পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৫৯৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যাইতে না যাইতেই আবার ধরিতে হইল—“কমলি” তাহাকে ছাড়িল না। তবে এখন তিনি যে তামাক ব্যবহার করেন, তাহা আট আনা সের নহে—চাাঁর আনা সের মাত্র । শীতের প্রভাত উত্তীণ প্রায়। আজ রবিবার—কাছারি যাইতে হইবে না। নিশ্চিন্তমনে সবোধচন্দ্র ধমপান করিতে লাগিলেন—আর আপনার অদষ্ট চিন্তা করিতে লাগিলেন। তাঁহার সামান্য যাহা পৈতৃক পজি ছিল তাহা ব্যয় হইয়া গিয়াছে। তাহার পর স্ত্রীর অলঙ্কারগুলিও একে একে যাইতে আরম্ভ করিয়াছে। এমন করিয়া কতদিন আর চলিবে ? কি উপায় হইবে ? ইদানীং বিজ্ঞাপন দেখিয়া অনেক স্থানে কম্মের জন্য আবেদন করিয়াছেন, কিন্তু কোনও ফল হয় নাই। দিন দিন খরচ বন্ধিই হইতেছে—আয়ের অঙ্ক শান্য বলিলেই হয়। মাঝে মাঝে কমিশন করিয়া কিছু পান, কিন্তু তাহাতে কোনমতেই সঙ্কুলান হয় না। ভাবিতে লাগিলেন—আর ধর্মপান করিতে লাগিলেন। বাহিরে মোহনভোগওয়ালা ঘী—গাওয়া-ঘাঁ ওয়ালা রাস্তা দিয়া হাঁকিয়া যাইতেছে। মক্কেলহীন নিজন গহে বসিয়া, চারি আনা সেরের এক ছিলিম তামাক সবোধবাব নিঃশেষে ভস্ম করিয়া ফেলিলেন । এমন সময় বাহিরে হাতায় পদশব্দ শ্রত হইল। সে আসে? মক্কেল নহে ত ? পাড়িয়া লইয়া, অত্যন্ত মনোযোগের সহিত তাহা পাঠ করিতে লাগিলেন। পদশব্দ কপাউণ্ড হইতে বারান্দায় উঠিল। পরমহত্তে জগৎপ্রসন্নবাব প্রবেশ করিলেন। তাঁহার হসেত একখানি সংবাদপত্র। ব্রীফ সরাইয়া রাখিয়া, সবোধবাব বন্ধকে স্বাগত সম্ভাষণ করিলেন ।--"আরে এস এস—এত সকালে কি মনে করে ?” “আর ভাই বসে বসে কি করি—আসা গেল একটু গল্পগুজব করতে।” “বেশ করেছ। আমিও একলাটি ছটফট করে মরছিলাম। আজকের বেঙ্গলী নাকি ? দেখি।" "কাগজ লইয়া সবোধবাব চাকরী খালির বিজ্ঞাপন অন্বেষণ করিতে লাগিলেন। জগৎবাব বললেন, “শনেছ? পরশ বেলা ৭টার সময় ফলার সাহেব এসে পেপছবেন।” সবোধ বললেন, “৭টার সময় ? শুনে খসী হলাম। আমার বাড়ী আসবেন না ত ?” জগৎ হাসিয়া বলিলেন, “বলা যায় কি ? আসেনই যদি—এত ভয় কেন ?” 蛟 সুভুট-আমার স্বদেশী ঘরকন্না, তাতে ঝি-টিও পালিয়েছে। তাঁকে খাতির করব * তির যদি করতে পার তা হলে সুবিধ করে নিতে পার—তা জন সবােধ বেচারি যেখানে যাচ্ছে—কেউ খাতির করছে না ! কোনও মিউনিসিপ্যালিটি অভ্যর্থনা করছে না—অনেক জায়গার ডিট্রিক্ট বোড পয্যন্ত অভিনন্দনপত্র দেবার প্রস্তাব করে বে-সরকারী সভ্যদের কাছে হার মেনে যাচ্চে t” সবোধ পরিহাসছলে বলিলেন, “খাতির করলে একটা চাকরি-বাকরি পাওয়া যায় ত থল, আমি নিজে একটা অভিনন্দনপত্র দিয়ে ফেলি।” “শোননি—পর্বেবঙ্গের একজন উকীল ফলার সাহেবের নামে একটা কবিতা রচনা করে গভর্ণমেণ্ট প্লীডারের পদ পেয়ে গেছে।” সবোধচন্দ্রের জীবনে এই একটা পরম মহত্ত উপস্থিত হইল। পরিহাস করিয়া যাহা প্রস্তাব করিয়াছিলেন, হঠাৎ গভীরভাবে সে কথাটা মনে মনে পৰ্য্যালোচনা করিতে তারভ করলেন। কয়েক মহত্তে চিন্তা করিয়া বলিলেন, যা বলেছ। একটা গবর্ণমেণ্ট প্লীডারী পেলে যে গো-জন্ম থেকে উদ্ধার হয়ে যাই। কি করা যায় বল দেখি ?” ভগৎবাব কিন্তু কথাটা পরিহাসের ভাবেই গ্রহণ করিলেন। বললেন, “ইংরেজি কবিতা 1লখতে পারবে ?” "না"। কখনও দুটো লাইন মেলাইনি।” "চেণ্টা করে দেখনা । একটা ফুতা লিখে সোণার জলে ছাপিয়ে ফেল। ফলার