পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬০৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ডাক্তারবাবুর হাতে দিতে চাহিলেন। ডাক্তারবাব বলিলেন, “ও কি ? না—না, রােখন।” সিগনালারবাব বলিলেন, “তা হলে যে বড়ই অন্যায় হয়।” “না— না। কিছদ অন্যায় হয় না। আপনার ছেলেটিকে আমি আরাম করে দিই; তারপর না হয় একদিন—অমাবস্যে কি পণিমে দেখে, আমায় নেমন্তন করে ব্রাহ্মণভোজন করিয়ে দেবেন, তার আর কি ?”—বলিয়া ডাক্তারবাব উচ্চহাস্য করিতে লাগিলেন। গরীব লোকের কাছে ইনি কখনও ভিজিট গ্রহণ কবেন না। এই সময়, বাহিরে প্ল্যাটফর্মে অনেক লোকের কন্ঠে বন্দে মাতরম ধননি শোনা গেল। ডাক্তারবাব বললেন, “ও কি ?” “কলকাতা থেকে একজন সবদেশী প্রচারক এসেছিলেন, তাঁকেই বোধ হয় লোকে গাড়ীতে তুলে দিতে এসেছে।” উভয়েই বাহিরে গেলেন। প্রচারক মহাশয় বিখ্যাত “বীর-ভারত" সংবাদপত্রের সম্পাদক শ্ৰীযুক্ত বিনয়কৃষ্ণ সেন। ডাক্তারবাব সরকারী চাকর হইলেও, অন্যান্য সরকারী চাকরের নায় মনে মনে পর্ণমাত্রায় সবদেশী। রাত্ৰিযোগে দেশী দোকানে গিরা বস্ত্রাদি খরিদ করিয়া আনেন, লোকে এ প্রকার কাণাঘসা করিয়া থাকে। বিনয়বাবরে সঙ্গে অলপ করিবার প্রলোভন তিনি সম্বরণ করিতে পারিলেন না। দই চারি মিনিট কথাবাৰ্ত্ত কহিতে কহিতে, ভীমরবে ট্রেণও আসিয়া পড়িল । উকীল, মোক্তার এবং ছাত্ৰগণে পরিবত হইয়া প্রচারক মহাশয় গাড়ীর দিকে অগ্রসর হইলেন। তাঁহার নিকট একখানি দ্বিতীয় শ্রেণীর রিটাণ টিকিট ছিল। একটি কামরা খলিয়া যেই প্রবেশ করিতে যাইবেন, অমনি তৎমধ্যসিথত এক সাহেব বলিল—”এইও— কালা আদমিকা গাড়ী নেহি হায়।” প্রচারক মহাশয় বললেন, "কেন সাহেব, আমার টাকাগুলোও কি কালা ; আমারও দ্বিতীয় শ্রেণীর টিকিট আছে।”—বলিয়া তিনি দরজা খলিয়া ভিতরে প্রবেশ করিলেন। একে হুকুম অমান্য করা, তাহাতে মুখের উপর জবাব, “বাদশাহ-কা-দোস্ত” আর সহ্য করিতে পারিল না। উঠিয়া সেই ধতি-কামিজ রেশমী চাদরধারী মাত্তিমান রাজদ্রোহকে এক ধাক্কা দিয়া প্ল্যাটফর্মে ফেলিয়া দিল। বিনয়বাব “বীর-ভারত" পত্রের সম্পাদক হইলেও, অত্যন্ত কৃশকায় ব্যক্তি। নিজ স্বাস্থ্যবল সমস্তই কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে পজা দিয়া, প্রসাদ সবরপ কয়েকখানি কাগজ পাইয়াছিলেন। আর পথানান্তরে পাইয়াছিলেন একযোড়া সোণার চশমা—তাহার জন্য স্বতন্ত্র মুল্য দিতে হইয়াছিল। প্ল্যাটফমে পড়িয়; তিনি বিশেষ আঘাতপ্রাপ্ত হইলেন না বটে কিন্তু তাঁহার চশমাখনি চরমার হইয়া গেল। > - ইহা দে বামাত্র তাঁহার সহচরগণ বন্দে মাতরম বলিয়া গজন করিয়া উঠিল। দই তিন জনে । হেবটাকে টানিয়া বাহির করিয়া, তাহাকে বেদম প্রহার করিতে লাগিল । কিল, চড়, সি ও লাথি। গোলমাল শনিয়া গাডসাহেব সেই দিকে যাইতেছিলেন, কিন্তু ব্যাপ দেখিয়া উদ্ধৱশবাসে ধাবন করিয়া (পলায়ন করিয়া নহে)—ব্রেকভ্যানে আরোহণ কী লন। অনেক কটে পাশববত্তীর্ণ ভদ্রলোকগণ পড়িয়া সাহেবকে উদ্ধার করিলেন;–তাহার মাথা ফাটিয়া ঝর ঝর করিয়া রক্ত পড়িতে লাগিল। ডাক্তারবা ও গোলমাল শনিয়া সেই পথানে উপস্থিত হইলেন। সাহেবের অবস্থা দেখিয়া, তাহ ন তিনি চিকিৎসাথ হাসপাতালে লইয়া যাইবার প্রস্তাব করিলেন। সাহেব সম্মত হইল। ইতিমধ্যে কখন বিনয়বাব গাত্রের ধলা ঝাড়িয়া মধ্যমশ্রেণীতে আরোহণ করিয়া বসিয়া হলেন;–পরদিন নির্বিঘে কলিকাতায় পৌছিযা "বীর-ভারতে” এক ভীষণ প্রবন্ধ বাহির করিয়া ফেলিলেন। ¥8 -