পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তথায় পেপছিয়া, ডাকবাংগলায় উঠিলেন। কটক সহরটি সুন্দর। যে নগবে নদী নাই, সে নগর সমন্ধ হইলেও শ্রীহীন। কটকে দুই দুই নদী। উত্তর সীমা দিয়া মহানদী, দক্ষিণ দিয়া কাটজড়ী বহিয়া গিয়াছে। কলিকাতার পাদ্রীসাহেবের নিকট হইতে কটকের পাদ্রীসাহেব ও কয়েকজন মানাগণ্য দেশীয় খাটনি ভদ্রলোকের নামে রামনিধিবাব পরিচয়পত্র আনয়ন করিয়াছিলেন। প্রথমেই পাদ্রীসাহেবের সহিত সাক্ষাৎ করিতে গেলেন । সাধারণ শিল্টাচারের পর পাদুীসাহেব জিজ্ঞাসা করিলেন, “আপনি কবে দীক্ষিত হইতে বাসনা করেন ?” রামনিধি বলিলেন, “খাল্টীয় ধৰ্ম্মশাস্ত্র অধ্যয়ন করিতেছি । আর একটা অগ্রসর হইলেই খাটধমের সার সত্য হৃদয়ংগম করিতে পারলেই, দীক্ষা গ্রহণ করিবার ইচ্ছা পড়াসাহেব বললেন, ইহা উত্তম পরামর্শ। আপনাদের দেশের অনেকেই খাটধৰ্ম্ম" কি পদাৰ্থ না বুঝিয়া সঝিয়াই দীক্ষা গ্রহণ করেন—তাহা ভাল নয়। বোধ হয় ইহার জন্য তাঁহাদের অপেক্ষা আমরাই অধিক দোষী। আমরা মনে করি, লোকটাকে একবার দীক্ষিত করিয়া ফেলিতে পারিলে আর পলাইবে কোথা ? কিন্তু ইহা বড় ভুল। ধাম, ঔষধ নহে যে ধরিয়া বধিয়া গিলাইয়া দিলেই উপকার। তা ছাড়া, মানুষ বিচারবন্ধিসম্পন্ন জীব। নিজের বিচারবুদ্ধির অনুসারে সে যাহা না করিল, সে করার মতুল্য কি ? আমরা ব্যাপ্টিস্ট সম্প্রদায়ভুক্ত। অন্যান্য প্রটেক্সট্যাটগণের সহিত আমাদের প্রভেদ এই যে, BBB GttB DBBB BBB BBB BBBBS BBBBB BB BBB BBBB BBB BB স্নান করাইয়া দীক্ষিত করিয়া আনেন। আমরা তাহা করি না। আমাদের পত্র কন্যাদের পনেরো ষোল বছর বয়স হইলে, তাহারা ষখন নিজের জ্ঞান বুঝিতে খন্টধমের সত্যতা উপলবিধ করিতে সমর্থ হয়, তখনই তাহদের দীক্ষাকায" সম্পন্ন করি।” ধৰ্ম্মম সম্বন্ধে কিয়ৎক্ষণ আলোচনা করিয়া রামনিধিবাব বিদায়গ্রহণ করিলেন। বিকালে শ্ৰীযক্ত শ্যামাচরণ মহান্তি মহাশয়ের সহিত সাক্ষাৎ করিতে গেলেন। মহাতি মহাশয় উড়িষ্যাবাসী—কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাধিধারী। বিলাত হইতেই একটি য়রোপীয় মহিলার পাণিগ্রহণ করিয়া আনিয়াছিলেন। ইনি কটক কলেজে বহন বৎসর হইতে অধ্যাপকের কায্য করিতেছেন । ইহার দুই পর, একটি কন্যা। জ্যেষ্ঠ পত্রটি বিলাতে শিক্ষালাভ করিতেছেন। কনিষ্ঠটি কটক-কলেজের ছাত্র—বয়ঃক্ৰম চতুর্দশ বৎসর। কন্যাটি অন্টাদশ বর্ষীয়া—নাম থিওডোরা (ঈশ্বরের দান)--কিন্তু সকলে তাঁহাকে ডোরা বলিয়াই ডাকে। মহাতি পরিবার অতি সমাদরের সহিত রামনিধিবাবর অভ্যর্থনা করিলেন। ইহারা ইংরাজি ভাষাতেই সর্বদা কথোপকথন করিতেন। গহিণী বলিলেন, “আপনাকে আমরা বড় সসময়ে পাইলাম। শীঘ্রই আমাদের পরিবারে একটি শুভকম সম্পন্ন হইবে। দশ দিন পরে আমার কন্যা ডোরার বিবাহ।” কুমারী ডোরা সেখানে বসিয়াছিলেন। বিবাহের কথায় তাঁহার সমকোমল গড়িপথল রক্তাভ হইয়া উঠিল । - রামনিধি বললেন, “বেশ-বেশ। সসংবাদ। আমার সৌভাগ্য যে আমি এমন আনন্দ-উৎসবের সময় আসিয়া পড়িয়াছি। কুমারী মহান্তিকে অভিনন্দন করিতেছি। সেই সখী মনুষ্যটি কে - “ মিসেস মহান্তি বলিলেন, ‘তাঁহাকে শীঘ্রই দেখিতে পাইবেন । তাঁহার নাম ডাক্তার কৃষ্ণস্বামী—মাদ্রাজ প্রদেশের সিভিল সাতজন। তিনি বাস্থ্যলাভের জনা ছয় মাস ছয়টি লইয়া কটকে আসিয়া বাস করিতেছিলেন। তাঁহার ছুটি ফরাইয়া আসিল—তাই তিনি আমার কন্যাটিকে কাড়িয়া লইবার জন্য ব্যগ্র হইয়াছেন।” রামনিধিবাব হাসিতে হাসিতে ঝুলন "বড় অন্যায় ত! তাঁহার এ অপরাধ