পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জ্ঞান বন্ধি কিছু নেই বাবা—তুমি আমাদের একটা সৎপরামর্শ দাও। কি করলে এ বিপদ থেকে উদ্ধার হই তার তুমি উপায় কর বাবা!”—বলিয়া রামনিধি জননী ভট্টাচাৰ্য্য মহাশয়ের পা জড়াইয়া কাঁদিতে লাগিলেন । ভট্টাচাৰ্য্য বলিলেন, "কেন্দ না-কে’দে আর কি হবে ? তোমরা সকলে আজই রওনা হয়ে কলকাতায় গিয়ে পড়। যেখানে সে আছে, সেখানে গিয়ে কে’দে আছাড় খেয়ে পড় । এতেও যদি তার মনে দয়া হয় ! এমনই কি নরাধম পাষণ্ড হবে যে মায়ের চোখের জল দেখেও ক্ষান্ত হবে না র' রামনিধি-জননী বলিলেন, “তাই যাব বাবা--আজই আমরা যাব । সরকার মশাইকে নিয়ে আজই আমরা রওনা হয়ে যাই। বাবা, তুমি আশীব্বাদ কর যাতে আমার বাছার সন্মতি হয়।" - ভট্টাচাৰ্য" বলিলেন, “তা যাও। আমিও আশীব্বাদ করছি। আর. তোমার ছেলের কল্যাণে আমি নারায়ণকে তুলসী দেব এখন। নারায়ণের দয়া হলে সবই হতে পারে।" ভূল ঠিতা জননী উঠিয়া বলিলেন, “যাও বাবা, আমার বাছার কল্যাণে নারায়ণকে তুলসী দিও রোজ ! পুজোর খরচ দশটি টাকা নিয়ে যাও।” ভট্টাচায্য বলিলেন, “লা ধোপাবউ, রাখ রাখ টাকা রাখ। শদ্রের দক্ষিণা ত আমি গ্রহণ করিনে। আমি তোমার ছেলের কল্যাণে নারায়ণকে রোজ একশো-আট তুলসী এখন কিছুদিন দিতে থাকব।” ভট্টাচায্য মহাশয় "হরি হে দীনবন্ধ" বলিয প্রস্থান করিলেন। পথে যাইতে যাইতে নিজের মনে মনে বলিতে লাগিলেন "মাগলী পা জড়িয়ে ছয়ে দিলে, এখন আমি রামনিধির মা, মাসী, পিসী প্রভৃতি গোবিন্দ সরকারকে সঙ্গে লইয়া সেই রাত্রেই কলিকাতা যাত্রা করিলেন । সপ্তম পরিচ্ছেদ ॥ ডাকৰাঙ্গলায় অপরাহুকাল। বঙ্গোপসাগরবক্ষে "হিরন্ময়ী" নামক জাহাজখানি ছয়টিতেছে। অস্তগামী সংয্যের বর্ণীকরণ সমুদ্রের সনীসজলে পতিত হইয়া ঝলমল করিতেছে। জাহাজখানি কলিকাতা হইতে আসিয়াছে, শত শত পরোযাত্রী লইয়া চাদবালাঁ যাইতেছে। চাঁদবালী পে'ছিতে আর অধিক বিলব নাই। ঐ দরে অপটি শ্যামরেখাবৎ তীরভূমি দটিগোচর হইতেছে। জাহাজের প্রথম শ্রেণীর ডেকে, ক্যাবিশের আরাম-কেদারায় পড়িয়া রামনিধিবাব চিন্তামগম। তাঁহার অঙ্গে , ইংরাজি বেশ। , সেদিন প্রভাতে উঠিয়া খহটীয় যুবকসমিতির আশ্রমে বসিয়া চা পান করিতেছিলেন, এমন সময় ফটকের বাহিয়ে গাড়ীতে আবদ্ধ সীলোকের সকরণ কদনধনি উত্থিত হইল। উৎসকেচিত্তে উঠিয়া জানাল দিয়া দেখিলেন, গাড়ীর কোচবক্সে বসিয়া বাড়ীর গোমস্তা গোবিন্দ সরকার। ভিতরে তাঁহার মা, মাসী, পিসীর যুগপৎ আত্ত"বর-“ওরে বাবা রামনিধি—কি করলি রে ?” রামনিধি বাব কয়েক মহত্তকাল কৰ্ত্তব্যবিমুঢ় হইয়া দাঁড়াইয়া রহিলেন। শেষে বারবানকে হুকুম দিলেন, “উহাদের চলিয়া যাইতে বল, দেখা হইবে না।" ইহার পর দিনই পাদ্রাসাহেবের সহিত পরামর্শ করিয়া, রামনিধি কটক যাত্রা কারলেন। তখনও ওদিকে রেল খোলে নাই। পাদ্রীসাহেব বলিয়া দিয়াছিলেন--কটক নিবাপদ স্থান, সেখানে তোমার মা মাসী গিয়া হঠাৎ বিঘা জমাইতে পারবে না। অনুরোধ করিয়াছিলেন, কটকে পেপছিয়া যেন দীক্ষিত হইতে বিলব না করা হয়। ক্লমে জাহাজ তাঁরভূমির নিকটবত্তী হইল। ঢং ঢং করিয়া ঘণ্টাধানির সহিত জাহাজ নোঙর ফেলিল । లివ్రి