পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬০১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


উৎসবের আয়োজন করিতেছে না । বঙ্গভঙ্গজনিত শোক ও - অপমান সকলেরই মনে জাগরকে রহিয়াছে। নতন লাটসাহেবকে সকলেই বিদ্বেষের চক্ষে দশন করিতেছে। মিউনিসিপ্যালিটির বে-সরকারী সভ্যগণ অভিনন্দন করিবার বিরুদ্ধে রেজোলিউসন করিয়াছেন। ডিস্ট্রিক্ট বোড়ে'র সভাতেও ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব বিশেষ চেষ্টা করিয়াও কৃতকাষ্য হইতে পারেন নাই। সেখানেও অভিনন্দন দিবীর প্রস্তাব উত্থাপিত করিয়া গভণমেন্ট-পক্ষ ভোটে পরাজিত হইয়া গিয়াছেন । পথানীয় যে সকল বড় জমিদার সমস্ত সাধারণ কায্যে অগ্রসর ছিলেন, তাঁহাদের অধিকাংশ লোকেই হঠাৎ পীড়াগ্রস্ত হইয়া ব্যয় পরিবত্তনের জন্য নানাপথানে প্রস্থান করিয়াছেন । কেবল সম্প্রতি জনৈক মুসলমান ডেপুটি , ম্যাজিষ্টেট ও সবরেজিষ্ট্রোর সাহেবের বিশেষ চেষ্টায়, জন কৃড়ি মুসলমান লইয়া একটি সাহেবকে এক অভিনন্দনপত্র দেওয়া হুইবে । দুঃখের বিষয়, আঞ্জুমানের বে-সরকারী সভ্যগণের মধ্যে কেহই ইংরাজীভাষা ভালরপে অবগত ছিলেন না। দরবারে অভিনন্দনপত্র পাঠ করে কে ? এই বিষম সমস্যার বিষয় তার যোগে অবগত হইয়া, ঢাকার নবাব বাহাদর একজন ইংরাজি-জানা পারিষদকে দিনাজসাহীতে পঠাইয়া দিয়াছেন। সোমবার প্রভাতে উঠিয়া, নগরবাসিগণ এক আশ্চৰ্য ঘটনা অবলোকন করিল। সবোধবাব উকীলের বাটী সাঁজত করিবার জন্য দশ বরোজন লোক লাগিয়া গিয়াছে। রাশি রাশি ঝাউ ও দেবদারপত্র আসিয়াছে। কয়েকটা সদ্যচ্ছিন্ন কদলীবীক্ষ দেখা গেল। দেখিতে দেখিতে স্কুবোধবাবর ফটকের উপর বাখারীর আচ্চ তৈয়ারী হইয়া উঠিল। দেখিতে দেখিতে সে আচ” দেবদারপত্র মণ্ডিত হইয়া উঠিল । দই পাবে দইটি কদলীবীক্ষ রোপিত হইল। প্রত্যেক বক্ষের নিনে একটি করিয়া হরিতালচিত্রিত পণ ঘট । গাহের জানালাগুলির চারিপাশেব গেদাফলের মালা সাজাইয়া দেওয়া হইল ! বাহিরের দেওয়ালের স্থানে স্থানে ঝাউপাতার ব্যক্ত রচনা করিয়া, তাহার কেন্দ্রদেশে বিবিধবর্ণের ফলের গাছ সংস্থাপিত হইল। পত্র ও পতপকে সজীব রাখিবর জন্য এক ব্যক্তি মাঝে মাঝে পিচকারি এই সমস্ত করিতে বেলা একটা বাজিয়া গেল। তাহার পর আহারাদি করিয়া, একখানি দরখাস্ত লিখিয়া সবোধবাব পলিস অফিসে ছটিলেন। দরখাতে প্রার্থনা ছিল, যেন তাঁহাকে শ্রীল শ্রীযুক্ত ছোটলাট সাহেব বাহাদরের শভোগমন উপলক্ষে, আগামীকল্য সন্ধ্যার সময় নিজ গ্রহের কম্পাউণ্ডে কিছু বাজী পোড়াইবার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়। বলা বাহুল্য, দরখাসত পেশ হইবামাত্র পুলিশ সাহেব তাহা মঞ্জর করিয়া দিলেন। সবোধচন্দ্র বাটী ফিরিয়া আসিয়া বেশ পরিবত্তন করিয়া, আবার গহবার সজ্জিত করিতে মন দিলেন। একখানি লম্বা তক্তা আনাইয়া তাহা শাদা কাগজে মড়িয়া তাহার উপর লাল কাগজের কাটা অক্ষরে ফলার সাহেবের প্রতি স্বাগত-সভাষণসচক শব্দ-সমটি বসাইতেছিলেন, এমন সময় জাতীয় বিদ্যালয়ের কতিপয় বালক ও যবেক আসিয়া তাঁহার সহিত সাক্ষাৎ করিল। একজন যবেক তাঁহাকে বিনীত নমস্কার করিয়া বলিল, “আপনি এ কি করছেন ?” -- সবোধচন্দ্র অত্যন্ত ভালমানষের মত বলিলেন, “কাল লাটসাহেব আসছেন কিনা, তাই বাড়ীটা একটু সাজাচ্ছি।” "কেউ বাড়ী সাজাচ্ছে না, আপনি সাজাচ্ছেন কেন ?” “কেন, তাতে দোষটা কি ?” “বঙ্গচ্ছেদের জন্য সবাই এখন শোকে মগন রয়েছে; এই কি উৎসবের সময় ?” “শোকে মনে রয়েছে নাকি ? কেন শোক কিসের ? সরাই ত বেশ হেসে খেলে বেড়াচ্ছে দেখছি।” “আপনি কি তবে বংগচ্ছেদ হানন্দের বিষয় বলে মনে করেন ?” সবোধচন্দ্র একটু বিপদে পজিলন, বিগত ৩০শে আশ্বিন যে সভা হইয়াছিল,