পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬০৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


His Honour স্বয়ং তোমাকে আহনন করিযাছেন। যথাসময়ে উপস্থিত হইও ।” সবোধ যে আজ্ঞে বলিয়া প্রস্থান করিলেন। r. - হঠাৎ এ কি হইল - গত পরবদিন জগৎপ্রসন্ন ঠাট্টা করিয়া বলিয়াছিল—“দরবারের কাড' পাবে? প্রাইভেট ইন্টারভিউ করতে, নিমন্ত্রণ হবে "—সবই ত হইল। এখন গভর্ণমেণ্ট প্লীডারিটাই কি ফকাইয়া যাইবে ? আশ্চৰ্য্য ! যাহা বনাতীত ছিল, সে সমস্তই ঘটিয়া যাইতেছে। তবে কি সদিন উপস্থিত হইল ? এতদিনের পর কি গ্রহদশা খণ্ডিত হইল ? এইরুপ চিন্তা করতে করিতে, ধীরে ধীরে সবোধচন্দ্র গহাভিমুখে পদচালনা করিলেন। * বাড়ীর কাছাকাছি আসিয়া, রাস্তাব অপর পাবে ক্ষণেক দাঁড়াইয়া বকৃত পত্রপাপসজা নিরীক্ষণ করিতে লাগিলেন। লাটসাহেব সজ্জিতকরণের সরচির প্রশংসা করিয়াছেন। অনিমেষ নেত্ৰে সবোধবাব নিজ কীৰ্ত্তি দেখিতে লাগিলেন। এমন সময় এক অভাবনীয় বিপদ উপস্থিত হইল। তিনি যে বাড়ীর সন্নিকটে দাঁড়াইয়া মগধ-নেত্ৰে নিজ গহশোভা দেখিতেছিলেন, তাহা একজন উকীলের বাড়ী। সেই বাড়ীর কয়জন দৰ্ট বালক, ছাদের উপর হইতে, এক গামলা গোবর ও কাদা-গোলা জল সবোধবাবর মস্তক লক্ষ্য করিয়া ঢালিয়া দিল। সবোধচন্দ্র চকিতনের উন্মদিকে দণ্টিপাত করলেন। কে বিদ্যুপের স্বরে চীৎকার zfqqi Ği*--*Long live Subodh Babu–Welcome to Pandemonium." গোবর ও কাদা-গোলা জল তাঁহার শামলা বহিয়া চপকানে পতিত হইল। চাপকানকে রঞ্জিত করিয়া প্যান্টালনের পদদ্বয় বহিয়া, জুতার মধ্যে প্রবেশ করিল। সবোধবাব :জতা’চব চব করিতে করিতে যথাসাধ্য ত্বরিত-পদে নিজ গহে প্রবেশ করিলেন। চতুথ পরিচ্ছেদ সেই একটিমাত্র পোষাক--তাঙ্গা গেল নষ্ট হইয়া। এখন কি পরিরা সবোধব বড় প্রাইভেট ইণ্টারভিউ করতে যান - স্নান আহার করিয়া তিনি অনাথবাব ডেপুটির বাসায় ছটিলেন। তাঁহাকে সকল অবস্থা জানাইয়া, একসটে পোষাক ধার চাহিলেন। ডেপুটিবাক বলিলেন, “মশায়, আচ্ছা, তা পোষাক না হয় দিচ্চি। কিন্তু আপনার এ কমভোগ কেন ? আমরা গোলামী করছি—আমাদের সবই করতে হয় । কিন্তু আপনার বাড়ী সাজানই বা কেন ? দরবারে য়াওয়াই বা কেন : প্রাইভেট ইন্টারভিউ করবার এত আগ্রহ বা কেন ?" সবোধবাবর মুখখানি ছোট হইয়া গেল। বলিলেন, “সাহেব নিজে বলেছেন ; না গেলে সেটা কি ঠিক হয় ?” ডেপুটিবাবরে হঠাৎ মনে হইল—এ সব কথা এ লোকটাকে বলাই ভাল হয় নাই। এ যদি ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের কাছে গিয়া বলিয়া দেয়—তাহা হইলে আমার চাকরি লইয়া টানাটানি হইবে। সুতরাং আত্মসম্প্ররণ করিয়া বলিলেন—“না-তা যাবেন বইকি! সাহেব নিজে বলেছেন—অবশ্য আপনার সাওয়া উচিত। বসন, পোষাকটা নিয়ে আসি।” প্রাইভেট ইন্টারভিউ হইয়া গেল—বাজিও পড়িল। রাত্রি ৯টার সময় শাল মুড়ি দিয়া, সবোধচন্দ্র জগৎবাবরে গহে উপস্থিত হইলেন। জগৎবাব তাহাকে দেখিয়া বলিলেন, “সাবাস —সাবাস । তুমি যা বললে তাই হল যে। তারপর, লাটসাহেবের কাছে গভৰ্ণমেণ্ট প্লাডারির কথা তুলেছিলে ?” সবোধ বললেন, "পাগল! তা হলে যে সন্দেহ করবে। অতিভক্তি চোরের লক্ষণ! সে সব এখনও দেরী আছে। এখনও অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে।” సె