পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রামায়ণ, মহাভারত, গীতা রচনা করে গেছেন—বেদ, বেদান্ত, উপনিষদের যাঁরা সন্টিকত্তা–তাঁরা খামকা আপনাকে ঠকিয়ে জলদ করবার জনো একাদশীতে উপবাস করবার বিধি দিয়ে যাবেন যা আপনার সঙ্গে তাঁদের কি এমন শর্তা ছিল ?” রামনিধিবাব কিয়ৎক্ষণ একটু হতভম্ব হইয়া রহিলেন। শেষে জিজ্ঞাসা করিলেন, “আচ্ছা কাত্তিকবাব এই যে একাদশীর আর ষাঠ ডিগ্রীর কথাটা বললেন, এটা কি কোনও শাস্ত্রে পড়েছেন, না আপনার মনগড়া কথা ?” কাত্তিকবাক বলিলেন, “শাস্ট্রেও পড়িনি মনগড়া কথাও নয়। অঙ্ক কষে বের করেছি। জ্যামিতি, ষ্টিকোণমিতি পড়েছি কি শধে এগজামিন পাস করবার জন্যে মশায় ?” রামনিধিবাব বললেন, "আচ্ছা, শরীরের রস শকিয়ে নেওয়াই যদি দরকার, তবে ফলমল খেলে রস শঙ্কোয়, আর পাউরুটি, গলদাচিংড়ি তাজায় শকোয় না এর মানে কি ? আমার ত, গাউরটির চেয়ে ফলমলেই বেশী ভিজে মনে হয়।” কাত্তিকবাব বলিলে, “ওটা চিকিৎসা-শাস্ট্রের কথা। মেডিক্যাল কলেজে ঢুকে চিকিৎসা-শাস্টের যখন চচ্চ করব, তখন নিশ্চয়ই এরও একটা কারণ বের করে ফেলব দেখে নেবেন ।” সন্ধ্যা হয় দেখিয়া কাণ্ডিক ও শরৎধব সায়ংসন্ধ্যা করিবার জন্য উঠিলেন, রামনিধিবাব, স্ট্রোভ জালিয়া চায়ের জঙ্গ চড়াইয়া দিলেন। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ॥ ভট্টাচাৰ্য্য-সংৰাদ উক্ত ঘটনার কয়েক ফিঞ্চ পরে, একদিন সন্ধ্যাকালে এক বন্ধ ব্রাহ্মণ বাসায় আসিয়া উপস্থিত হইলেন। তাঁছার গারে একখানি নামাবলী, চরণে চটিজতো, এক হতে একটি ছিন্ন মলিন ক্যাবিশেৱ ৰাগ, অন্য হতে একটি ভাঙ্গা ছাতা। বাসার দরজায় কাত্তিকবাব ও শচীন্দ্রবাব দাঁড়াইয়া ছিলেন, বন্ধ আসিয়া বলিলেন, “বাপ সকল, এ বাড়ী কার?” কাত্তিকবাক বলিলেন, “এটি একটি মেসের বাসা।” বন্ধ যেন একটু আশ্চৰ্য হইলেন। বলিলেন, “মেষের বাসা ? সে আবার কি ?” শচীন্দ্রবাবু বলিলেন, “মেসের বাসা—অথাৎ এখানে ছাত্রেরা থেকে লেখাপড়া করে।” “তোমরা সব কি জাতি ?” "ব্রাহ্মণ আছে, কায়স্থ আছে, একজন বৈদ্যও আছে।” “কোন জেলায় তোমাদের বাড়ী বাপ ?” “অনেক জায়গার ছেলে আছে। হুগলী, নদীরা, বদ্ধমান-—বীরভূম জেলারও একজন আছে।” বন্ধ যেন আশ্বসন্ত হইয়া বলিলেন, “বীরভূম জেলার কে আছে বাবা ?” “রামনিধিবাব বলে একজন আছেন। রামনিধি দাস—কায়স্থ। শিউড়ির কাছে কোন গ্রামে বাড়ী।” “আমারও বাড়ী শিউড়ী। আমি আজ বিকেলের গাড়ীতে কলকাতায় এসে পৌছেছি। আমার একজন শিষ্য এখানে ছিলেন, তাঁরই বাসায় যাব মনে করেছিলাম, সে ঠিকানায় গিয়ে শুনলাম তিনি বাসা বদলেছেন,—নতন বাসার ঠিকানা কেউ বলতে পারলে না। কলকাতায় এই প্রথম আসা—তাতে রাত্রিকাল। কোথায় যাই ? কেউ কেউ পরামর্শ দিলে হোটেলে যান। তা বাবা, আমি ব্রাহ্মণ পণ্ডিত মানুষ, হোটেলে ছত্রিশ জেতে বসে খাচ্ছে, সেখানে ত ঢুকতে পারিনে। ওসব খীস্টানী স্লেচ্ছাচার আমার স্বারা ত হবে না। তোমরা দেখছি সব ভদ্রসন্তান, যদি একরান্ত্রির জন্য আমায় আশ্রয় দাও, তবে বড় উপকার হয়।” १¢ •