পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬০৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ষষ্ঠ পাঁ আরও এক সপ্তাহ কাটিয়াছে। অফিস-কক্ষে বসিয়া সবোধচন্দ্র জগৎবাবর সহিত বাক্যালাপ করিতেছেন। সমখে আদ্যকার ইংলিশম্যান কাগজ খোলা রহিয়াছে। তাহাতে লেখা আছে—“আমরা বিশ্ববস্তসত্র অবগত হইলাম, দিনাজসাস্থার উকীলবাব সবোধচন্দ্র হালদারকে আসাম গভর্ণমেণ্ট ডেপুটি সুপারিন্টেডেণ্ট অব পলিসের কম দিতে সংকল্প করিয়াছেন। পলিস বিভাগে এইরূপ আইনজ্ঞ ব্যক্তিগণের প্রবেশই বাঞ্ছনীয়।" সবোধ বলিলেন, “তাই ত হে। এ যে ভাবিয়ে তুললে। এত কাণ্ড করে—এত গাল খেয়ে—শেষে পলিসের চাকরি।" জগৎবাব বলিলেন, “গভর্ণমেণ্ট ভাল ভেবেই দিয়েছে। এ আড়াইrণা টাকায আরম্ভ হবে—ডেপটিগিরি দশো টাকা বই ত নয়।” “মাইনেটা মোটা বটে। কিন্তু যে দিনকাল পড়েছে—আমার ত মোটেই কাজটা লোভনীয় মনে হচ্ছে না। দেখ, এই এক মাস জাল-স্বদেশদ্রোহী সেজেই প্রাণটা ওঠাগত হয়ে উঠেছে। পলিসের চাকরি নিলে ত আসল দেশদ্রোহী হতে হলে ! কোথায় কে বিলিতী নন ফেলে দিয়েছে—যাও তাকে ধর। কোথায় কোন ছেলে বন্দেমাতরম বলছে —মার তার মাথায় রেগুলেশন লাঠি। সে ত ভাই আমি পারব না। তার চেয়ে বার’ আমার এ উপবাসই ভাল।” জগৎবাব বলিলেন, “দেখ, আমার বোধ হয়, ডেপটিগিরি পেলেই তুমি সন্তুষ্ট জনাতে পারলে গভর্ণমেন্ট তোমাকে তাই দিতে চাইত। সেট গভর্ণমেণ্টকে জানান ভাল । যাও, শিলঙে গিয়ে না হয় একবার চীফ সেক্রেটারির সঙ্গে দেখা কর।” “এখনও সরকারী চিঠিপত্র কিছু পেলাম না শুধু ইংলিশম্যানের এই প্যারা দেখেই .. - يمتد “ইংলিশম্যানের ও প্যারা গভর্ণমেণ্টের চিঠিরই সমান।” তাহাই পিথর হইল। সেই দিন রাত্রেই সমবোধচন্দ্র শিলঙ যাত্রা করিলেন। পর সপ্তাহের আসাম গেজেটেই দেখা গেল সবোধবার অষ্টম গ্রেডের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত হইয়াছেন। সবোধবাব এখন ঢাকায় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। সৌভাগ্যবশতঃ এখনও তাঁহাকে কোনও স্বদেশী মোকদ্দমা বিচার করিতে হয় নাই। এখন আর তিনি গড় দিয়া চা পান করেন না, কাশীপুর কলের উৎকৃষ্ট দেশীয় চিনিই ব্যবহার করেন। আবার আট আনা সেরের তামাকই চলিতেেছ। কাত্তিক, ১৩১৪ ৷ হাতে হাতে ফল প্রথম পরিচ্ছেদ সন্ধ্যা হইয়াছে। সিরাজপর স্টেশনের টেলিগ্রাফ আফিসে বসিয়া, ডাক্তার হরগোবিন্দ চট্টোপাধ্যায় মহাশয়, সিগনালীরবাবকে বলিতেছিলেন, “তা, কিছ ভয় নেই। আমার সঙ্গে একজন লোক দিন, একটা পাউডার আর একটা মিক-চার এখনি পাঠিয়ে দিচ্ছি, দঘণ্টা অন্তর খাওয়াবেন।” সিগনালারবাব বলতেছিলেন, “আপনার কথা শনে বড় আশবস্ত হলাম। এই একটি মাত্র ছেলে কিনা, আমার স্মী ত কে’দে কেটে অস্থির হয়েছিলেন। আমাদের বড়ই ভয় হয়েছিল।” এই বলিয়া সিগনালারবাবু দাইটি ভিজিট এবং একটি আধলি গাড়ীভাড়া