পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পারিতেন না ! সমস্ত দিন পথ চলিয়া, সন্ধ্যার পর্বে একস্থানে আসিয়া রেল পাইলাম। রেলে চডিয়া তৃতীয় দিনে কাশীধামে পেশছিলাম। శాస్గో সমস্ত দিবাভাগ ঠাকুর দেখিয়া বেড়াইতে লাগিলাম। কত আনন্দ । কাশী হইতে প্রয়াগ প্রয়াগেও কয়েক দিন কাটিল। প্রয়াগ হইতে জব্বলপরে গমন করিলাম। জবলপরে নামিয়া গরদেবের আশ্রমাভিমখে অগ্রসর হইলাম। কি সন্দের পাবতীর দশ্য ! কোথাও কোথাও জঙ্গল। দই একটা বন্যজন্তু বাহির হইয়া চকিতের মধ্যে আবার বনে প্রবেশ করিতেছে। আমি তৎপশ্চাবে আর কখনও পববতারোহণ করি নাই। পবিতারোহণ করিতে অত্যন্ত আনন্দ হইতে লাগিল। কলনাদনী নত্যপরা নমদার তীরে গর দেবের আশ্রম গহ। সম্মখে পশ্চাতে কয়েকটি মহাবলী শালতর দণ্ডায়মান। পাথরের গাঁথা তিনটি শ্ৰীহীন কক্ষ। পাহাড়ীরা আসিয়া গরদেবকে ও আমাকে ভূমিপশ করিয়া প্রণাম করিতে লাগিল। আমি নীরব রহিলাম, গরদেব সমিতমুখে আশীৰবচন বিতরণ করিতে লাগিলেন। তাহারা তৃণসংগ্ৰহ করিয়া আনিল। দুইটি কক্ষে আমরা দুইটি শয্যা প্রস্তুত করিলাম। কেহ কেহ বনজাত ফলমল আনিয়া দিল। একজনকে পল্লী হইতে । তণ্ডলাদি কিনিয়া আনিতে পাঠান গেল। কয়েকদিন পড়াশনা পজাচ্চনা বেশ চলিল। চারিদিকে যেন শান্তির রাজ্য, কোলাহল নাই, সংসারের শতপ্রকার বাধাবিঘ্য কিছুই নাই। সাধন ভজনের পক্ষে এই উপযুক্ত পথান বটে। কিন্তু এইবার আমি এই আখ্যায়িকার পরম সঙ্কটস্থানে আসিয়াছি। আমার জীবনের গতি ভিন্ন দিকে কেমন করিয়া ফিরিল, এইবার তাহাই বলিবার সময় উপস্থিত হইয়াছে। এখন মনে হইতেছে বটে, যাহা হইয়াছিল তাহা ভালই হইয়াছিল, কিন্তু তখন বগা আর মত্তা, রসাতলের মত অন্ধকার ও ভুজঙ্গমসঙ্কুল মনে হইয়াছিল। আমি ফিরিলাম, কিন্তু কি নিষ্ঠর আঘাত পাইয়া ফিরিলাম। সমরণ করিলে হংকল্প উপস্থিত হয়। আমি কল্পনায় যে পণ্যময় প্রভাময় সবগরাজ্য নিম্মাণ করিয়াছিলাম, একদিন মহত্তের মধ্যে তাহা চণ বিচর্ণ হইয়া ধলায় মিশিয়া গেল। যে গরকে দেবতাজ্ঞানে এতদিন পজা করিলাম, মহত্তের মধ্যে তাঁহার ভিতর হইতে পাপের ক্ষুধাশীর্ণ কঙ্কালমত্তি’ বাহির হইয়া পড়িল। তোমরা স্তম্ভিত হইয়াছ ? স্তম্ভিত হইবার কথা বটে। মানুষকে কখনও বিশ্বাস করিও না। যে যত বড় জ্ঞানী, যত বড় ধামিক, যত বড় জিতেন্দ্রিয় পরষ হউক, বিশ্বাস করিও না। পরাণে যে মহা মহা ঋষি তপস্বীর পদস্খলনের বর্ণনা আছে, তাহার এক কণিকামাত্র অতিরঞ্জন নহে। যখন আমার পিত্রালয়ে গরদেব সমস্ত দিন, সমস্ত সন্ধ্যা ধরিয়া আমার অন্তরে জ্ঞানামত সঞ্চার করিতেন, আমি কি জানিতাম যে, আমি ততক্ষণ অজ্ঞাতসারে তাঁহার হৃদয়ে কুবাসনার বিষকীটের সঞ্চার করিতেছি ? তিনি যখন আমাকে বলিলেন,—“বংসে, এখানে তোমার সাধন ভজনাদির ব্যাঘাত হইতেছে, আমার সঙ্গে আমার আশ্রমে চল”, তখন যদি তাঁহার অন্তরের অন্তস্তল পৰ্য্যন্ত দেখিতে পাইতাম, তবে, সুপ্তিভঙ্গে শয্যাশিয়রে সপ দেখিলে মানুষ যেমন চমকিয়া উঠে, আমি কি সেইরাপ চমকিত হইতাম না ? আমি নিজের জন্য কিছমাত্র দুঃখিত নহি; আমার যাহা হইয়াছে তাহা ভালই হইয়াছে; কিন্তু তাঁহার অবস্থাটা সমরণ করিলে চক্ষে জল আসে। সারাজীবনের তপস্যা তিনি আমার পায়ে ঢালিয়া দিলেন ! মাঝে মাঝে আমার মনে হয় তাঁহার এই দন্দেশার জন্য আমিই আংশিকর পে দায়ী কি না ; আমার কি দোষ ? আমি কিসের জন্য দায়ী হইব ? - & 8