্মখের চলের কিয়দংশ শত্র করিয়া ফেলিবেন। কিন্তু একটা দব্বলতার মহত্তে সীর নিকট কথাটা ফাঁস করিয়া ফেলিয়াছিলেন। পরদিন শুনিলেন, বিড়ালে শিশিট টেবিলের উপর হইতে কেমন করিয়া ফেলিয়া দিয়াছে, শিশি ভাঙ্গিয়া তেলটকুৈ নন্ট হইয়া গিয়াছে। - কিন্তু দিনকাল কি ভয়ানকই পড়িল! যে এত বৃদ্ধি ধরে সেও চারি বৎসর ধরিয়া দিনাজসাহীর বার লাইব্রেরিতে যাতায়াত করিয়া মক্কেল জটাইতে পারিল না। সবোধচন্দ্রের বাসাটি সদর রাস্তার ধারেই। ক্ষুদ্র দ্বিতল গহখানি–রাস্তার উপর একটি ফটক আছে—তাহার পর সামান্য একটী কম্পাউণ্ড-তাহার পর গহের বারান্দা। বাড়ীটির ভাড়া মাসে কুড়ি টাকা করিয়া, কিন্তু তিন চারি মাস ভাড়া বাকী পড়িয়া গিয়াছে। ষে মদীর দোকান হইতে চাউল প্রভৃতি আসে- তাহারও শখানেক টাকা প্রাপ্য। বাড়ীওয়ালা ও মদী, সবোধবাবকে বিষম বিরক্ত করিতে আরম্ভ করিয়াছে। দিনাজসাহীতে আসিয়া তাঁহার ধনরত্ন উপাত্তজন না হউক, তিনি দুইটি কন্যারত্ন উপাতজনি করিতে সমথ' হইয়াছেন। আর উপাতজন করিয়াছেন একটি বন্ধরত্ন-জগৎপ্রসন্নবাব। জগৎবাবর সঙ্গে তাঁহার বিশেষ বন্ধতা। জগৎবাবও একজন নব্য উকীল, তবে তাঁহার অবস্থা সবোচনের মত শোচনীয় নহে। তাঁহার পিতা প্ৰথানীয় উকীল ছিলেন। পিতার মৃত্যুর পর, পরাতন মক্কেলগণের মধ্যে কেহ কেহ তাঁহার পত্রকে পরিত্যাগ করে নাই। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ শীতের প্রভাত। আফিসে বসিয়া, চিনি অভাবে গড় দিয়া সবোধবাব চা পান করিতেছিলেন। সবদেশীর কল্যাণে এখন আর তাহাতে তাঁহার লজ্জা নাই। গবের সহিত লোককে বলিয়া থাকেন—“দোকানদার বেটীদের বিশ্বাস নেই মশায়। দেশী চিনি বলে যা দেয় তা জাভার চিনি। লোকে মনে করে হলদে চিনি হলে দেশী হয়, শাদা দানাদার চিনিই কেবল বিদেশী, কিন্তু তা মহা ভুল। জাভা, মরিশস প্রভৃতি দেশ থেকে রাশি রাশি হলদে চিনি আমদানি হচ্ছে। তার চেয়ে মশায় আমি গড়ই নিরাপদ মনে করি।” সবোধবাবর চা পান শেষ হইয়া গেল। পেয়ালা লইয়া যাইবার জন্য বিকে ডাকাডাকি করিলেন, কিন্তু সাড়া পাইলেন না। . তখন অগত্যা নিজেই পেয়ালা বাড়ীর মধ্যে লইয়া গেলেন। সন্ত্রীর নিকট শনিলেন, আজ ঝি বাকী বেতনের জন্য মহা গন্ডগোল করিয়া, রাগ করিয়া চলিয়া গিয়াছে। বলিয়াছে—নালিস করিয়া টাকা আদায় করিয়া লইবে। একটি দীঘনিঃশ্বাস পরিত্যাগ করিয়া, নিজ হস্তে একছিলিম তামাক সাজিয়া সবোধচন্দ্র বাহির হইয়া আসিলেন। কলেজে পাঠকালে, অন্যান্য ইয়ং বেঙ্গলের ন্যায়, তিনিও ধুমপান করিতেন না। বারে আসিয়া দেখিলেন, বিজ্ঞ উকীলগণ সকলেই ধুমপান করিয়া থাকেন; অলপ বিস্তর ইত্যাদিও পান করেন। কেবল নব্য উকীলগণই সব্বপ্রকার পানবিমখ। দেখিয়া অবিলম্বে সবোধবাব, দই টাকা মল্যের এক গড়গড়া কিনিয়া ফেললেন। আট আনা একসের তামাকে তাঁহার পনেরো দিন চলিতে লাগিল। খবর লইয়া জানিলেন, ইত্যাদির দাম অনেক—তিন টাকার কম এক বোতল পাওয়া যায় না। সুতরাং ইত্যাদি করিতে ক্ষান্ত রহিলেন। মাসে এক টাকার তামাক পোড়াইয়াও যখন পশার হইল না, তখন সবোধবাব একদিন রাগ করিয়া তামাক পরিত্যাগ করিয়াছিলেন। কিন্তু দই দিন so