পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬১৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


r শিউরতন গিয়া তাহাই বলিল। অন্ধ ঘণ্টা কাটিল। আবার কে ডাকিল—“ডাক্তারবাব-ডাক্কারবাব।" শিউরতন আবার আসিয়া বলিল--"ঐ লোকঠো আবার এসেছে, বলে ডাংদারবাবর সাথ ভেট না করে হামি যাব না।” ডাক্তারবাবু বলিলেন, “আমি ত উঠতে পারি নে— আচ্ছা বাবকে নিয়ে আয় ।” বধ কন্যা উঠিয়া গেলেন। লোকটি আসিয়া ডাক্তারবাবকে প্রণাম করিল। বলিল, * বড় বিপদ। আপনি না গেলে নয়।” “কার ব্যারাম ?” লোকটি চপ করিয়া রহিল। “কার ব্যারাম হয়েছে ? কি ব্যারাম ?” "সে আর কি বলব! কোন মখেই বা বলি ?” ডাক্তারবাব, একটা আশ্চয্য হইয়া বলিলেন, “আপনি কে ?" “আমি থানার রাইটার কনেকটবল। আমার নাম হারাধন সরকার। দারোগাবাবরে বড় ব্যারাম। আজ ষে কাপডটা হয়ে গেছে, তার জন্যে তিনি লকজায় মরে আছেন। তার উপর এই বিপদ।” “কি ব্যারাম ?” “বকে মাথায় ভয়ানক যন্ত্রণা। আপনি না গেলেই নয়।” ডাক্তারবাবু বলিলেন, “আমাকে কেন ? আর কি ডাক্তার নেই ?” মন্সীবাব তখন পকেট হইতে একশত টাকা বাহির করিয়া ডাক্তারবাবর পায়ের টাকা দেখিয়া ডাক্তারবাব জনলিয়া উঠিলেন। একটু উঠিয়া বসিয়া বলিলেন, “টাকার লোভ দেখাতে এসেছেন? সকলেই কি পলিসের মত অথপিশাচ ?—লক্ষ টাকা দিলেও আমি যাব না। উঠন--আপনার পথ দেখন।” টাকাগুলি উঠাইয়া লইয়া, অধোবদনে মন্সেীবাব প্রস্থান করিলেন। বধ, কন্যা প্রভৃতি আবার আসিয়া তাঁহার শশ্রেষায় মনোনিবেশ করিলেন। রাত্রি নয়টা বাজিল। গহিণী বলিলেন, “একটা গরম দুধ এনে দেব ?” ডাক্তারবাবু বলিলেন, “দাও।” গহিণী পাকশালায় প্রবেশ করিয়া দধে গরম করিতে লাগিলেন। এমন সময় খিড়কী দরজায় একখানি গাড়ী আসিয়া দাঁড়াইল । - পরক্ষণেই বির সহিত একটি যাবতী প্রবেশ করিলেন। যাবতীটি বলিলেন, “গিন্নিমা কোথায় ?” x - "কে গা তোমরা ?” ঝি বলিল, “উনি বদন দরোগার পরিবার।"—সঙ্গে সঙ্গে যাবতীটি গহিণীর পদযুগল জড়াইয়া ধরিলেন। গহিণী পা ছাড়াইবার চেষ্টা করিয়া বলিলেন, “কেন—কেন ?” যাবতী কাঁদিতে কাঁদিতে বলিলেন, “মা, আমার স্বামীর প্রাণ যায়। আমার হাতের নোয়া যাতে বজায় থাকে তা করন।” গহিণী বলিলেন, "এমন ব্যারাম ?” - “হ্যাঁ মা। ডাক্তারবাব বলেছেন অন্য ডাক্তার কেন নিয়ে যায় না। তা মা—তাঁর ব্যারাম অন্য ডাক্তারে বুঝবে না, ত বাঁচাবে কেমন করে? এইখানে কি খেয়ে গেছেন, সেই থেকে এমন হয়েছে।” গহিণী বলিলেন, “এখানে কি খেলেন? এখানে ত কিছু খান নি।” যাবতী বলিলেন, "আমায় একবার ডাক্কারবাবর কাছে নিয়ে চলন। তিনি আমার ९९