পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৬৩৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পল নতশিরে বলিল, “তা ত জানি না।" রামনিধি বলিলেন, “আচ্ছা পল, যদি কোনও দেশীয় খাটান, র্যাঙ্কেন কিবা হ্যারি কাকের বাড়ীর পোষাক পরিয়া মরে, তাহা হইলেও কি এখানে তাহার প্রবেশ নিষিদ্ধ ?” —রামনিধির সবর তিক্ততাপণ। পল কিছই বলিল না, অবনত মুস্তকে রামনিধির সঙ্গে,চলিল। য়রোপীয় গোরস্থান হইতে বাহির হইয়া দুইজনে দেশীয়দিগের গোরস্থানে প্রবেশ করিলেন। ইহার প্রাচীর জরাজীর্ণ। বষে বষে বর্ষার জলে সিমেণ্ট ধইয়া ধাইয়া ইলটকের মাঝে মাঝে ফাঁক হইয়া গিয়াছে। পথানে থানে ভগ্ন। সখানে পথানে প্রাচীরের গাত ভেদ করিয়া ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বট ও অশ্বখ ব্যক্ষ বাহির হইয়াছে। বারে বারবান নাই । ফটক অন্ধ ভগন-গোর ছাগলের অবাধ গতি । মালী নাই—কোথাও জনপ্রাণী নাই। সবত্র আগাছার, কটি গাছের জঙ্গল। পরাতন আগাছা শাক হইয়া ভাগিয়া পড়িয়াছে, তাহার পাশে নতেন আগাছা জন্মগ্রহণ করিয়াছে। ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত গো-ছাগলের শতক বিষ্ঠা, আগাছাগলির সারের কায্য করিতেছে। এক স্থানে একটা মত বিড়াল পড়িয়া রহিয়াছে। ফলগাছের মধ্যে এখানে ওখানে কেবল কতকগুলি শেয়ালকাঁটার গাছ দেখা গেল । সমাধিগুলির অবস্থাও তদুপ। অধিকাংশই কাঁচা-খানিকটা মাটির ঢিবি। কাহার সমাধি নিণয় করিবার কোনও উপায় নাই। ইহার অপেক্ষা একটা উচ্চদরের গলি ইটে গাঁথা। শিরোভাবে প্রোথিত কেরোসিন তৈলের বাক্সভাল্গা কাঠে, আলকাৎরার অক্ষরে সমাধিথের নাম ধাম লেখা আছে। মাত্র গটি দশ বারো সমাধি আছে যাহা একটা ভাল করিয়া নিমিত। তাহার মধ্যে দুইটি দুইজন ইংরেজ পাদ্রীর। রামনিধিবাব ভাবিতে লাগিলেন দেশীয়গণের সহিত এত মাখামাখি করার অপরাধে এই দুই পাদ্রীর প্রেতাত্মারা সম্ভবতঃ য়রোপীয় পরলোকে জাতিচ্যুত হইয়াছে। দেশীয় খন্টানদের সমাধি-লিপিতে নাম অধিকাংশই বিদেশী—যথা এলিজাবেথ চকুবত্তী—জন ইজিকিয়েল মহাপাত্ৰ—ইত্যাদি। রামনিধি ঘুরিতে ঘুরিতে দুইটি সমাধি দেখিতে পাইলেন, যাহাতে দেশীয় নামই বজায় রাখা হইয়াছে। একটিতে লেখা আছে— IN MEMORY OF COOMARI SUSHI MUKHI অপরটিতে রহিয়াছে— IN LOVING MEMORY OF OUR SWEET LITTLE INDIRA রামনিধি মনে মনে বললেন, "তব ভাল—তব্য ভাল—সবদেশীয় নামটা যে তোমরা বজায় রাখিয়াছ সেও ভাল।”—ভাবাবেগে রামনিধিৰাবরে চক্ষে জল আসিতে লাগিল। পল বলিল, “চলন মিস্টার দাস, রৌদ্র বাড়িয়া উঠিল।” রামনিধি বলিলেন, “ভাই, আমি মিটার দাস নহি। আমি রামনিধিবাব; ” দইজনে বাহির হইলেন। রামনিধিবাব অগ্রে অগ্রে, পল পশ্চাতে। ফটক পার হইবার সময় হঠাৎ পশ্চাৎ ফিরিয়া রামনিধিবাব বললেন, “দেখ পল, মৃত্যুর পরেও ইহারা শাদা কালোর পাথক্য ভুলিতে পারে নাই। যীশ খণ্টে যদি আজ সহসা পথিবীতে অবতীর্ণ হন, তাহা হইলে নিজ শিষ্যগণের আচরণ দেখিয়া, লড়জায় অধোবদন হইয়া সবগ রাজ্যে ফিরিয়া যান।” পল নিবাক হইয়া রামনিধিবাবর সঙ্গে চলিল। বাড়ী ফিরিয়া রামনিধিবাব দেখিলেন བཱནྡྷ་ ‘নামে কয়েকখানি পত্র আসিয়াছে।’