পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বার জন্য শব্দরপ ধাতুরপ পর্যন্ত জিজ্ঞাসা করিয়াছিল। সেই অবধি উকীলগণকে তিনি বড় ডরাইতেন। তাই তাড়াতাড়ি বলিলেন, “না না, পলিসে দিয়ে কাজ নেইপলিসে দিয়ে কাজ নেই। কালকে ওকে বোলো এখন ষে আপনি অন্য বাসায় যান।" শচীন্দ্ৰবাব গজন করিয়া বলিয়া উঠিলেন, “তাড়াও । কাণ ধরে বের করে দাও। কাল কি ? আজ—এই দণ্ডে—এখখনি। এস।” বাসার অন্য সকলেও যথেস্ট উত্তেজিত হইয়া উঠিয়াছিল। তাহার সমবেত হইয়া ক্ৰোধে রামনিধির শয়নকক্ষ অভিমুখে অগ্রসর হইল। ভট্টাচাৰ্য্য মহাশয়ও উঠিলেন: বলিলেন, “শোন শোন। আস্তে আস্তে ভাল কথায় বিদায় করে দাও ; খবদার যেন গারে হাত তুলো না।”—পলিসকোর্ট এবং উকীলের ভয়াবহ মাত্তি বিভীষিকার ন্যায় ভট্টাচায্যের মনে ছায়া বিস্তার করিতেছিল । শরংবাব বলিলেন, “ভটচায মশায় ঠিক বলেছেন। দৈহিক বলপ্রয়োগ করাটা হিন্দধন্মের বিরখে।" সাত আটজনে চটিজ তার চটপটধননি করিতে করিতে রামনিধির ববের নিকট উপস্থিত হইল। কেহ রামনিধিবাবা-কেহ রামনিধি—বলিয়া চীৎকার করিতে লাগিল । কেহ শিকলটা ধরিয়া কম ঝম করিতে লাগিল, কেহ কবার্টের উপর দমাদম করিয়া কিল মারিতে লাগিল। রামনিধিবাব উঠিয়া দরজা খলিয়া বলিলেন, “ব্যাপার কি ? ডাকাতি করবেন নাকি ?” শচীন্দ্ৰবাব বললেন, “ডাকাতি আমরা করি, না তুমি কর ? ধোপার ছেলে হয়ে নিজেকে কায়স্থ বলে পরিচয় দিয়ে, আমাদের সকলের জাতিনাশ করেছ। বেরোও এই দণ্ডে বাসা থেকে ৷” রামনিধি রাগিয়া বলিল, “মখে সামলে কথা কবেন। ভদ্রলোককে অপমান করবেন না।” শরৎবাব বলিলেন, "ধোপা ভদ্রলোক হল কবে থেকে ?” কাত্তিকবাক বলিলেন, “ও সব বাগবিতণ্ডা নিষ্ফল। আপনাকে দশ মিনিট সময় দিচ্ছি। এরই মধ্যে আমাদের বাসা থেকে বেরিয়ে যান। নইলে বলপ্রয়োগ করতে আমরা বাধ্য হব।” ইহা শুনিয়া অন্যান্য ছেলেরা আস্তিন গটাইয়া ব্যক চিতাইয়া উচ্চ হইয়া দাঁড়াইল । রামনিধি বলিল, “আর, আমার জিনিষপত্তর ?” “কাল কোন সময়ে এসে নিয়ে যাবেন। দরজায় ডবল তালা বন্ধ করে যান ।” রামনিধিবাধ দেখিলেন জোর করা নিম্ফল। ইহারা দলবদ্ধ ও দঢ়সঙ্কল্প। বলিলেন, “আচ্ছা—আমার জিনিষপত্রগুলো ঠিক করে নিই।” বলিয়া তিনি বাক্স পেটরা খলিয়া নিজের টাকাকড়িগলি বাহির করিয়া পকেটে লইলেন। একটি হ্যাণ্ডব্যাগে দুইখানি বস্তু, চিরণেী, বরষ তোয়ালে প্রভৃতি ভরিয়া sাইলেন। কাত্তিকবাব ঘড়ি খলিয়া দশ মিনিট গণনা করিতেছিলেন। রামনিধি বাহির হইয়া, দরজায় তালা বন্ধ করিলেন। সিড়ি দিয়া নামিবার সময়, হঠাৎ ফিরিয়া দড়িাইয়া বলিলেন, “শীঘ্রই এর ফলভোগ আপনাদের করতে হবে। আমি চললাম থানায়—আপনাদের নামে নালিশ করতে। আপনারা আমার মানহানি করেছেন, এখন শতে যাবেন না-প্রস্তুত হয়ে থাকুন। এখনই গেরেপ্তারি ওয়ারেন্ট আসবে। এ মোকদ্দমায় আপনাদের প্রত্যেককে আর ঐ বদমায়েস ভটচাষিকে জেলে পাঠাব।”—বলিয়া রাগে গর গর করিতে করিতে রামনিধিবাব নামিয়া গেলেন। কিঞ্চিং দরে দাঁড়াইয়া ভট্টাচাৰ্য্য মহাশয় এ দশ্য দেখিতেছিলেন। ছাত্রেরা তাঁহার কাছে গিয়া দেখিল, ব্রাহ্মণ ঠক ঠক করিয়া কাঁপিতেছেন। তিনি বললেন, “গেল নাকি পালায় ?” কাত্তিকবাব বললেন, శ్యా-తా কিসের ?”—বলিতে বলিতে সকলে ভট্টাচাৰ্য্য