পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ভট্টাচাৰ্য্য গম্ভীরভাবে বলিলেন, “তোমাদের বড়ই বিপদ উপস্থিত হয়েছে।” "কি হয়েছে, ব্যাপারখানা কি ? রামনিধিবাব ভাল আছেন ত? তাঁর সঙ্গে দেখা - ייל ! | হয়েছিল। সে ষে বাসায় থাকে, সেই বাসায় আমিও গিয়ে উঠেছিলাম। আহা, রাধনাথের ছেলেটিকে আমরা বরাবরই অতি সৎ ছোকরা বলে জানতাম। যেমন বিনয়, তেমনি দেবতা ব্রাহ্মণে ভক্তি। তার যে এমন কুবন্ধি হবে কে জানত? অদটের ফের, অদটের ফের !" ইহা শনিয়া গোবিন্দ সরকার বড়ই উবিন হইয়া উঠিলেন। বলিলেন, "কি হয়েছে দাদাঠাকুর খালেই বলন না।” ভট্টাচাৰ্য" বলিলেন, “বলব বলেই ত এসেছি। তোমাদের গিন্নীকে একবার খবর দাও।” Y সরকার মহাশয় অন্তঃপুরে সংবাদ পাঠাইলেন। কিয়ৎক্ষণ পরে ভট্টাচাযৰ্ণ মহাশয়ের আহান হইল। ভট্টাচায অতঃপরে প্রবেশ করিয়া অঙ্গনে দণ্ডায়মান হইলেন। রামনিধি-জননী তাঁহাকে ভূমিষ্ঠ হইয়া প্ৰণিপাত করিলেন। বারান্দায় তাঁহার জন্য একখানি গালিচা বিছানো ছিল, তাহাতে তিনি বসিলেন না। বলিলেন, “বড় সুখের কথা ত বলতে আসিনি, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই বলে যাই। সম্প্রতি কলকাতায় গিয়েছিলাম, তোমাদের রামনিধিকে দেখে এলাম।” শঙ্কিত হইয়া রামনিধি-জননী জিজ্ঞাসা করিলেন, “বাবা কি কথা বলতে এসেছ ? আমার রামনিধি ভাল আছে ত ?" “শরীর গতিক ভাল আছে বটে। কিন্তু হায় হায়—এমনটাই হল কেন ?” ইহা শনিয়া রামনিধি-জননী আরও সন্ত্রস্ত হইয়া উঠিলেন। বলিলেন, “কি বাবা, কি হয়েছে ?” ভট্টাচায্য তখন গম্ভীরভাবে আরম্ভ করিলেন—"ধোপাবউ, তোমরা ত কার: পরামর্শ শোন না, নিজের মতেই কাজ কর। যে সময় রাধানাথ বড়লোক হল, বিষয়টি পেলে, সে সময় আমরা সকলেই বললাম, আহা, রাধানাথ লোকটি বড়ই ভাল ছিল, দেবতা রাহ্মণে বড়ই ভক্তি রাখত, দেবতা ব্রাহ্মণের আশীববাদেই তার ভাল হল। মা লক্ষী কৃপা করলেন, আর তোমরা দেমাকে চোকে কাণে দেখতে পেলে না। হাজারই বড়লোক হও, তোমরা সেই ধোপা ত বটে! তা তোমাদের ছেলেকে ইংরেজি লেখাপড়া শেখাবার জন্যে কলকাতা পাঠাবার কি দরকার ছিল ? এটো পাত কখনও সবগে যায় ? বেশ ত, যেমন দ পয়সা হল, গ্রামের পাঠশালে যৎকিঞ্চিৎ বাঙ্গলা লেখাপড়া শিখে নিজের বিষয় কায্যে মন দিতে হয়। তা তোমরা গোঁ ধরলে, ছেলেকে ইংরেজি লেখাপড়া শেখাবে, ছেলে বাব হবে। এখন তোমাদের রামনিধি কি করছে জান ? খাটনি হচ্চে—খাষ্টান శా শনিয়া রামনিধি-জননী কাঁপিতে কপিতে বসিয়া পড়িলেন। বলিলেন, “আী বাবা! খন্টান হয়েছে ? ও মা, কি সব্বনাশ হল গো !" ভট্টাচাৰ্য্য বলিলেন, “এখনও হয়নি। হবে, হবে। আগে যে বাসায় ছিল, সে বাসা ছেড়ে চলে গেছে। খন্টানদের হোটেলে আছে। কোট প্যান্টালনে ধরেছে, মাথায় ধচনীর মত একটা টপী পরেছে—ঠিক সাহেবের মত। মাখে কেবল গ্যাট, ম্যাট ড্যাম ফল —ইরিজি ছাড়া আর বাংগলা বলে না। আরও গজেব শনে এলাম, খন্টন হয়েই একটি মেম বিয়ে করবে।” রামনিধি-জননী অধীর হইয়া বলিলেন, “তবে আমাদের কি হবে বাবা ?” “হবে আর কি! সে মেম এসে বলবে, এইও বড়চী হারামজাদি –নিকাল হিয়াসে —বলে গলা টিপে তোমাদের সব.বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেবে।” রামনিধি জননী কাঁদিতে লাগিলেন। তুললেন “বাবা, আমরা ছোট নোক—আমাদের