পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“আজ এসেছিল। জিনিসপত্তর নিয়ে গেল। সে খাটান হচ্ছে।” “অ্যাঁ! খন্টােন হবে? বল কি!" 莎 “হ্যাঁ। সাহেবী পোষাক ধরেচে। খাটানদের হোটেলে আছে। শীঘ্রই খন্টান হবে। ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ ৷ ভট্টাচায্যের দৌত্য কল্যাণপুর গ্রামখানি ক্ষুদ্র। গ্রামের অধিবাসীগণ অধিকাংশই তথাকথিত নীচজাতীয়, দই চার ঘর ব্রাহ্মণ কায়স্থও আছে। রামনিধিবাবর পিতা রাধানাথ দাস, এই গ্রামখানি ও পাশ্ববত্তী গ্রাম নীলামে খরিদ করিয়াছিলেন। গ্রামের মধ্যভাগে জমিদারী কাছারী ও রামনিধিবাবর বাসভবন। বেলা একপ্রহর অতীত হইয়াছে। কাছারীবাড়ীতে বসিয়া নায়েব গোবিন্দ সরকার একটি ক্ষুদ্র কাঠের বাক্স সম্মখে রাখিয়া হিসাবপত্র পরীক্ষা করিতেছিলেন। তাঁহার আশে পাশে বসিয়া কয়েকজন মহারা জমা-ওয়াশীলবাকী, সমার প্রভৃতি প্রস্তুত করিতেছিল। অন্তঃপরের একজন ঝি কাছারীর সম্মুখ দিয়া যাইতেছে দেখিয়া গোবিন্দ সরকার তাহাকে ডাকিলেন । বলিলেন, "ঝি একবার গিন্নীমার সঙ্গে দেখা করব, কলকাতা থেকে ছোটবাব বড় জরুরী চিঠি লিখেছেন।” ঝি অন্তঃপুরে সংবাদ দিল। কিয়ৎক্ষণ পরে গোবিন্দ সরকার একখানি খোলা চিঠি হাতে করিয়া বাড়ীর ভিতরে প্রবেশ করিলেন। - রামনিধি-জননী জিজ্ঞাসা করিলেন, “কি চিঠি এসেছে সরকার মশাই ? রামনিধি ভাল আছে ত ই ” “শারীরিক কুশলে আছেন। লিখেছেন হঠাৎ তাঁর কিছু টাকার প্রয়োজন হয়েছে। দহাজার টাকা চেয়ে পাঠিয়েছেন।” "দ হাজার টাকা : সে ক কুড়ি বাবা ?” সরকার মহাশয় মনে মনে হাস্য করিয়া বলিলেন, “দু'হাজার টাকা—সে অনেক কুড়ি। পাঁচ কুড়িতে হল একশো, পঞ্চাশ কুড়িতে হল হাজার, একশো কুড়িতে হল দুহাজার।” রামনিধি-জননী হিসাবটা ভাল হৃদয়ঙ্গম করিতে পারলেন না--তবে বুঝিলেন যে অনেকগুলি টাকা। বলিলেন, “এত টাকা নিয়ে কি করবে ?" - “তা ত কিছু লেখেন নি। শুধ বলেছেন টাকাটার বড়ই দরকার, শীঘ্রই পাঠিয়ে দিও। পবে যে বাসায় ছিলেন, সেখান থেকে উঠে গেছেন দেখছি—এ ঠিকানা নতুন।” —বলিয়া সরকার মহাশয় আদেশের প্রতীক্ষা করিতে লাগিলেন। রামনিধি-জননী একটা ভাবিয়া বলিলেন, “তবে দাও পাঠিয়ে।” গোবিন্দ সরকার কহিলেন, “লিখব কি, যে মাঠাকরণে জিজ্ঞাসা করছেন এত টাকার এখন কি প্রয়োজন ?" :* - জননী বলিলেন, “না না—দেরী করে কাজ নেই। এত টাকা যখন চেয়ে পাঠিয়েছে, তখন বাছার কোনও দায় বিপদ উপস্থিত হয়ে থাকবে। তারই ত টাকা। বড় ভাল ছেলে, তাই আমাদের মত জিজ্ঞাসা করে। আজই টাকা প্রাঠিয়ে দাও। আহা, আমার বাছার কি বিপদ হল ? হে মা কালীঘাটের কালী, আমার বাছাকে ভাল রেখ, নাইতে যেন মাথার কেশ না ছেড়ে, আমি তোমায় জোড়া পঠিা দিয়ে পজো দেব।” সেই দিনই দই হাজার টাকার নোট রেজেন্ট্রি করিয়া রামনিধিবাবকে পাঠান হইল। ইহার দই দিন পরে অপরাহুকালে, পৰবকথিত ভট্টাচাৰ্য মহাশয়, ভাংগা ছাতাটি মাথায় দিয়া হেলিতে দলিতে কাছারি বাড়ীতে উপস্থিত হইলেন। গোবিন্দ সরকার তাঁহাকে প্রণাম করিয়া কুশল জিজ্ঞাসা করিলেন। ভট্টাচাযৰ্গ মহাশয় বলিলেন, “আর কুশল । সম্প্রতি কলকাতায় গিয়েছিলাম, সেখানে বড়ই একটা দুঃসংবাদ শনে এলাম।” গোবিন্দ সরকার চকিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “কি ? কি ?” 498