পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬০৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পণ প্রবন্ধ লিখিলেন। কেহ কেহ লিখিলেন, “এমন সবদেশদ্রোহীকে অবিলমেব সমাজচনত করা উচিত।” একজন রসিক লেখক সবোধবাবর পাপমুক্তি" নামক একটি কবিতায় লিখিলেন গোবরজল অতি পবিত্র জিনিষ। লাট দরবারে ফলার সাহেবের সহিত করমন্দান করিয়া সবোধবাবরে যে পাপ সঞ্চয় হইয়াছিল, গোবরজলে তাহা ধৌত হইয়া গিয়াছে।—এই উপলক্ষে ইংলিসম্যান প্রভৃতি কাগজেও সমবোধবাবর নাম উঠিয়া গেল । ইংরাজ সম্পাদকগণ লিখিলেম, পববগে বাস্তবিক এখনও বহ বহন রাজভক্ত শিক্ষিত লোক বিদ্যমান আছেন, কেবল বদমায়েস লোকের হতে লাঞ্ছনার ভয়ে তাহারা নিজ রাজভক্তি প্রকাশ করিতে সমর্থ হন না। সবোধবাবর সংসাহসের প্রশংসাও বাহির হইল। এদিকে দিনাজসাহাতে সবোধববর গঞ্জনার সীমা রহিল না। বার-লাইব্রেরীতে প্রবেশ করিলেই অন্যান্য উকীলগণ তাঁহাকে শনাইয়া শনাইয়া তীব্র মন্তব্য করতে লাগিলেন। সবোধবাবর অনুপস্থিতিকালে একজন উকীল একদিন জগৎবাবকে বলিলেন, “কি হে, তোমার বন্ধর মৎলবটা কি ? দারোগ হতে চায়, না ডেপুটি হতে চায়, কি হতে চায় ?” ना o রাগিয়া বলিলেন, “আর মশায়, জিজ্ঞাসা করবেন না। ও লোকটার উপর মম"ন্তিক চটে গেছি।” “তোমার সঙ্গে ওর এত রন্ধতা—” “বন্ধতা ! অমন লোককে বন্ধ বলে স্বীকার করতে অপমানবোধ হয়।” “তোমার সঙ্গে কিছু কথাবাত্তা হয়েছে ? এমনটাই করলে কেন ? মাথা খারাপ হয়ে গেল না কি ?” জগৎবাব মুখখানা হাঁড়ি করিয়া বলিলেন, “আমি ওর সঙ্গে সেইদিন থেকে কথাবাৰ্ত্তা বন্ধ করেছি।” পঞ্চম পরিচ্ছেদ লাট সাহেবের প্রস্থানের এক সপ্তাহ পরে, বারের প্রধান উকীল কিশোরীমোহনবাবর পত্রের বিবাহ উপস্থিত হইল। কিশোরীবাব বন্ধ, অতি ক্ষমাশীল অমায়িক প্রকৃতির লোক। সবোধকে সকলেই অপদস্থ করিতে আরম্ভ করার, তিনিই কেবল সবোধের পক্ষাবলম্বন করিয়া মাঝে মাঝে দই এক কথা বলিয়া থাকেন। তিনি বলিলেন, “সবোধ কাজটা যা করেছে তা অত্যন্ত গহিত সন্দেহ নেই। ছেলেমানুষ, না বঝে করে ফেলেছে। তাই বলে কি ওর ওপর অমন করে জলমে করতে আছে! আহা বেচার কাগজে যা গালটা খেয়েছে, অন্যলোক হলে পাগল হয়ে যেত। যথেষ্ট হয়েছে, আর কেন ? আর তোমরা ও কথা উত্থাপন কোরো না।”-—ফলতঃ দুই চারিজনের পরামশ অগ্রাহ্য করিয়া তিনি সবোধবাবকেও বিবাহে নিমন্ত্ৰণ করিলেন। সন্ধ্যাকাল। অফিস-কক্ষে বসিয়া সবোধচন্দ্র ধর্মপান করিতেছিলেন। শালমুড়ি দিয়া জগৎবাব আসিয়া দশন দিলেন। "এস এস—আর যে দেখাই পাওয়া যায় না। দটো মনের কথা বলবার ফস’ং পাইনে।” জগৎবাব বলিলেন, “আর ভাই, ব্যাপারটি যে রকম জমিয়ে তুলেছ, আসতে ভয় করে পাছে ধরা পড়ে যাই। কিন্তু আসল কাজের ত কোনও চিহ্ন দেখছি নে—কেবল কি গাল খেয়েই মরলে ; " "আসল কাজই হবে। ভাল করে গোড়া বধি আগে । সবারে মেওয়া ফলবে হে— মেওয়া ফলবে।” - দরখাস্ত ঝেড়ে দাও না ” “না ভাই—এ খণ্ডপ্রলয়ের পর বারে আর সুবিধে হবে না। হলাম যেন সরকারী XX