পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬১২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“কি, খুলে বলন না।” “কাল বিকালবেলা ক্লাবঘরে ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব ডেকে পাঠিয়েছিলেন। জিজ্ঞাসা করলেন, ‘দারোগা, কি রকম সাক্ষী প্রমাণ সংগ্রহ হল –আমি বললাম, হজর, একজন কনটেবল দজেন চৌকিদার এর ঘটনা দেখেছে, সমস্ত আসামী চিনেছে। —শনে সাহেব মহা খাপা হয়ে বললেন—নন সেন্স —কনোটবল আর চৌকিদার ? কোনও ভাল সাক্ষী নেই –সাহেবের চোখ রাঙামি দেখে ভয়ে বললাম ‘হী হজের আছে বইকি। সরকারী ডাক্তার হরগোবিন্দবাব, সেখানে স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন, সমস্ত আসামী চিনেছেন – সাহেব বললেন--"অলরাইট —-বলে টেনিস খেলতে গেলেন।” ইহা শুনিয়া হরগোবিন্দবাব একট রাষ্ট হইয়া বলিলেন, “না জেনে শনে এমন কথা আপনি সাহেবকে বললেন কেন ?" “বিলক্ষণ! আমি কি করে জানব মশায় আপনি সেখানে উপস্থিত, নিজে সাহেবকে হাসপাতালে এনেছেন,--আপনি কিছই দেখেননি তা আমি জানব কেমন করে " “তবে যান. এখন প্রকৃত কথা সাহেবকে বলে আসন।” দারোগাবাব একটু মন্দহাস্য করিয়া বলিলেন, "তাও কি হয় : এক মথে দকথা বলব কেমন করে ? আমার তেমন স্বভাবই নয়।” “তবে আমি নিজে গিয়ে সাহেবকে বলি।” দারোগাবাব উচ্চহাস্য করিয়া উঠিলেন। শেষে বললেন, “আপনি কি ক্ষেপেছেন : ও কথা বললে সাহেব বিশ্ববাস করবে ? মনে করবে, আপনি সবদেশীর পক্ষ অবলম্বন করে সাক্ষী দিতে অস্বীকার করছেন । আপনারও বিপদ আমারও বিপদ। তাতে আবার সাহেবের কাণে গেছে আপনি করকেচ খান, আপনার বাড়ীতে দেশী কাপড় ব্যবহার হয়।” বিরক্তির সহিত ডাক্তারবাব বলিলেন, “করকচ খাই দেশী কাপড় পরি বলে কি আমি রাজদ্রোহী হয়ে গেলাম নাকি ?” দারোগাবাব গভীরভাবে বলিলেন, “আহা আহা চটেন কেন : অজকাল কি রকম দিনকাল পড়েছে তা ত দেখেছেন। ওরা তাই মনে করে ।” ডাক্তারবাব ক্ষণকাল চিন্তা করিয়া বলিলেন, “তবে এখন উপায় : বেশ কজটি করে বসেছেন যা হোক ?” “উপায় আর কি ? সাক্ষী দিতে হবে। বেড়াতে বেড়াতে একবার চলন না থানার দিকে। আসামীগুলোকে বসিয়ে রেখেছি, দেখবেন। সবগুলোকে কোটে সনাক্ত না করতে পারলে, গোটাকতক করলেও হবে। পলিস ডায়েরি থেকে অন্য অন্য সাক্ষীদের জবানবদিগলোও পড়ে আপনাকে শোনাব।" এই কথা শনিবামাত্র, ক্ৰোধে হরগোবিন্দবাবর চক্ষ জলিয়া উঠিল। হঠাৎ চেয়ার ছাড়িয়া উঠিয়া, কাঁপতে কাঁপিতে, ঘাড় বাঁকাইয়া বলিলেন, “কী ! যত বড় মাথ নয় তত বড় কথা! মিথ্যে সাক্ষী দেওয়াবার আর লোক পেলে না ? বেরো-দর হ-এখান থেকে। কোই হায় রে ; দেত বেটাকে কাণ ধরে উঠিয়ে ।” f বদনচন্দ্ৰবাব উঠিলেন। চাদরখানি গলায় জড়াইতে জড়াইতে বলিলেন, “মশায়, এর ফলভোগ করতে হবে।” - হরগোবিন্দবাব গজন করিয়া বললেন, “যা তোর বাবা ম্যাজিস্ট্রেটকে বলগে যা। যা পারিস তা কর।” দারেগাবাব তখন ত্বরিত পদক্ষেপে সেখান হইতে অদশ্য হইলেন। চতুর্থ পরিচ্ছেদ রাগে তিনটা হইয়া, হাঁপাইতে হাঁপাইতে, দারোগাবাব থানায় ফিরিয়া আসিলেন । হাফেজ আলি হেড কনেটবলকে ডাকিয়া বলিলেন, “জমাদার সাহেব, ডাক্কারের ছেলে পাটোর কি নাম জানেন ?”