পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেখিতে দেখিতে তট হইতে কয়েকখানি বোট আসিয়া জাহাজের গায়ে লাগিল। যাত্রীগণ কোলাহল করিতে করিতে সিড়ি দিয়া সেই সকল বোটে অবতরণ করিল। এক প্রথম শ্রেণীর পান্সীতে রামনিধিবাব ও তিনজন ইংরাজ সাহেব নামিরা, তীরে উপনীত হইলেন । -- r :- - মহানদী-কেনাল দিয়া পরদিন প্রভাতে স্টীমার ছাড়িরা কটক যাইবে । ঘাটের নিকটেই চাদবালাঁর ডাকবাংগলা। সেইখানেই রাত্রিযাপন করিতে হইবে। রামনিধিবাব তিনজন সাহেবের পশ্চাৎ পশ্চাৎ ডাকবাগলায় গিয়া উপস্থিত হইলেন। সেখানে দেখা গেল দুইটি মাত্ৰ কামরা আছে, দুইটি মাত্র পালংক। দুইজন সাহেব এক ঘরে প্রবেশ করিলেন। অপর সাহেব অন্য কামরাটি দখল করিলেন। রামনিধিবাবও সেই কক্ষে প্রবেশ করিতে যাইতেছিলেন, কিন্তু সাহেব বাধা দিল। বলিল—“দেখিতেছ না, আমি এ ঘরে উঠিয়াছি আর পথান কোথায় ?” রামনিধি জ্বলিল, “কেন, অপর ঘরটিতেও ত দুইজন উঠিয়াছেন।" "এ ঘরে একটি মাত্র পালঙ্ক।" “ও ঘরেও তাই। আপনি সবচ্ছন্দে পালকে শয়ন করিতে পারেন, আমি মেঝেতে বিছানা পাতিয়া শইব এখন।" সাহেব রাগিয়া বলিলেন, “অসম্ভব। একজন নেটিভকে আমার ঘরে শইতে দিতে পারি না। ডাকবাংগলা সাহেবদের জন্য। নেটিভগণের জন্য বাজারে সরাই আছে, আপনি সেইখানে যাইতে পারেন।" রামনিধিবাব এতক্ষণ বিনয়ের সহিত কথাবাত্ত কহিতেছিলেন। সাহেবের এই ঔদ্ধত্য দেখিয়া, তিনিও ঔদ্ধত্য অবলম্বন করিলেন। বলিলেন, “মহাশর, আপনি কি মনে করেন এই পৃথিবীটা সাহেবদের জন্যই সন্ট হইয়াছিল ? নেটিভগণের কোথাও কি স্থান নাই ? এ ডাকবাংগলা গভর্ণমেণ্ট সাধারণের জন্য নিম্নমাণ করিয়া দিয়াছেন, বিশেব করিয়া সাহেবদের জন্যই নহে। আমি জোর করিয়া থাকিব।” ইহা শনিয়া সাহেব চক্ষ রক্তবর্ণ করিয়া ধকে চিতাইয়া হট মটু করিয়া বারান্দা প্রান্তে গিয়া, “বোই” “বোই” “খানসামা” বলিযা চীৎকার করিতে লাগিল। “হুজুর” বলিয়া খানসামা ছটিয়া আসিয়া দাঁড়াইল। সাহেব বলিল, “খানসামা, ইয়ে বাবকে নিকাল দেও। সাহেবলোগকা ডাকবাংগলামে বাবাকো কাহে আনে দিয়া ?” খানসামা বলিল, “হাজার, বাবলেগকো ভি আনেক হুকুম হয়।" সাহেব সপ্তমে চডিয়া বলিলেন, “ইউ ড্যাম শয়ারকা বাচ্ছা! কাঁহা তুমরা রলেস, লে অাও।” " খানসীমা বলিল, "সাহেব, আমি মুসলমান। আমাকে শয়ারকা বাচ্ছা বলিও না। ঘরে ঐ রল টাংগানো আছে দেখ গিয়া।" সাহেব গিয়া মাদ্রিত নিয়মাবলী পাঠ করিল। তাহাতে লেখা আছে, পথিক ভদ্রলোকগণ আসিয়া চব্বিশ ঘণ্টার জন্য আশ্রয় দাবী করিতে পারেন। শাদা কালার কোনও প্রভেদ উল্লিখিত নাই। এক ঘরে একাধিক ব্যক্তি থাকিবে না, এমনও কোন নিয়ম নাই। বরং লেখা আছে, এক ঘরে যতজন থাকিবে, প্রত্যেককেই দৈনিক এক টাকা করিয়া ভাড়া দিতে হইবে। - সাহেব বারান্দায় আসিয়া বলিলেন, “অলরাইট। হামারা, সামান ভি উস কামরামে লে চলো।—বলিয়া তিনি অপর কক্ষে প্রবেশ করিলেন। তাঁহার ভূত্য তাঁথার জিনিষ । পত্রগুলি বাহির করিয়া লইয়া গেল। রামনিধিবাব তখন সেই কক্ষে প্রবেশ করিয়া, নিজ একাধিপত্য বিতরি করিলেন। খানসামা বলিল, “হজর, কি বলব ইংরাজের রাজত্ব। যদি আজ দিল্লীর রাদশারা থাকতেন, ত বেটার টটি ছিড়ে ফেলতাম। মসলমানকে শয়ারকা বাচ্ছ বলেও আজ পার পেয়ে গেল। কি করব হজের আফু সেন বানাপ" q