পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


"একবার সাহেবকে গিয়ে সকল কথা বলি। দেখি এর কোনও বিচার হয় কি না।” বাবা দুইজন চপ করিয়া রহিলেন। হরগোবিন্দবাবা অধীর হইয়া বললেন, “কি বলেন? আসবেন-আপনারা ?” একজন বলিলেন, “তার চাইতে এক কাজ করন । আপনি নিজে গিয়েই একবার সাহেবকে বলে দেখন। এরপ অবস্থায় আমাদের যাওয়াটা—”। অপর বাবটি পস্টবক্তা। তিনি বাধা দিয়া বলিলেন, “ও সব ছেদো কথায় দরকার নেই। মশায়, আমি আসল কথা খালে বলি। ম্যাজিষ্ট্রেট সাহেবের কাছে গিয়ে কোনও ফল পাবেন না। আর, আমরাও পলিসের বিরুদ্ধে কোন সাক্ষী-টাক্ষী দিতে পারব না। গরীব মানুষ, ছেলেপিলে নিয়ে ঘর করি। দেখলাম ত আপনার সংগতিটা স্বচক্ষে। আপনি একজন সরকারী চাকর, পদস্থ ব্যক্তি। আপনার উপরেই এমন জলমটা করলে—আমাদের ত হাতে হাতকড়ি লাগিয়ে রলের গতো মারক্তে মারতে রাস্তা দিয়ে ছড় ছড় করে টেনে নিয়ে যাবে।” হরগোবিন্দবাব একটি দীঘনিঃশ্বাস ফেলিয়া বলিলেন, “আচ্ছা তবে থাক।” “প্ৰণাম হই মশায় ।”—বলিয়া বাবা দুইটি প্রস্থান করিলেন। হরগোবিন্দবাব তখন একাই ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের কুঠীর দিকে ছড়িলেন। সাহেব তখন টেনিসের পোষাক পরিধান করিয়া, র্যাকেটখানি হাতে, বাইসিকে ক্লাব অভিমুখে যাত্রার উদ্যোগ করিতেছেন । বারান্দায় সাহেবের সহিত সাক্ষাৎ হইল। হরগোবিন্দবাব তখন সেলাম করিয়া দাঁড়াইলেন। “মহাশয়, আজ আমার উপর দারোগা বদনচন্দ্র ঘোষ বড় অত্যাচার করিয়াছে। খনাভল্লাসীর ভাণ করিয়া—” সাহেব যাধা দিয়া বলিলেন, “আপনার দই ছেলে সাহেব-মারা মোকদ্দমায় আসামী না ?” “আজ্ঞা হাঁ, দারোগা মিথ্যা চক্রান্ত করিয়া তাহাদিগকে আসামী করিয়াছে। অদ্য سیستم5f ع শনিয়া চক্ষ রক্তবণ করিয়৷ সাহেব চীৎকার করিয়া উঠিলেন- “How dare you! দইদিন পরে আমার কাছে আপনার ছেলেদের বিচার, আজ আপনি আমাকে মোকদ্দমা স-বন্ধে biassed করিয়া দিতে আসিয়াছেন ?” এই কথা বলিয়া, বাইসিক্লে উঠিয়া সাহেব বৌ করিয়া বাহির হইয়া গেলেন। হরগোবিন্দবাব একটি দীঘনিঃশ্বাস ফেলিয়া, ধীরে ধীরে বাসায় ফিরিয়া আসিলেন। ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ - সন্ধ্যা হইল। অন্তঃপরের মধ্যে ডাক্তারবাব সন্ত্রীকল্যাগণের নিকট বসিয়া ছিলেন। একে পত্র দইটি বিন কারণে কারাবন্ধ, তাহার উপর এই অপমান লাঞ্ছনা—সকলেই আজ বড় বিষন্ন। সন্ধ্যা উত্তীণ হইল। এখনও আজ পাকাদির কোনও বন্দোবস্ত হইতেছে না। কাহারও ক্ষধা নাই—কেহই কিছদ খাইবে না। ডাক্তারবাবর বড় মাথা ধরিয়াছে। ক্রমে তিনি মেঝের উপর বিছানা পাতিয়া শয়ন করিলেন। কন্যাটি পায়ে হাত বলাইয়া দিতে লাগিল। বর্ধমাতা পাখার বাতাস করিতে লাগিলেন। এমন সময় বাহিরে কে ডাকিল, “ডাক্তারবাবল-ডাক্তারবাব।” ভৃত্য শিউরতন বাহিরে গেল। ফিরিয়া বলিল, “একঠো রোগী আছে—বোলাহাট এসেছে ?” ডাক্তারবাব বলিলেন, “আজ আমার শরীর অসন্থে। যেতে পারব না বল। অন্য ডাণ্ডার নিয়ে যাক।” ২১