পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ হরগোবিন্দবাক পথানীয় হাসপাতালের সরকারী ডাক্তার। —নেটিভ ডাক্তার হইলেও যথেষ্ট প্রতিষ্ঠাসম্পন্ন। এম-এস থাকা সত্ত্বেও হরগোবিন্দবাবর বিপলে পসার। অগাধ বিশবাস, তেমন আর কাহারও উপর নহে। লোকটি বদ্ধ হইয়াছেন, সহরে দুইজন এম-বি, কয়েকজন এল প্রাইভেট কল তাঁহার যথেষ্টট, এমন কি সময়ে সময়ে ভদ্রলোক সননাহার করিবার পর্যন্ত সময় পান না। হরগোবিন্দবাবর দই পত্র; –একটির নাম আজমচন্দ্র, কলিকাতা রিপন কলেজে বি-এ পড়ে, সম্প্রতি গ্রামবিকাশে বাড়ী আসিয়াছে। ছোটটির নাম সশীল, স্থানীয় জেলা স্কুলের ছাত্র। অজয়ের বিবাহ হইয়াছিল–গত বৈশাখ মাসে বধমাতাকেও আনা হইয়াছে। রান্তি দশটার পর হরগোবিন্দবাব হাসপাতাল হইতে ফিরিয়া আসিলেন। বলিল, “বাবা, সাহেবটা কেমন আছে ?” “ভাল আছে। বেচারীকে বড় মেরেছে।” অজয় বলিল, “তার যেমন কম" তেমনি ফল হয়েছে। যেন লাট। বেশ হয়েছে।” ডাণ্ডারবাক বলিলেন, “দেখ, সে অন্যায় করেছিল তার আর একজন লোককে পাঁচজন পড়ে মারাটা কি রকম বীরত্ব : মাথায় কিছু বেশী আঘাত পেয়েছিল, কিন্তু ভয় নেই। জয় उद्राङ्ग শাদা রঙ বলে মনে করে সন্দেহ নেই। কিন্তু একে ত ন্যায়যন্ধে বলে না !” অজয় বলিল, “ইংরাজের সহিত বাংগালীর কখনও ন্যায়যন্ধে হতে পারে?” “সবই যে অন্যায়। দেখুন, এ নিয়ে যদি মোকদ্দমা হয়, তবে হাকিম কি ন্যায়বিচার করবে ?” ডাক্তারবাব হাসিলেন। মলিলেন, “তোমার যুক্সিটে ত বেশ দেখছি! অন্যে অন্যায় • সেই নজিরে আমিও অন্যায় করব ?” অজয় সহসা এ কথার উত্তর দিতে পারিল না। এ রকম সৰ্থলে সংখ্যা দ্বারায় ন্যায় তান্যায় সিথর হতে পারে না। .একজন মানুষ মাত্র। একটা নীরব থাকিয়া বলিল, “দেখন, একজন বাঙ্গালী, সে একজন ইংরেজ, সে একাধারে একজন মানুষ, একজন রাজজাতীয় এবং সম্ভবতঃ একজন রাজপুরষ। সুতরাং একটা ইংরেজ তিনজন বাঙ্গালীর সমান বা তার চেয়েও বেশী। দোষ হয় না ।” ডাক্তারবাব বলিলেন, “এ যুক্তির অবতারণা করে তুমি নিজের একজন ইংরেজ, সেও একজন মানুষ মন্ত্র। হলই বা সে রাজপত্র জাতীয়। সে রাজপরেষে এবং রাজজাতীয় বলে কি সে গায়ে নে অজয় বলিল, “গায়ের জোর না থাক, মনে জোর পাচ্ছে । ঞ্জোব ।" পরের এ যুক্তির সারবত্তা ডাক্তারবাবকে স্বীকার করিতে ঠিক বটে। মনের জোরই গায়ের জোর। বলং বলং ব্রহ্মবলং। করেই শাস্ত্রকার ব্রহ্মবল বলেছেন বোধ হয়। কিন্তু তথাপি কি পারিনে, তিনজন বাঙ্গালী না হলে একজন ইংরেজের সমকক্ষতা ক্ষেত্রে, বাঙ্গালীর দিকেও কি মনের উপর আধিপত্য করবার taাই ? বাঙ্গালী যখন আত্মমযf্যাদা রক্ষা করবার জন্যে, অত্য শোনের সম্মান বাঁচাবার জন্যে কোনও অত্যাচারী ইংরেজের প্রতি কি এই ভাবগলি থেকে তার বাহতে বলবধি হবে না?” এই সময় ভূত্য আসিয়া বলিল, আহারের স্থান হইয়াছে। কক্ষে প্রবেশ করিলেন। Y & একজন আততায়ী ইংরেজকে তিনজন বাঙ্গালীতে মারলে কোনও তিকে অপমান করছ । সু, হলই বা সে রাজজোর পাচ্ছে ?” মনের জোরই গায়ের :ল। বলিলেন, “তা নের জোরকে উপলক্ষ তে পারে না। এরপ বিশেষ ভাব কিছ নিবারণের জন্যে, মা . প্রয়োগ করবে, তখন হা পরে তখন ভোজন