পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মা দটিপথের বহির হইলে, সাহসে ভর করিয়া বাড়ী ঢাকিলাম। শরীর কাঁপিতে লাগিল। চারিদিকে দটিপাত করিলাম, কই, কোথাও ত নোলকপরা একটি নববধ দেখিতে পাইলাম না। সবামী তখন শয্যাত্যাগ করিয়া বাহির হইতেছেন । নবীন সন্ন্যাসীকে দেখিয়া সসম্প্রমে প্রণাম করিলেন। হায়, আমার কপালে এতও ছিল ! আমি মনে মনে ভাঁহার পায়ে সহস্রবার মাথা খাঁড়িলাম । তাঁহার সঙ্গে কথাবাত্তা আরম্ভ হইল। মাঝে মাঝে কৌতুহলপািণ সতৃষ্ণ দটিতে তিনি আমার পানে চাহিতেছিলেন। আমি সাবধানে চাপা গলায় বিকৃত সবরে কথা কহিতে লাগিলাম। সন্ত্রী এখানে নাই কেন, কোথায় ? ইত্যাদি প্রশন করিয়া পরিকার উত্তর পাইলাম না, চাপিয়া গেলেন। অন্যান্য কথাবাৰ্ত্তায় জানিলাম, দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন নাই। স্ত্রীর প্রসঙ্গে তাঁহার চক্ষর কোণে করণার জলরেখা দেখা দিল;—বঝিলাম এ পোড়ারমুখীকে এখনও ভুলেন নাই। কতবার মনে করিলাম, আত্মপ্রকাশ করি কিন্তু পারিলাম না। ভাবিলাম শ্বাশুড়ী আসন তাহার পর যাহা হয় হইবে। স্বামী স্নান করিয়া, পাশের মেসের বাসায় আহার করিয়া, আফিসের জন্য প্রস্তুত হইলেন। বেলা দশটার গাড়ীতে মা ফিরিয়া আসিলেন। সন্ন্যাসীর সেবাদি সম্বন্ধে মাকে গোপনে কিছু বলিয়া স্বামী আফিসযাত্রা করিলেন। একে পণিমা-পণ্যাহ;—বাড়ীতে সন্ন্যাসীকে অতিথি লাভ করিয়া মা.যেন কৃতাৰ্থ হইয়া গেলেন। এই সময় দাই চলিয়া গেল। বাড়ী নিজান হইল। আমি বুঝিলাম এই শাভ সযোগ উপস্থিত। বলিলাম, “সনান করিব, তোমাদের একখানা কাপড় দাও।” সমানান্তে সেই কাপড়খানিকে শাড়ীর মত করিয়া পরিলাম। ঘোমটা দিয়া সনানের স্থান হইতে বাহির হইয়া আসিলাম। মা নিশ্চয়ই বিসময়-বিসফারিত নেলে আমার পানে চাহিয়া থাকিবেন—ঘোমটার ভিতর হইতে তাঁহার মখ তামি দেখি নাই ! শুধ পা দখানি দেখিতে পাইতেছিলাম—ঢিপ করিয়া একটা প্রণাম করিলাম। মা বলিয়া লন—“ওমা, ওমা, ওমা—সন্ন্যাসী না পাগল ?”—বলিয়া ক্ষিপ্রহসেত আমার অবগন্ঠেন অপসত করিলেন। চোখোচোখী হইবামাত্র চিনিয়া ফেলিলেন–র্যন্ধস্বাসে বলিলেন—“একি ! বউমা !” কেমন করিয়া তাঁহার পা ধরিয়া কাঁদিতে কাঁদিতে সব কথা আদ্যোপাত নিবেদন করিলাম, তাহা অার বিস্তারিত বলিবার প্রয়োজন নাই। প্রথমে বিসময়ে তাঁহার মুখে কথা বহির হইল না। তাহার পর আমার সঙ্গে তিনিও কাঁদিয়া ভাসাইয়া দিলেন। বকে টানিয়া লইয়া স্নেহভরে বারমবার আমার মুখচক্ৰবন করিলেন। শেষে বলিলেন- “বাছ, ছেলে বাড়ী আসক, নইলে আমি কিছই বলতে পারছিনে।’ বলিলেন গরের সঙ্গে আমার পিতৃগহত্যাগের সংবাদমাত্র তাঁহারা পান নাই –সতরাং “পাঁচজন" সম্বন্ধে আর কোনও আশঙ্কা রহিল না। কিন্তু তথাপি বাড়ীতে লোকজন আসিয়া পাছে আমায় দেখিয়া ফেলে, পাছে কিছু সন্দেহ করে, সেইজন্য তিনি আমাকে একটা ঘরে পরিয়া চাবি বন্ধ করিলেন। বাগড়েী ক্ষমা করিলেন —স্বামীর সবন্ধে একপ্রকার নিশিচন্ত ছিলাম। আসি’ চিরণী লইয়া সমস্তদিন সবলপাবশিষ্ট চলের জট ছাড়াইলাম। দইখানা চিরণী ছিল, দইখানারই প্রায় সব কটা দাঁত ভাঙ্গিয়া গেল। সেই পণিমরজনীতে স্বামীর সঙ্গে আমার সংখসন্মিলন হইল। তোমরা যদি আমাকে ক্ষমা করিতে পারিয়া থাক, তবে এইবার আমার কল্যাণে শাঁখ বাজাইয়া দাও। [ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ ] (శ్రీ